সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃচলতি বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে সংসদে বাংলা ভাষার মর্যাদার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন জহর সরকার। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধ্রুপদী ভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দিল ভারত সরকার। তাৎপর্যপূর্ণভাবে জহর এখন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ। তিনি স্বেচ্ছায় পদ থেকে ইস্তফা দেন। চলতি বছর ১২ সেপ্টেম্বর সরকারিভাবে তা গৃহিত হয়।
কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন দফতর সরকারিভাবে এই খবর রাজ্যকে জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাবেক টুইট বার্তায় তা প্রকাশ্যে জানান। বাংলা ভাষাতেই টুইট করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লেখেন, ” আমি অত্যন্ত খুশি যে মহান বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে আর তাও পবিত্র দুর্গা পূজার সময়েই। বাংলা সাহিত্য অসংখ্য মানুষকে বছরের পর বছর ধরে অনুপ্রাণিত করে আসছে । এই উপলক্ষে বিশ্ব জুড়ে সকল বাংলা ভাষাভাষী-কে অভিনন্দন জানাই।”
প্রথমে ইংরেজিতে ও পরে বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে ভারত সরকার একটি ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দিয়েছে।অনেকদিন ধরে আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের কাছে এই সংক্রান্ত গবেষণালব্ধ বিপুল তথ্য জমা দিয়ে দাবি করছিলাম যাতে বাংলা ভাষাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।আজ আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।…” সমাজমাধ্যমে সক্রিয় জহর অবশ্য প্রতিবেদন লেখা অবধি কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি সেখানে।
এদিন একইসঙ্গে মারাঠি, পালি, প্রাকৃত, অসমিয়াও পেয়েছে ধ্রুপদী ভাষার তকমা। এর আগে ২০০৪ সালে ভারতের ছ’টি ভাষা এই স্বীকৃতি পেয়েছিল। ব্রাত্য ছিল বাংলা। সেই তথ্য তুলে ধরে চলতি বছর ফেব্রুয়ারী মাসে সংসদে বাংলার স্বীকৃতির দাবিতে সরব হয়েছিলেন প্রাক্তন আমলা তথা সাংসদ জহর। সংবাদমাধ্যমে তিনি সেবার জানিয়েছিলেন বাংলা ব্যাকরণ, হরফ এবং বাক্যগঠনের ক্ষেত্রে বাংলার প্রাচীনত্ব যে খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকের, তা প্রমাণ করতে চার খণ্ডের গবেষণাপত্র ভারত সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সেবার তিনি রাজ্যের নাম পরিবর্তনের দাবিও তুলেছিলেন।
কেন্দ্রের নতুন শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছিল সেবারের ঘোষিত ছয়টি ধ্রুপদী ভাষার যে কোনও ভাষায় যে কোনও রাজ্য থেকে পড়াশোনা করবার সুযোগ পাবেন পড়ুয়ারা। কিন্তু সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে কেন বাংলা ? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। দাবি ওঠে, কেন্দ্র এক দেশ এক ভাষা চালু করতে গিয়ে আঞ্চলিক ভাষাকে ভুলিয়ে দিতে চাইছে। হিন্দিকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে দেশজুড়ে।
প্রথমে তামিলনাড়ু তামিল ভাষার স্বীকৃতি আদায়ে রাজ্য জুড়ে আন্দোলনে নামে। পথ দেখায় অন্যদের। কেন্দ্রের দাবি ছিল, ভাষাকে অন্তত দেড় হাজার বছরের পুরনো ভাষা হতে হবে। আর বাংলা যে আড়াই হাজারের বেশি পুরনো ভাষা তা কেন্দ্রকে জানাতেই পুঁথির পাহাড় মানবসম্পদে দফতরে জমা দিয়েছিল বাংলা। অবশেষে বাংলার দাবি মেনে নিল কেন্দ্র। খুশির হাওয়া বাংলায়।
একইভাবে রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ কেটে বাংলা করবার প্রস্তাব ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রের কাছে জানিয়ে আসছে তৃণমূল সরকার। কেন্দ্র অবশ্য সে বিষয়ে এখনও টুঁ শব্দ না করায় দ্রুত তা মেনে নেওয়ার আর্জি সেদিনও জানিয়েছিলেন জহর।
আরও পড়ুনঃ নশিপুর সেতু দিয়ে গড়াল রেলের চাকা, আড়ালেই থাকল ইতিহাস