বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ এখনও এক দফা নির্বাচন বাকি। ১ লা জুন সাত তথা শেষ দফা নির্বাচন। তার দুদিন পর চার তারিখ দেশের ৫৪৩টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের দাবি, তার আগে বহরমপুর লোকসভা আসনে জনমত বিজেপি’র বিপক্ষে যাচ্ছে ধরে নিয়ে দলের অন্দরে শুরু হয়েছে কোন্দল। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শাখারভ সরকারকে নিয়ে ” হাঁসফাঁস অবস্থা” দাবি করছেন দলের একটা গরিষ্ঠ অংশ।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেল বহরমপুরে বিজেপি দল এখন তিনভাগে বিভক্ত। একাংশ বর্তমান সভাপতি ঘনিষ্ঠ, একাংশ বহরমপুরের বিধায়ক ঘনিষ্ঠ, আর এক অংশ এই দুই নেতার বিরোধী গোষ্ঠী। শাখারভ অবশ্য বলেন, “যেদিন থেকে আমি সভাপতি হয়েছি সেদিন থেকেই আমাকে সরানোর দাবি উঠছে। দলের একাংশ মানুষজন আছেন যাঁদের কাজ সমালোচনা করা। পদে কে থাকবে না থাকবে তা স্থানীয় স্তরে কেউ বলতে পারে না।”
ঘটনার সূত্রপাত বহরমপুর লোকসভা আসনের নির্বাচনের দিন দশ-পনের আগে থেকে। সভাপতির বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, তাঁর একনায়কতন্ত্র মানসিকতা। দলের কার্যকর্তাদের গুরুত্বহীন করে রাখা। তাঁর ভুল ধরিয়ে দেওয়া দলের একাংশকে নির্বাচনে ব্যবহার না করা। ” দলের প্রতীকের থেকেও নিজেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন সভাপতি।” দাবি সভাপতি বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর এক পরিচিত মুখের। তিনি আরও বলেন “সভাপতির স্বভাবেই আমরা ভাল প্রার্থী দিয়েও হারের অপেক্ষায় দিন গুনছি।”
সভাপতি কিন্তু বলেন, “আমরা ১১ হাজার ৪৪৭ ভোটে নির্বাচনে জিতব। মিলিয়ে নেবেন। কোথায় কত ভোট পাব সেই তথ্যও আমার ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছি দেখে নিন।” অথচ বড়ঞা, কান্দি, বহরমপুরে বিজেপি’র ভোট কমছে বলে পাল্টা তাঁর বিরোধী গোষ্ঠী দাবি করছে।
শাখারভের সঙ্গে বহরমপুরের বিধায়ক সুব্রত মৈত্রের বিরোধের কথা বিধানসভার ধুলিকণাও জানে। বিধায়ক পক্ষের লোকজনের দাবি, ” আমাদের বিধায়ক দলের হয়ে ভোট চাইতে বহরমপুরের অলিতে গলিতে ঘুরেছেন। সভাপতি কাজের অছিলায় এড়িয়ে গিয়েছেন বিধায়ককে।” রাজ্যস্তরের এক নেতার কথায় ” দলের আগে ব্যক্তি বড় হলে পতন অনিবার্য। এটা না বুঝলে যে কাউকে ফল ভুগতেই হবে। “
তেমনি বিধায়ক বিরোধী জেলার এক নেতার কথায় ” বিধায়ককে এমনিতেই ব্লক করেছে রাজ্য ও কেন্দ্রের নেতারা। ওঁকে কখনও সুকান্ত মজুমদারের সভায় দেখতে পাবেন না। কোনওদিন নাড্ডার সভায় দেখতে পাবেন না। কোনওদিন অমিতাভ চক্রবর্তীর বৈঠকে দেখতে পাবেন না। উনি এরপর আইএসএফের জেলা সভাপতি হবেন। আজ যদি আমরা হেরে যাই তার দায় বিধায়কও এড়াতে পারেন না।”
আরও পড়ুনঃ দিনভর বৃষ্টিতে ভিজল মুর্শিদাবাদ
সুকান্ত মজুমদার বহরমপুর লোকসভায় কোনও সভা করেননি। তাছাড়া শুভেন্দু থেকে অমিত মালব্য যখন যেমন কর্মসূচির কথা তিনি শুনেছেন সেখানেই হাজির হয়েছেন বলে পাল্টা তোপ দেগেছেন সুব্রতও। তিনি বলেন, ” আমি নির্বাচনের কোনও কমিটিতে ছিলাম না। বলা ভাল আমাকে কোনও কমিটিতে রাখার প্রয়োজন মনে করেনি জেলা নেতারা। তাই নির্বাচনী প্রচারের খরচ-খরচার হিসেবও আমার কাছে নেই। তাই টাকা মারার স্ক্যামও আমার নেই। আমি শুধু জানি বহরমপুরের মানুষ পদ্মফুল প্রতীকে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। সেই দায় ও কর্তব্য থেকে আমি নিজের দায়িত্বে দলের কর্মীদের নিয়ে দলের প্রতীককে জিতিয়ে আনতে চেষ্টা করেছি। আর জিতবও। তাই কে কী বলল সে কথার গুরুত্বও আমার কাছে নেই।”
মার্কশীট দেখিয়ে শাখারভ গোষ্ঠীর দাবি, ” ৪২১টি পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপির। দলীয় প্রতীকে এখনও ১২টি প্রধান, উপপ্রধান আছেন ১৮টি। অন্যদলে ফাটল ধরিয়ে বিজেপিতে আনা হয়েছে। আর পুরসভায় বিধায়ক নিজের ওয়ার্ডেই হেরে গিয়েছেন।” তেমনি বিধায়ক মহলের দাবি,” হাতিনগর পঞ্চায়েতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে পঞ্চায়েত করেছে দল। সেখানে কংগ্রেসের হয়ে লোকসভার ভোট করিয়েছে প্রধান। তাদের আবার বড় বড় কথা।”
সভাপতির দৌড়ে থাকা বিজেপি’র বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মলয় মহাজন বলেন, “যে কোনও নির্বাচন মিটে গেলে এইরকম কথা হাওয়ায় ওড়ে। এগুলোকে তেমন গুরুত্ব না দিয়ে সবার উচিত ফলাফল ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। জিতব না হারব তা অনুমান করে গল্পের গরুকে গাছে তুলে লাভ কী?”