
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ সবে দিন কয়েক টানা বৃষ্টি হয়েছে। তখনও ভাসেনি রাঢ় অঞ্চল। তখনই ১৫ টাকা কেজি দরের আলু স্বর্ণময়ীর বাজারে ২০ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন বিক্রেতারা। প্রশ্ন করলে শুনতে হয়েছে “ খবর নিন বান এসেছে। ডুবে গিয়েছে সব।” তার অনেক পরে অবশ্য বানের জলে ভেসে গিয়েছে ধানের জমি। আনাজের ক্ষতি হয়েছে।
খুচরো বাজারে এখন পটল ৫০টাকা কেজি। টমেটো প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ঢেঁড়শ একশোর কাছাকাছি, আলু এখন গুণমান অনুযায়ী কেজি প্রতি বিকোচ্ছে বিশ থেকে পঁচিশে। পাইকারি বাজারে শুক্রবার সকালে একবস্তা আলু সাড়ে ছ’শো থেকে আটশো কুড়ির মধ্যে বিক্রি হয়েছে বলে জানান পাইকারি আলু বিক্রেতা নির্মল ভকত। জ্যোতি, পোখরাজ, চাপাডাঙা, চন্দ্রমুখী এই চার ধরনের আলুর মধ্যে পোখরাজের দাম কম। চাপাডাঙার বাজার চড়া। বহরমপুরের মহকুমাশাসক শুভঙ্কর রায় বলেন, “দাম গত বছরের তুলনায় কম।”
পাইকারি বাজারের থেকে খুচরো বাজারের দামের ফারাক কিঞ্চিত বেশি। অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দেয়। আর তা নিয়ে বাজার আক্কাড়া বলে সজোরে সরব ক্রেতারাও। সেই সময় ফের সক্রিয় হল টাস্ক ফোর্স।

কালো বাজারির দাবি কতটা ঠিক কতটা বেঠিক তা খতিয়ে দেখতে মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে নতুনবাজার এলাকার পাইকারি বাজারে শুক্রবার সকালে ঢুঁ মারে টাস্ক ফোর্স। কথা বলেন বিক্রেতাদের সঙ্গে, প্রয়োজনীয় নোট ও নিয়েছেন তাঁরা। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহকুমা শাসক বললেন “ সব জায়গার বাজারেই যাওয়া হবে। দামের হেরফের কতটা তাও দেখা হবে। যদিও গতবছরের থেকে দাম একটু কম আছে।” গত বছরও টাস্ক ফোর্স বিভিন্ন বাজারে হানা দেওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণে ছিল বহরমপুরে, দাবি গোরাবাজারের বাসিন্দা সুজয় ঘটকের।
শুধু কালোবাজারি নয় টাস্ক ফোর্স খোঁজ নিয়েছে আনাজের গুণগত মানেরও, জানান মহকুমাশাসক। এই নজরদারি চললে আনাজের কালোবাজারি রোখা যাবে বলে দাবি করেন স্বর্ণময়ীর বাসিন্দা বিমলেন্দু চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “চালের দাম এবার বাড়বে। সে কথা মাথায় রেখে চাল বিক্রেতারা একটাকা দুটাকা করে দাম বাড়িয়ে রাখছে। প্রশাসন সে দিকে নজর দিলে ভাল হয়।প্রশাসন সক্রিয় হলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পায়।”