
বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ মুর্শিদাবাদ জংশনে মালগাড়ি থামবে। সেখানেই মালপত্র নামানো ওঠানোর ব্যবস্থা করেছে রেল। সারগাছি ও কাশিমবাজার স্টেশনে এই সুবিধা আছে। রেলের সিদ্ধান্তে এখন থেকে এই সুবিধা চালু হবে মুর্শিদাবাদ স্টেশনে। কিন্তু ওই স্টেশনে মালগাড়ি থেকে মালপত্র নামানো ওঠানোর ব্যবস্থা করলে অসুবিধা হবে ব্যবসায়ীদের। বাড়বে পরিবহন খরচ। তাহলে কার স্বার্থে মুর্শিদাবাদ জংশনে তৈরি হচ্ছে মালগাড়ি শেড? উঠছে প্রশ্ন।
মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদ স্টেশনে এই নিয়ে রেল কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সেখানে কোনও সমাধান সূত্র মেলেনি। আজ বুধবার সমাধান খুঁজতে রেলকর্তারা ফের একপ্রস্থ বৈঠকে বসবেন বলে রেলসূত্রে জানা যায়। মঙ্গলবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সাধারণ সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য। তিনি যদিও বলেন, ” কোথাও কোনও অসুবিধা নেই। কোনও বিতর্ক নেই।”
কিন্তু মুর্শিদাবাদ মিনি ট্রাক অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শুভাশিস নন্দী বলেন, ” এই শেড তৈরি হলে অসুবিধায় পড়বেন ব্যবাসায়ীরা। ঘুরপথে যোগাযোগ করতে হলে বাড়বে পরিবহন খরচ।” মুর্শিদাবাদ ট্রাক অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কুন্তল বাজপেয়ি বলেন, ” মুর্শিদাবাদে রেক পয়েন্ট হলে উল্টো পথে আসতে হবে ট্রাকগুলোকে। মুর্শিদাবাদ থেকে বহরমপুরে আসতে দেড় ঘন্টার বেশি সময় লাগবে। পরিবহন খরচও বেড়ে যাবে। যতগুলি গোডাউন আছে সব কাশিমবাজারে। ফলে মাল নামানো ওঠানো করতে দিন কেটে যাবে।” আজকের বৈঠকে সংগঠনের চারজন প্রতিনিধি উপস্থিত হয়ে তাঁদের অমতের কথা স্পষ্ট করবেন বলে দাবি সূত্রের।
ট্রাক সংগঠনের দাবি, মুর্শিদাবাদ জেলায় যত মালপত্র আসা যাওয়া করে মালগাড়িতে তার মাত্র ১৫ শতাংশ মালপত্র যায় লালগোলা, ভগবানগোলায়। সারগাছি থেকে সেখানে যেতে এই অসুবিধাটুকু হবে। মুর্শিদাবাদ স্টেশনে এই রেক পয়েন্ট তৈরি হলে লালগোলা, জঙ্গিপুরের সুবিধা হবে। কিন্তু সেখানকার ছোট রাস্তা দিয়ে ডোমকল সহ একাধিক জায়গায় ঘুরপথে মাল পরিবহন করতে হবে। এর আগে বহরমপুরে এই মালগাড়ি শেড ছিল। কিন্তু যানজটের কারণে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সারগাছি রেক পয়েন্ট থেকে দৈনিক আটশো থেকে হাজার ট্রাক যাতায়াত করে। সেখান থেকে খাদ্য নিগমের গাড়ি যেমন যায় তেমনি সিমেন্টের বস্তাও নামে লরি লরি। শুভাশিস বলেন, ” সারগাছিতেই এখনও সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করতে পারেনি রেল। সেখানে একটা নূন্যতম খাওয়ার জলের ব্যবস্থা করতে পারেনি। আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে সেই জল কল বসিয়েছি। মুর্শিদাবাদ স্টেশনে মালগাড়ি থামলে আমরা সেখানে ট্রাক পাঠাতে পারব না।” সূত্রের দাবি, ওই রেক পয়েন্ট থেকে বেড়নোর একটি মাত্র রাস্তা তাও তৈরি করেনি রেল। করেছেন অধীর চৌধুরী। তিনি আরও বলেন, ” আমাদের পেটের ভাত মেরে কার স্বার্থে এখানে রেক বসানো হচ্ছে ভাল করে খোঁজ নিয়ে দেখুন।”