পাঁচটা পর্যন্ত রাজ্যের কোথায় কত ভোট পড়ল ষষ্ঠ দফায়

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ কথা রাখতে পারল না নির্বাচন কমিশন। ষষ্ঠ দফা নির্বাচনের দিন একাধিক জায়গায় উত্তপ্ত হল বাংলা। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বাংলায় প্রায় ৭৮.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। যা এদিন আট রাজ্যের তুলনায় সবথেকে বেশি, জানাল নির্বাচন কমিশন।

রাজ্যের মধ্যে সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে বিষ্ণুপুর লোকসভায়। সেখানে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট দানের হার ৮১.৪৭ শতাংশ। ভোটের হারে খুশি ওই এলাকার প্রার্থীরা। তবে আশঙ্কা সত্যি করে অশান্তিতে এগিয়ে থাকল সেই গড়বেতা, নন্দীগ্রাম আর কেশপুর।

গড়বেতায় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭৯.৫৮ শতাংশ। ঘাটাল লোকসভার অন্তর্গত কেশপুরে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ৮০.৮২ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়। অন্যদিকে তমলুক লোকসভার অন্তর্গত নন্দীগ্রাম বিধানসভায় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭৯.৬৩ শতাংশ। ওই লোকসভায় সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে নন্দকুমারে। ৮৩.১২ শতাংশ।

বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের ছবি নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া

নির্বাচন শুরু হওয়া ইস্তক বঙ্গবাসী দেখলেন বাংলা ছবির দুই নায়কের দাপাদাপি ঘাটাল জুড়ে। একদিকে দেব অন্যদিকে হিরণ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখলেন সংবাদ মাধ্যমকে। কেশপুরের একাধিক বুথে পুননির্বাচনের দাবি তুললেন হিরণ।

নন্দীগ্রামের সাউথখালী জালপাই গ্রামের মনসা বাজারে একটি কাঠের সেতু ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ওই এলাকায় শো তিনেক সংখ্যালঘু ভোটারের বাস। তবে নন্দীগ্রামে ছাপ্পা ভোট দেওয়া হচ্ছে বলে যে ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে তৃণমূল, তা সঠিক নয় বলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক শনিবার জানিয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে সাধুদের মিছিলঃ কার্তিক মহারাজ

এসব কিছুকে ছাপিয়ে সামনে থাকল গড়বেতা। ঝাড়গ্রাম লোকসভার এই বিধানসভায় মার খেলেন বিজেপি প্রার্থী। বাদ যায়নি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। ইঁটের আঘাতে এক জওয়ানের মাথা ফাটে। ভাঙচুর বিক্ষোভে কার্যত ধুন্দুমার পরিস্থিতি তৈরি হল গড়বেতায়। সেখানে নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া শেষ খবর পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৮৩.১৫ শতাংশ।

তমলুকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপরে ছিল প্রচারের আলো। এদিন সকালে তাঁকে ‘চাকরি চোর’ শ্লোগান শুনতে হয়। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ময়নার বৃন্দাবনচকে বিজেপি নেতা গৌতম গুরুকে নজরবন্দি করায় উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান অভিজিৎ। তবে প্রাক্তন বিচারককে দেখে একাধিক জায়গায় তৃণমূল কর্মীরা গো-ব্যক শ্লোগান দেন। যা ষষ্ঠ দফার ভোটের দিনকে অশান্ত হিসেবে চিহ্নিত করে। তমলুকে ভোট পড়েছে ৭৯.৭৯ শতাংশ। তবে বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট শেষে বলেন, “গোটা তমলুক লোকসভা উৎসবের মেজাজে ভোট দিয়েছেন। হলদিয়া দীর্ঘদিন পর ভোটে অংশ নিয়েছে। আমাদের এজেন্টকে তুলে দিয়েছে মানে বুঝতে হবে ২০২৪এ লালঝাণ্ডা ফুরোয়নি। চার তারিখ আমরা লাল আবির খেলব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights