
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ একবার থানা, একবার পুরসভা, একবার বিদ্যুৎ দফতর তো একবার ফায়ার ব্রিগেডের অফিস ঘুরে ঘুরে পুজোর অনুমোদন নেওয়ার দিন শেষ। রাজ্য সরকারের দৌলতে এবআর ঘরে বসেই পুজোর অনুমোদনের আবেদন জমা দিতে পারবেন পুজো উদ্যোক্তারা। গত বছর রাজ্য সরকার এক জানালা পরিষেবা (SINGLE WINDOW) দিতে ‘আসান’ (AASAN) ওয়েবসাইট চালু করেছিল। ১২-১৩ টি জেলা পরীক্ষামূলকভাবে সেই ওয়েবসাইটে আবেদন করেছিল, বাদ ছিল মুর্শিদাবাদের মতো কিছু জেলা। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পুজোর আবেদন জমা দিতে প্রস্তুত এবার মুর্শিদাবাদও। সেপ্টেম্বর মাসের ১৮ তারিখ পর্যন্ত পুজো কমিটিগুলি আবেদন জানাতে পারবেন।
শুক্রবার বহরমপুর রবীন্দ্রসদনে বহরমপুরের মহকুমা শাসক, বিডিও ও মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার, দুই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বহরমপুর থানার আইসি সহ প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান স্বরূপ সাহা। সেখানে ওয়েবসাইটে কীভাবে আবেদন করতে হবে বিষদে তা নিয়ে আলোচনা করা হয় বলে জানান বহরমপুরের মহকুমা শাসক শুভঙ্কর সরকার। বিটি কলেজ বটতলা ভট্টাচার্য পাড়া পুজো কমিটির পক্ষে সুজয় সরকার বলেন ” খুব ভাল আলোচনা হয়েছে। ছুটোছুটি করতে হবে না। ঘরে বসেই পুজোর আবেদন করা যাবে।” একইসঙ্গে পুজো কমিটির ওই কার্যকর্তা বলেন, ” প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।”

গত বছর বহরমপুর পুর এলাকায় ৫৭০ টির কাছাকাছি পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানান মহকুমা শাসক। পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ বলেন ” জেলায় গত বছর ২৩০২ টি কমিটিকে পুজো অনুদান দেওয়া হয়েছিল। এবছরও ওইরকমই থাকবে। বাড়তি যা হবে তা জনিয়ে দেওয়া হবে।” পুজো কমিটির সঙ্গে বৈঠকের আগে জেলা ও সাধারণ প্রশাসন নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছে। যানজট ছাড়াই পুজো ভালভাবে সম্পন্ন হবে বলে এদিন পুলিশ সুপার পুজো কমিটিগুলিকে আশ্বস্ত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকেও পুলিশ প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান করেছেন।
তবে পুজো কমিটিগুলির বিরুদ্ধে রাতভর মাইক বাজানোর অভিযোগ ওঠে। মহকুমা শাসক শুভঙ্কর রায় বলেন, ” অভিযোগ এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একইসঙ্গে রাস্তা দখল করে লাগানো হয় বিজ্ঞাপণ তোরণ। যার জেরে ছোট হয়ে যায় রাস্তা। যানজটে আটকে নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। মহকুমা শাসক বলেন, ” বিষয়টি আমরা আলোচনা করেছি। পুরসভার সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। সাধারণ মানুষের অসুবিধা করে কিছু না করতে পুজো কমিটিগুলিকেও বলা হয়েছে।”