
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ রবিবার গভীর রাতে যে এলাকায় বোমাবাজির ঘটনা ঘটল, সোমবার ডোমকলের সেই এলাকার পাট খেত থেকে গুলিসহ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করল ডোমকল থানার পুলিশ। তবে কী মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছে ডোমকল? প্রশ্ন উঠছে।
মে মাসের শেষ বেলায় ডোমকল থানায় দাঁড়িয়ে একপ্রকার হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ। ডোমকল যেন তার পুরনো তকমা “বোমকল” না ফিরে পায় তারজন্য সবাইকে এগিয়ে আস্তে হবে। বলেছিলেন আইনের ঊর্ধে কেউ নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নিতে নিষেধ করেছিলেন। সেই ডোমকলেই দিন সাতেক আগে গভীর রাত্রে তৃণমূল টাউন সভাপতি কামরুজ্জামান মন্ডলের বাড়ির সামনে বোমা ফাটিয়ে গেল কেউ?
রবিবার রাতে ডোমকল পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে বোমাবাজির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আর পরপর এই দুই ঘটনায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে জনমানসে। মাঝখানে এই ডোমকলের বাজিতপুর এলাকা থেকে পুলিশ মাটি খুঁড়ে দশটি সকেট বোমা উদ্ধার করেছে।
রবিবার রাতের ঘটনার উৎসস্থল কেরালা। সেখানেই পুরনো বিবাদকে কেন্দ্র করে যাবতীয় অশান্তির শুরু। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিযায়ী শ্রমিক জানারুল শেখ ও সাহিন শেখ ডোমকলের অম্মরপুর এলাকার পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে আগেই ঝামেলা ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাহিনের ওপর হওয়া কেরালার রাগ ডোমকলে মিটিয়েছিল জানারুল। তারই বদলা নিতে সাহিন অপেক্ষা করছিল বকরি ইদের। সেই মতো ইদ মিটতেই দু’জনেই ঝামেলায় জড়ায়। আর এই পরিকল্পনা রূপায়নে দু-পক্ষই মজুত করেছিল বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র।
জানারুলের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে সাহিন শেখের বিরুদ্ধে। এমনকি দু-পক্ষের মধ্যে খবরও পাওয়া যাচ্ছে। সেই রাতেই খবর পেয়ে ওই এলাকায় পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। যদিও বাড়িতে সেই সময় সাহিন কিংবা জানারুল কেউই ছিলেন না। জানারুলের স্ত্রী কাকলায়ান বিবি উল্টে পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেছেন।

পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গাজলু শেখ ও রফিকুল শেখকে গ্রেফতার করে সোমবার আদালতে হাজির করে। ঘটনার পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কি না, কেন গভীর রাতে বোমাবাজির মতো ঘটনা ঘটল তা জানতে ধৃতদের সাতদিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। হতাহতের খবর নেই বলে দাবি করেছে পুলিশ।
তবে এই ঘটনায় জড়িয়েছে রাজনীতি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিবাদমান জানারুল ও সাহিন তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সদস্য। এই দুই পরিযায়ী শ্রমিকের মধ্যে হিংসাত্মক ঘটনার পেছনে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর ক্ষমতার জাহির কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থিতিয়ে যেতে না যেতেই সোমবার বিকেলে অম্বরপুর এলাকার পাট খেত থেকে পুলিশ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র সহ একজনকে গ্রেফতার করেছে।
ধৃত মর্তেজ শেখের কাছ থেকে একটি দেশি বন্দুক ও দশ রাউন্ড গুলি, একটি ৭ এমএম পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মর্তেজ শেখের কাছে গুলি সহ এই বেআইনি অস্ত্র কোথা থেকে এল ? সাহিন- জামিরুলের ঝামেলার ঘটনায় ধৃতের কোনও যোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দুটি ঘটনাতেই পৃথক মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ডোমকল থানা।
আর শাসকের কোন্দল ও পুলিশের হুঙ্কার নিয়ে কটাক্ষ করেছে সিপিএম। ওই দলের জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ” এসবই নাটক চলছে। পুলিশ মন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেকথা বলেন তারপরেই উল্টো ঘটনা ঘটে আমাদের রাজ্যে। একইভাবে আমাদের এখানে পুলিশ সুপার যে কথা বলে গেল তার উল্টো ঘটনা ঘটছে এখানে। এগুলো সব নাটক। এই রাজ্যে প্রশাসন বলে কিছু নেই। চলছে দুষ্কৃতিরাজ।” থমথমে এলাকায় অবশ্য পুলিশি টহল চলছে।