
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ দেশের নিরীহ ২৬ জন পর্যটকের হত্যার বদলা নিতে ভারতের সেনাবাহিনী শুরু করেছে অপারেশন সিন্দুর। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর মিলিত উদ্যোগে এটি একটি নির্ভূল স্ট্রাইক অপারেশন। মূলত পাকিস্তানের মাটি থেকে জঙ্গি নিধনের উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে এই অপারেশন। আপাতত যুদ্ধ বিরতি। তবু দেশবাসীর ইচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফেরাক ভারত।
তবে প্রথম দিন থেকেই এই অপারেশনে ভারতীয় সেনাবাহিনীর লড়াইয়ে নজর রয়েছে দেশবাসির। প্রতি মূহুর্তের আপডেট ঠোটস্থ পড়ুয়াদেরও। বহু নবম, দশম কিংবা একাদশ দ্বাদশের পড়ুয়ারা ভারতীয় সেনা বাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করছে। ছেলেরা নয় মেয়েরাও উদ্বুদ্ধ দুই সেনা আধিকারিক কর্ণেল সোফিয়া কুরেশি ও কমান্ডার ব্যোমিকা সিংহকে দেখে। সেই ছবি ধরা পড়েছে তোপিডাঙা হাইমাদ্রাসায়। ভগবানগোলার এই হাইমাদ্রাসায় পড়ুয়াদের শুধুমাত্র বইয়ের পাতায় আবদ্ধ রাখা হয় না। মেয়েদের আত্মরক্ষার্থে রীতিমতো তাঁদের ক্যারাটে প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হয়। সদ্য প্রকাশিত হাইমাদ্রাসার ফলাফলেও রয়েছে তার ঝলক। ১৬৬ জন পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হয়েছে সসম্মানে। ৭১৬ নম্বর পেয়ে স্কুলের মধ্যে প্রথম হয়েছে নিজামুদ্দিন হক।
এই স্কুলের হস্টেলের পড়ুয়াদের জন্য কেরিয়ার কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা আছে। সেখানে ভারতীয় সেনাদের আত্মবলিদান ও ভারত পাক যুদ্ধের কথাও আলোচনা হয় । সেই আলোচনায় পড়ুয়ারাও অংশ গ্রহণ করেছেন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সৈয়দ মামুন অলবিরুণীর দাবি, পড়ুয়াদের কাছে সেনা বাহিনীর অনেক তথ্য ছিল। সেগুলো উভয়ে আলোচনা যখন হচ্ছিল তখন নুরজাহান, রাজিয়ারা সেনায় যোগদানের ইচ্ছে প্রকাশ করে। কীভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে তার খোঁজ খবর নিয়েছে। আর পড়ুয়াদের সেই ইচ্ছেকে উৎসাহ দিতে ভারতীয় সেনার ছবি দিয়ে হস্টেল বারান্দায় টাঙানো হয়েছে ফ্লেক্স। পড়ুয়াদের নজরে পড়তেই সেনাদের একবার করে সেলাম ঠুকছে ছবিতেই।

শুধু স্কুলের পড়ুয়াই নয়, দেশের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর হার না মানা লড়াইয়ের আঁচ লেগেছে বহরমপুর শহরের ঠেকে ঠেকে। ঋত্বিক সদনের উল্টোদিকে মৃণালের চায়ের দোকানে সুব্রত পাল, তিলোকেশ রায়, হিমাংশু সাহাদের দৈনিক আড্ডা। দেশের রাজনীতি থেকে অর্থনীতি, রাজ্যের অব্যবস্থা, সুব্যবস্থা এমনকি পাড়ার কলে জল না পড়ার আলোচনাও উঠে আসে ঠেকের আড্ডায়। সেই আড্ডায় স্বাভাবিকভাবেই উঠে এসেছে ভারত পাক যুদ্ধের কথা। সুব্রত বলেন, ” ভারত এই সুযোগে পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল করুক। পাকিস্তানে যেন আর কখনও জঙ্গি না জন্মায় তার ব্যবস্থা করুক।” আর সেনাবাহিনীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফ্লেক্স বানিয়ে আর এক বিপ্লবী ও স্বাধীনতা আন্দোলনকারী আরএসপি দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ত্রিদিব চৌধুরীর মূর্তির পাদদেশে।