
বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ বাংলায় ঘুষ দিয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে একলপ্তে প্রায় ছাব্বিশ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি মূহুর্তে ‘নেই’ হয়ে গিয়েছে, শীর্ষ আদালতের এক কলমের খোঁচায়। আর ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাসক দলের একাংশ নেতার বিরুদ্ধে। শাসকের গায়ে সেই ঘা এখনও দগদগে। এমন সময় মুর্শিদাবাদের এক তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ সামনে এল বুধবার।
সুত্রের দাবি, তৃণমূল কর্মী দিলীপ সিংহ রায় বর্তমানে কৃষ্ণনাথ কলেজ স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি। অভিযোগ, তিনি ২০১২ সালে কান্দি থানার বেনেপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক শেখের কাছ থেকে সত্তর হাজার টাকা নিয়েছিলেন। মানিকের দাবি, ” সেই টাকা দিয়ে দিলীপ তাঁকে স্থানীয় এমএসকে স্কুলে শিক্ষকের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন।” তখন দৌলতাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরি করতেন দিলীপ। মানিক আরও বলেন, ” চাকরি তো দেনই নি, উল্টে টাকাও ফেরত দিচ্ছিলেন না।”
অথচ এই সময়কালে দিলীপ দৌলতাবাদ থেকে বদলি হয়ে বহরমপুর শ্রীগুরু পাঠশালা হাইস্কুলে চলে আসেন। সেখান থেকেই অবসর গ্রহণ করেন তিনি। কান্দি থেকে বহরমপুরের শ্রমিক ভবনে এসেও দিলীপের সঙ্গে দেখা করেন মানিক। দিলীপ তাঁকে আজ দেব, কাল দেব করে ঘোরাতেই থাকেন কিন্তু টাকা ফেরত দেন না বলে দাবি তাঁর। এই অবস্থায় কান্দি থানার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করেন মানিক। একইসঙ্গে দিলীপের গতিবিধির ওপর নজর রাখতেও শুরু করেন। অবশেষে বুধবার কান্দি ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের সামনে তাঁকে আটক করে ফের টাকা ফেরতের দাবি করেন মানিক।

কিন্তু এবারও দিলীপ অস্বীকার করায় কান্দি থানায় খবর দেয় মানিক। খবর পেয়ে কান্দি থানার আইসি মৃণাল সিনহা ঘটনাস্থলে এসে দিলীপকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। সেখানে নিজের দোষ স্বীকার করে পুলিশকে মুচলেকা দিয়ে মানিককে টাকা ফেরত দিলে পুলিশ দিলীপকে ছেড়ে দেয়। মানিকও লিখিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনও অভিযোগ নেই বলে পুলিশকে জানায়। মানিক বলেন, ” পাঁচ বছর সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর আজ অন্তত আসল টাকা টুকু ফেরত পাওয়ার জন্য কান্দি থানার আইসিকে ধন্যবাদ।” ঘটনায় তৃণমূল কর্মীর নাম জড়িয়ে যাওয়ায় অসন্তুষ্ট বহরমপুর সংগঠনের সভাপতি অপূর্ব সরকার। তিনি বলেন, ” দুর্নীতির প্রশ্নে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো দল জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলবে। পুলিশে অভিযোগ করলে পুলিশ আইন অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেওয়ার তাই করবে।”
তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, দিলীপ কয়েকমাস আগে তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনে (মাধ্যমিক) সভাপতি পদে ছিলেন। সেখানেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। পরে তাঁকে সরিয়ে সুদীপ সিংহরায়কে ওই পদে বসানো হয়। বর্তমানে বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি পদে আছেন দিলীপ। শতাব্দী প্রাচীন স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় বিরক্ত প্রাক্তনীরা। এক প্রাক্তনী সত্যজিৎ সরকার বলেন, ” এই কাজের জন্য স্কুলের মান বাঁচাতে স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতির পদ থেকে তাঁকে অবিলম্বে বাদ দেওয়ার দাবি তুলছি।”