
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের ছেলের বিরুদ্ধে পুলিশকে মারধরের অভিযোগ উঠল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার সকালে তাঁকে আটক করলো শক্তিপুর থানার পুলিশ। সূত্রের দাবি, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের একজন ব্যাক্তিগত দেহরক্ষী পুলিশের কনস্টবল জুম্মা খানকে মারধর করেছেন হুমায়ুনের ছেলে গোলাম নবি আজাদ ওরফে রবিন। হুমায়ুনের শক্তিপুরের বাড়িতে আজ ওই কনস্টবল যখন ছুটি নিতে চান তখন হুমায়ুন ছুটি নাকচ করে দেন। তখনই তাঁকে রবিন মারধর করেছে। আর তা ঘটেছে হুমায়ুনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে। এই মর্মে শক্তিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন জুম্মা। লিখিত অভিযোগ পেয়ে হুমায়ুনের বাড়ি যায় পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাজিদ ইকবাল বলেন, ” পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ।” হুমায়ুন পাল্টা ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। ফোন ধরেননি রবিন।
চলতি মাসের শুরুতে দেশ জুড়ে সাড়া ফেলেছিল হুমায়ুন কবীর প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস পর্ব। আর মাস শেষে এসে তাঁকে জবাব দিচ্ছে তৃণমূল। চার তারিখ তৃণমূল কংগ্রেস ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করবার পরে শীতের হাওয়ায় দ্রুত ছড়িয়েছিল বাবরি মসজিদের শিলান্যাস হওয়ার কথা। ছ’ডিসেম্বর যে দিন সংহতি দিবস পালন করে তৃণমূল সেদিনই বিনা বাধায় রমরম করে শিলান্যাস পর্ব সেরে ফেলেন হুমায়ুন। দলের এই প্রাক্তন নেতার নাম মুখে আনা তো দূর অস্ত সেদিন টুঁ শব্দ করেননি ঘাসফুলের কোনও নেতা। হুমায়ুন জনতা উন্নয়ন পার্টি নামে নতুন দল ঘোষণা করেন এই মাসের বাইশে। কিন্তু সেই দলে নাম লেখান নি রবিন। তিনি এখনও বেলডাঙা দুইয়ের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ।
নতুন দল গড়া ইস্তক নানান বাধার মুখে পড়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। শিলান্যাস পর্বে ভুয়ো ধর্মগুরুর প্রবেশ থেকে বালিগঞ্জে দলের প্রার্থী নিয়ে টানাপোড়েন এমনকি বহরমপুর থেকে দলের ঘোষণা পর্বের সভা সরিয়ে বেলডাঙায় ধানি জমিতে সভা করা সবেতেই বাধা ডিঙিয়ে হাঁটতে হচ্ছে তাঁকে। নতুন বছরের শুরুতে ডোমকলের জনকল্যাণ সমিতির মাঠে সভা করার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে গিয়েছে বলে হুমায়ুনের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি। তারমধ্যেই এই সংবাদ স্বাভাবিকভাবেই মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। হুমায়ুন বলেন, ” পুলিশের এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ করেছি। আমাকে পাল্টা মারতে উদ্যোত হলে ছেলে ঘাড় ধরে বের করে দেয়। পুলিশ সুপার যদি তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে বৃহস্পতিবার এসপি অফিস ঘেরাও হবে।”