বড়দিনে ‘সান্তা’ তৃণমূল নেতা ভীষ্মদেব, খোঁচা বামেদের

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ বড়দিন মানেই সান্তাক্লজ। আর ফি বছর ২৫ ডিসেম্বর এলেই বহরমপুর শহর খুঁজে বেড়ায় লাল টুপিওলা এক যুবককে। এই কথাই পঁচিশে ডিসেম্বরের আগে পরে উড়ে বেড়ায় শহরে। ছাব্বিশ হলেই ফসকে যাবে সান্তার গিফট।

বহরমপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ভীষ্মদেব কর্মকার এখন তৃণমূলের ভরসার নেতা। যুব সংগঠনের বর্তমান জেলা সভাপতি। ফি বছর নিজের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে বড়দিন উদযাপন করেন তিনি। বহরমপুর পুরসভার যতগুলি ওয়ার্ডে বস্তি আছে ১৯ নম্বর ওয়ার্ড তারমধ্যে একটি। সেখানেই কচিকাঁচাদের লালসাদা টুপি পড়িয়ে বড়দিনে একটা ছোট শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন কাউন্সিলর নিজে। প্রথম দিকে বস্তির ছোটরা ভিড় করে এই অনুষ্ঠানে এলেও এখন এলাকার প্রায় সব ক্ষুদেরাই ভিড় করে আসেন সেই শোভাযাত্রায়, দাবি ভীষ্মর।


আরও পড়ুনঃ বড়দিনে ফাঁকা লালবাগ, ভিড়ে ভোগান্তি বহরমপুরে


উৎসব বঙ্গের রাজনীতিতে জনসংযোগের অন্যতম হাতিয়ার। বড়দিনে সেই কাজ গত কয়েক বছর ধরে নাগাড়ে করে যাচ্ছেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনে পুরসভায় শাসকদল ভোট কম পেলেও এই ওয়ার্ড থেকে আশানুরূপ ফল পেয়েছিল জোড়াফুল। ভীষ্মদেবের কাছের লোকজনের দাবি, “নিত্যদিনের জনসংযোগই এর ভিত, তাই ভবিষ্যতও ভালো।” তাঁরা আরও জানান, ইদানিং অবশ্য অনেকেই সেই হাতিয়ারকে ভোটের অস্ত্র বানাতে মাঠে নেমেছেন। কি শাসক, কি বিরোধী। তবে বহরমপুরে পথ দেখিয়েছেন তৃণমূলের যুব সংগঠনের বর্তমান সভাপতি দাবি তাঁদের।

এদিন শুধুমাত্র লজেন্স, বিস্কুট কিংবা বড়দিনের কেক উপহার দেওয়া নয়, পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তানদের মধ্যে খাতা, পেন পেন্সিল এমনকি খেলার সরঞ্জামও উপহার দিয়েছেন তিনি। ভীষ্মদেব বলেন, ” আমি এই দিনটা শিশুদের মধ্যে কাটাতে ভালবাসি। সান্তা এসে ওদের হাতে উপহার তুলে দেয়। এগুলোতে ওরা আনন্দ পায়। তাই এইটুকু প্রতিবছর আয়োজন করি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায়।”

বাম যুব সংগঠনের জেলা সম্পাদক সন্দীপন দাস অবশ্য একে তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়ার নেতাদের স্টান্টবাজি বলছেন। তাঁর মতে, ” বস্তিবাসীদের জন্য কি করেছে। এসআইআর আবহে নিজের ঠিকানা নিয়েই চিন্তায় মানুষগুলো। লজেন্স, বিস্কুট না বিলিয়ে লিজে জমি দেওয়ার ব্যবস্থা করুক। পানীয় জলের ব্যবস্থা করুক। টাকা মেরে না দিয়ে ওদের মাথায় পাকা ছাদের ব্যবস্থা করলে বুঝতাম বড়দিনে কাজের কাজ করেছে। এগুলো স্টান্ট বাজি ছাড়া কিছুই নয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights