বড়দিনে ফাঁকা লালবাগ, ভিড়ে ভোগান্তি বহরমপুরে

Social Share
মতিঝিলে দেখতে এলেন যাঁরা

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ বড়দিনে ফাঁকাই গেল ইতিহাসের শহর মুর্শিদাবাদ। পর্যটক বিমুখ লালবাগ তাকিয়ে বছর শেষ ও শুরুর দিনের দিকে। অন্যদিকে বহরমপুর শহরে সন্ধ্যায় ভিড়ে যানজটে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকলেন মানুষ। বড়দিনেই ভোগান্তির মুখে পড়লেন উৎসবমুখী শহরবাসী।

অন্যবারের তুলনায় চলতি বছর ডিসেম্বরে পারদ নামছে তরতরিয়ে। বড়দিনে বহরমপুরের তাপমাত্রা ছিল এগারো ডিগ্রি। সেই শীতেও মানুষ ইতিহাসের শহর মুর্শিদাবাদের দিকে পিঠ ফিরিয়েই থাকলেন। ফাঁকা থাকলো মতিঝিল থেকে হাজারদুয়ারি সর্বত্র। যাঁরা এলেন তাঁরা মুর্শিদাবাদেরই আশপাস থেকে। বললেন ” রোদ পোহাতে ।” অথচ পর্যটনের কথা উঠলেই মানুষের মনে ভিড় করে আসে নবাব নগরী। মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের চেষ্টার কথা খবরে প্রকাশ পায়। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা তো বটেই জেলা ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি সরকার পর্যটক টানতে কোনও উদ্যোগই নেয় না।

মতিঝিলে একসময় লাইট অ্যান্ড সাউন্ড সিস্টেম চালিয়ে পর্যটকদের নজর টানার চেষ্টা করেছিল মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন। কিন্তু সেই সিস্টেম দীর্ঘদিন ধরেই অচল হয়ে পড়ে আছে। জেলায় এই ডিসেম্বরেই জনসভা করতে এসে সেই সিস্টেম ফের সচল করার কথা দিয়েছিলেন। মুর্শিদাবাদ সিটি ব্যাবসায়ী সমিতির সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, “শুনেছি তা চালু হয়েছে।”

পুরপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পুরপ্রধান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়

তিনি আরও বলেন, “সরকারের উদাসীনতায় পর্যটক হারাচ্ছে মুর্শিদাবাদ। কোনওদিন আলাদা করে বিজ্ঞাপণ দিতে দেখা যায়নি সরকার কিংবা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।” তিনি দাবি করেন, ” করোনা পরবর্তী সময় থেকেই মুর্শিদাবাদে পর্যটন শিল্প ভাঁটার টানে। সেখান থেকে এখনও ফিরতে পারেনি। সরকারও হাত ধরেনি।”

তবে ভ্রমণবিলাসি মানুষজন সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় করে এলেন শহর বহরমপুরে। লক্ষ্য ক্যাথলিক চার্চ। বড়দিন উপলক্ষে ওয়াইএমএ মাঠের সামনে বসেছে মেলা। তার সঙ্গে এবার জুড়েছে বেসরকারি উদ্যোগে মেলা। সাড়ে -ছ’টা সাতটা নাগাদ ভিড় এমন জায়গায় পৌঁছালো যে ওয়াইএমএ মাঠ সংলগ্ন এলাকায় সার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকল চার চাকা থেকে দু-চাকা। কেউ সেই রাস্তা ঘুরে বহরমপুর স্টেডিয়ামের রাস্তা ধরে ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছলেন। কেউ পাড়ার মধ্যে দিয়ে রাস্তা কেটে গঙ্গার ধার ধরে চলে গেলেন উত্তরে। সেদিকে অবশ্য স্বাভাবিকের তুলনায় বেশিই ফাঁকা ছিল কাদাই থেকে খাগড়া চত্বর। রাত আটটার পরে অবশ্য ফিকে হয়ে যায় ভিড়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর বড়দিন উপলক্ষে এবারই প্রথম সাজিয়ে তোলা হয়েছিল পুরসভা চত্বর। রাস্তার দু-দিক বাঁশ দিয়ে ঘিরে আলো দিয়ে সাজানো হয়েছিল। বড়দিনে আলো উপছে পড়লেও রাস্তা ছোটো হয়ে গিয়েছিল। মানুষও আলোর ঝলকানি এমনিতে চাকা গড়াতে সময় লাগে, জট পাকে ঘনঘন। কাল তা মাত্রা ছাড়ানোয় মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয় উৎসবের দিনে। ভিড়ে আটকে থাকা পল্লবী মজুমদার উপদেশের সুরে বলেন, ” এই সুযোগে বহরমপুর ব্যারাকস্কোয়ারের চারপাশ আলো দিয়ে সাজালে শীতের মরশুমে বেড়াতে আসা পর্যটকেরও নজর পড়তো। আর এটা করে কী বার্তা গেল?” তেমনি ভাস্কর দত্ত আবার পাশ থেকে উচ্চস্বরে বললেন, ” পার্কস্ট্রিট উঠে এলো না হয় আমাদের লালদিঘি স্ট্রিটে। ক্ষতি কী?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights