ফরাক্কার নাবালিকার দেহ ময়নাতদন্ত শেষে গভীর রাতে হল সৎকার

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারী ওয়েবডেস্কঃ পুজোর মরশুমে আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে এসে নৃশংসভাবে খুন হতে হল এক নাবালিকাকে। রবিবার ঘটনাটি ঘটে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার রেল কলোনিতে। সূত্রের দাবি, ফুল তুলতে গিয়ে স্থানীয় এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তির লালসার শিকার হয় ওই নাবালিকা।

দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় তাঁর খোঁজ শুরু করেন পরিবারের লোকজন। এলাকার মানুষের কথার ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি দীনবন্ধু হালদারের বাড়িতেও খোঁজ করেন তাঁরা। তাঁকে ওই নাবালিকার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের পর সদুত্তর না মেলায় তাঁর বাড়ি তল্লাশি করেন কলোনির বাসিন্দারা। শেষতক দীনবন্ধুর বাড়ির খাটের তলা থেকে নাবালিকার বস্তাবন্দী মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তখনই উপস্থিত বাসিন্দারা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ আহত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের ধারা রুজু করে ঘটনার তদন্তও শুরু হয়। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান হয়।

যদিও পরে পরিবার দাবি করে, ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। আর তাই নিয়ে ফের সম্মুখসমরে নামে ডিওয়াইএফআই। রঙ লাগে রাজনীতির। রাজ্যের শাসক বিরোধী সব রাজনৈতিক দলই বিষয়টির নিন্দা করে তদন্তের দাবি তোলে। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ ধর্ষণের মামলা না দিয়ে খুনের মামলা রুজু করে ধর্ষণকান্ড ও ধর্ষককে আড়াল করতে চাইছে। পরে একই অভিযোগ করে পরিবারও। পরিস্থিতি বুঝে ও পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পসকো আইন জুড়ে ফের নতুন করে মামলার তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

মাস দুয়েক আগে ঘটে যাওয়া আরজিকর হাসপাতালের চিকিৎসক হত্যাকান্ডের অভিজ্ঞতা থেকে পরিবার একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পুরো ময়নাতদন্তের ভিডিওগ্রাফি করার আর্জি জানায়। পরিবারের সেই আবেদন নিয়ে জঙ্গিপুর আদালতে হাজির হয় পুলিশ। কিন্তু আদালত তা নাকচ করেন বলে পুলিশ পরিবারকে জানায়। পরিবার তা বিশ্বাস করতে নারাজ।

এরপর তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। স্বাভাবিকভাবেই সোমবার ময়নাতদন্ত পিছিয়ে যায়। আদালতে অবকাশকালীন বেঞ্চে বিষয়টি আইনজীবি শামিম আহমেদ উল্লেখ করলে বিচারপতি রাজ্যের আইনজীবিকে তা দেখার কথা বলেন। যদিও পরে রাজ্যের আইনজীবি আদালতে জানান, বিষয়টি নিয়ে আগেই জঙ্গীপুর আদালতে গিয়েছে পুলিশ। সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায় আদালতে। এরপরে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন যা হওয়ার তা নিয়ম মেনে হবে। পরে আদালত নিয়মিত হলে বিষয়টি যদি কেউ উল্লেখ তখন দেখা যাবে। স্বাভাবিকভাবেই মঙ্গলবার ময়নাতদন্তে আর কোনও অসুবিধা ছিল নাা। পুলিশের দাবি, পরিবারের একজন প্রতিনিধির সামনেই মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

আর এই টালবাহানার মধ্যেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাবালিকার মৃতদেহ সৎকারের উদ্দেশে ফরাক্কার দিকে রওনা দেয়। শবদেহ সমাধি করা পর্যন্ত পুরো সময়টা পরিবারের পাশে ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলা বাম যুব নেতৃত্ব। ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি সাহাও।

ডিওয়াইএফআই জেলা সভাপতি সৈয়দ নুরুল বলেন, “আমরা এখনও জানি না আদালত ঠিক কি নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশের কথায় ভরসা করে মৃতদেহ ময়না তদন্ত হয়েছে। কিন্তু আমাদের দাবি, এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্ত করে নির্যাতিতার পরিবারকে বিচার দিতে হবে। এই কাজে কোনও গাফিলতি হলে আমরা বুঝে নেব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights