
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ সিদ্ধিদাতা গণেশের পুজো বলতে একসময় বাঙালি পয়লা বৈশাখ কিংবা অক্ষয় তৃতীয়াকেই বুঝতো। মহারাষ্ট্রে বিখ্যাত গণপতি বা গণেশ পুজো। পশ্চিম ভারতের সেই হাওয়া এখন বইছে পূর্বাঞ্চলেও। বেশ কয়েকবছর ধরে কলকাতার পাশাপাশি জেলাতেতেও গণেশ পুজোর উৎসাহ, উদ্দীপনা বেড়েছে। বাদ নেই মুর্শিদাবাদের সদর শহর বহরমপুরও। সেই পুজো ঘিরে যেমন উৎসাহ তৈরি হয়েছে নতুন প্রজন্মের মধ্যে তেমনি পুজোকে ঘিরে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে।
শ্রাবণ মাস জুড়ে ভক্তদের মধ্যে ছিল শিবের মাথায় জল ঢালতে যাওয়ার অদম্য উৎসাহ। সেখানেও প্রত্যেক বছরের ভক্ত সংখ্যা আগের বছরকে ছাপিয়ে যায়। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি, দাবি পুরাতন কান্দি বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া দশকর্মা সামগ্রী বিক্রেতা বিজয় হালদারের। ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থীতে হয় গণেশ পুজো। সেই উপলক্ষে আজ বুধবার সকালে হয়েছে গণেশ পুজো। পুরনো কান্দি বাস স্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে একেবারে নেতাজি রোড, বিবিসেন রোডের ওপরেই বড় বড় পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। সবথেকে বেশি নজর কেড়েছে জজকোর্ট লাগোয়া দুটি গণেশ পুজো। এক রাস্তার দু-পাশে দুটি পুজো। দুটি পুজোই তৃণমূলের ছত্রছায়ায় আয়োজিত। একটির উদ্যোক্তা তৃণমূলের যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকার। পাঁচ বছরে পা দিয়েছে সিদ্ধি বিনায়ক সংঘের ব্যানারে আয়োজিত এই পুজো। আর একটির উদ্যোক্তা বহরমপুর পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অভ্রদীপ মজুমদার। এবারই প্রথম এই পুজোর আয়োজন বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

তবে বহরমপুরের প্রবীণ নাগরিকদের পর্যবেক্ষণ, হিন্দু দেবদেবীর পুজোর আরাধনা ইদানিং বহরমপুরে বেড়েছে। পুরনো জনপদ খাগড়ার সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়েছে শহরের দক্ষিণভাগেও । তার ফলে শহর জুড়ে গণেশ পুজো উৎসবের আকার নিয়েছে। অনেকে এরমধ্যে রাজনীতিকেও টানছেন। একাংশ শহরবাসীর দাবি, বিজেপি আর তৃণমূল জনমত পক্ষে টানতে উৎসবকে বেছে নিয়েছে।
যে চত্বরে গত দু-দিন ধরে গণেশ পুজোকে ঘিরে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে শহরে, সেখানে ফি বছর কালীপুজোর আয়োজন করে বহরমপুর টাউন ক্লাব। যাঁর পৃষ্ঠপোষক কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। আর এই গণেশ পুজোর পৃষ্ঠপোষক ঘুরিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান তৃণমূলের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। ব্যক্তিগত কাজে শহরের বাইরে থাকায় তিনি অবশ্য পুজোর উদ্বোধনে থাকতে পারেননি। শহরের অন্য ওয়ার্ডের পুজোতে তৃণমূল নেতাদের সরাসরি যোগ না থাকলেও তাঁদের চোখের ইশারা সেখানে আছে। কিন্তু সরাসরি নেতাদের উদ্যোগে গোরাবাজারে দুটি পুজো হওয়ায় শহরবাসীর চোখে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে পুজো দুটি।
গণেশ বুদ্ধি, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবতা বলে হিন্দু শাস্ত্রে পরিচিত। গণেশ ভক্তরা তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নানা বাধাবিপত্তি থেকে মুক্তি দিয়ে মনোবাঞ্ছা পূরণের লক্ষ্যেই এই পুজো করে থাকেন বলে দাবি। শাসকদলের নেতাদের মধ্যে কোন্দল সর্বজনবিদিত। সামনে ২০২৬ এর নির্বাচন। “সকল বাধা কাটিয়ে আপন লক্ষ্য পূরণের স্বার্থে গণেশের শরণাপন্ন নেতারা”, বলছেন তৃণমূলের আয়োজক গোষ্ঠীর বাইরে থাকা নেতারা। নাড়ুগোপাল অবশ্য বলছেন “গণেশ সমৃদ্ধির দেবতা, সৌভাগ্যের দেবতা। একইসঙ্গে উৎসব মানুষকে এক জায়গায় নিয়ে আসে। সম্প্রীতি বজায় থাকে। তাই রাস্তার দু’পাশে দুটি কেন প্রয়োজনে একশোটা পুজো হতে পারে।” তবে যে কারণেই এই পুজোর আয়োজন হোক না কেন লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে সেই সব পুজোর প্রসাদ নিতে ভোলেননি নগরবাসী।