
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ তীব্র গরমে নাজেহাল অবস্থা। একটু বাতাসের জন্য হন্যে মানুষ। হাওয়া অফিসের দিকে হা করে তাকিয়ে থেকেও শোনা যাচ্ছে না কোনও গরম হাওয়া বদলের আভাস। ইলেক্ট্রনিক্স গ্যাজেটের দোকানে টান পড়ছে এসি’র। প্রত্যেক বাড়িতে বাড়িতে এসি, কুলার ছাড়াও নিদেন পক্ষে একটি ফ্যানও মাথার ওপর না ঘুরলে জিরোনোর কোনও উপায় নেই কারও। এমন হাসফাঁস অবস্থা আজকে নতুন নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে বেশ কয়েক বছর ধরেই বদলে গিয়েছে হাওয়া। আর গত পাঁচ বছর ধরে এই দহন জ্বালা বাইরে নয় বাড়ির মধ্যেই বয়ে বেড়াচ্ছিলেন আইনুল হক ও তার পরিবার।
সেই গুমোট হাওয়া বদলে দিলেন পুলিশ আধিকারিকরা। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা থানার মহম্মদপুর গ্রামপঞ্চায়েতের মাদাপুর গ্রামের। এই গ্রামের বাসিন্দা আইনুল সহ তিনটি পরিবারে গত পাঁচ বছর ধরে নেই বিদ্যুতের আলো। আইনুল হকের বাড়ির পাশে যে জমি আছে সেই জমির মালিকের বাধাতেই বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা ইলেক্ট্রিকের পোল বসাতে পারেননি। তিনি টাকা জমা দিয়েও স্বাভাবিকভাবেই বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পাননি। দিন কয়েক আগে এলাকার মানুষজনের পরামর্শে দেখা করেন ভগবানগোলার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক উত্তম গড়াইয়ের সঙ্গে।
তাঁর নির্দেশে ভগবানগোলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন আইনুল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ওসি বিশ্বজিৎ হালদার ঘটনাস্থলে যান ও বিষয়টি সরেজমিনে দেখে আসেন। পরে তাঁরা বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ ও বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা ফের আইনুলের বাড়ি যান। সেখানে তাঁর প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন ও অধরা সমস্যার সমাধান করেন। পাঁচ বছর পরে বাড়িতে বিদ্যুতের আলো জ্বলায় খুশি আইনুল ও তার পরিবার পুলিশ ও বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আইনুল বলেন, ” জমি কেনা বেচার ফলে মালিকদের বাধা দেওয়ার কারণে বিদ্যুতের খুঁটি পোঁতা যায়নি। অনেক সালিশি সভা বসিয়েও প্রধানরা কিছু করতে পারেনি। অবশেষে থানার বড়বাবুর উদ্যোগে শুধু বিদ্যুতের আলোই নয়, সাড়ে সাত ফুট রাস্তাও এখন ব্যবহার করতে পারব।”