
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ প্রয়াত হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আইনজীবী আবু হেনা। শেষদিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন কংগ্রেসের মুর্শিদাবাদের জেলা সভাপতি ও। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। আজ রবিবার রাত ১০.৪৫ মিনিট নাগাদ কলকাতায় নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর মৃত্যুতে এক যুগের অবসান হল। জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, ” সোমবার বেলা বারোটার সময় তাঁর মরদেহ বহরমপুর জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে নিয়ে আসা হবে।”
১৯৫০ সালের ৩১ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের লালগোলায় তাঁর জন্ম। সেখানেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের মন্ত্রীসভার সদস্য আব্দুস সাত্তারের পুত্র আবু হেনা ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রীসভার সদস্য। ২০১১ সালে লালগোলা বিধানসভা থেকে জিতে তিনি রাজ্যের মন্ত্রীও হয়েছিলেন । যদিও ২০১২ সালে তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজ্যনৈতিক বন্ধন ছিন্ন হলে তৃণমূলের মন্ত্রীসভা ছেড়ে বেরিয়ে আসেন কংগ্রেসের নেতারা। সেই দলে ছিলেন আবু হেনাও।
রাজ্যে তৃণমূলের জমানায় প্রায় কংগ্রেস শূন্য হয়ে যায় মুর্শিদাবাদ। স্রোতের মতো কংগ্রেস নেতারা হাত ছেড়ে ঘাসফুলে নাম লেখালে ও আবু হেনা ছিলেন আমৃত্যু কংগ্রেসের পতাকা বাহক। বহু প্রলোভনেও তাঁকে টলাতে পারেনি রাজ্যের শাসকদল। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির অন্যতম সদস্য অধীর চৌধুরীও তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা করতেন। দিন কয়েক আগেও আবু হেনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দেখতে কলকাতায় গিয়েছিলেন অধীর। ফেসবুকে শোক জ্ঞাপন করে অধীর লেখেন ” ভাবতে কষ্ট হচ্ছে আমাদের প্রিয় হেনাদা, আবু হেনা সাহেব আর নেই।… তিনি কেবল প্রাক্তন মন্ত্রী বা জেলা কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার সহযোদ্ধা এবং হৃদয়ের আপনজন।”
শারীরিক অসুস্থতার কারণে জেলায় কংগ্রেসের কাজে সময় দিতে না পারায় বারবার তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদন করলেও অধীর চৌধুরী বর্ষীয়ান এই রাজনীতিককে রেখে দিয়েছিলেন স্বপদে। তৃণমূলের জঙ্গিপুর সংগঠনের জেলা সভাপতি খলিলুর রহমান শোক প্রকাশ করে বলেন ” তাঁর অবদান ও নেতৃত্ব আমাদের মনে চিরকাল জাগরুক থাকবে।” এদিন তাঁর মৃত্যুতে মুর্শিদাবাদ জেলা তথা রাজ্যের রাজনীতি হারাল এক সজ্জন ব্যক্তিকে।