
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ মোশারফ হোসেন ওরফে মধু নয়, মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদে মেন্টর পদে ফিরলেন মহম্মদ সোহরাব ও প্রাক্তন বিধায়ক শাওনি সিংহরায়। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর থেকে জেলাশাসকের কাছে আসা নির্দেশে এমনটাই জানানো হয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আড়াই বছর পরে পরামর্শ দাতার শূন্য পদ পূরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। ২০২৩ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর তৃণমূল জেলা পরিষদ জিতলেও এই দুটি পদে কাদের বসানো হবে তাই নিয়ে ধন্দে ছিল তৃণমূল। সেই ধন্দে আটকে গিয়েছিল প্রশাসনও। অবশেষে দলের সর্বস্তরে আলোচনা সাপেক্ষে নেতাদের স্বপদে ফেরানো হল বলে দাবি তৃণমূলের।
জেলা পরিষদে কংগ্রেসের সদস্য তৌহিদুর রহমান ওরফে সুমন বলেন, “এখন যারা জেলা পরিষদের দায়িত্বে আছে তারা অযোগ্য, সরকার তা প্রমাণ করে দিল জেলা পরিষদে মেন্টর এবং কো-মেন্টর নিয়োগ করার মাধ্যমে।” তাঁর মতে ” এমনিতেই মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ কাজের নিরিখে গোটা রাজ্যের মধ্যে পিছিয়ে, জেলার উন্নয়ন থমকে আছে আর নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা সম্পন্ন করতে পারেনি তাই জেলা পরিষদ থেকে ২৩৭ কোটি টাকা ফেরত চলে যাচ্ছে। এবার মেন্টর নিয়োগ হল যাতে ভাগ বাটোয়ারার কাজটা সুষ্ঠভাবে করা যায়।”
তবে মেন্টর ও কো-মেন্টররা স্বপদে জেলা পরিষদে ফেরায় ভ্রূ কুঁচকেছেন দলের একাংশ। আর এক অংশের মত ” ওই দুটি পদ আসনে ভারি হলেও জেলা পরিষদে সভাধিপতিই শেষ কথা।” কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলের ফেরার সময় জেলায় রটে গিয়েছিল জেলা পরিষদের মেন্টর পদের শর্তেই ঘরে ফিরেছেন জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মন্ডল ওরফে মধু। এদিন তাঁর নাম মেন্টর পদে অবশ্য ঘোষণা হয়নি। মধুও বলেন, “এমন কোনও শর্তের কথা আমি বলেছি বলে মনে হয় না। কে বা কারা রটিয়ে দেয়, তার দায় কি আমার?” বহরমপুর সংগঠনের সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, ” আমার দায়িত্ব যতদিন জেলায় দল থাকবে ততদিন অন্য দলের নেতারা ঘাসফুলে ভিড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। পদ পাওয়ার বিনিময়ে নয়। মধুও দলে এসেছেন দলকে ভালবেসে। পদের শর্তে নয় বলেই আমি জানি।” পুরনো মেন্টরদের স্বপদে বসানোর দায় বরাবরের মতো রাজ্যের ঘাড়ে চাপিয়ে ডেভিড বলেন, ” এটা আমার আওতার বাইরে।”
২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রার্থী হওয়ায় জেলা পরিষদের কো-মেন্টর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন শাওনি। পরে ভোটে হেরে যান কংগ্রেসের প্রাক্তন এই বিধায়ক। দল তাঁকে রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য করেছিল। তেমনি হারলেও মুর্শিদাবাদ বিধানসভার চেয়ারম্যান করে ঘর গোছানোর সুযোগ দিয়েছিল দল। ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ আসন জেতে তৃণমুল। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। মুর্শিদাবাদ বিধানসভা আসনে এবার তৃণমূলের দাবিদার দু’জন। একজন পুরসভার চেয়ারম্যান ইন্দ্রজিৎ ধর আর একজন অবশ্যই শাওনি। নির্বাচনের আর দেরি মাত্র কয়েকমাস। নবাব নগরীতে জোর গুঞ্জন ইন্দ্রজিতই আগামী বিধানসভায় ঘাসফুলের প্রার্থী। তাই কি গাল ভরা পদে বসিয়ে ইন্দ্রজিতের রাস্তা পরিস্কার করে রাখল দল? শাওনি অবশ্য বলেন, ” দল আমার ওপর বিশ্বাস রাখায় আমি সম্মানিত।”
তবে প্রবীণ সোহারাবকে দ্বিতীয়বার মেন্টর পদে বসানোয় অবাক অনেকেই। জেলাপরিষদের এক তৃণমূল সদস্য বলেন, “৯০ বছরের বেনিফিট দিয়ে দল তাঁকে সম্মান জানাতে চাইছে বলেই হয়ত তাঁর নামটা বিবেচানায় রাখা হয়েছে।” আর একটা অংশ অবশ্য বলছেন, ” ২০১৬ সালে ওই প্রবীণ মানুষটি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে এসেছিলেন কোনও কিছু পাওয়ার আশায় নয়। এটাতো তারই পুরস্কার বলতে পারেন।”