
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতিতেও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি। যত এগিয়ে আসছে পরীক্ষা, ততই যেন টাল খাছে মনের জোর। ভরসায় অসংখ্য পরামর্শদাতার পাতার পর পাতা পরামর্শ। তাতেও জিতে আসার নিশ্চিন্ত ঘুম নেই শাসকদল তৃণমূলের চোখে। শনিবার ফের একবার রাজ্য পুলিশের শীর্ষ পদে রদবদলের পর সেই দাবিই জোরালো হলো মুর্শিদাবাদে। আইজিপি মুকেশ কুমারকে মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গীপুর থেকে সরিয়ে ফের ডিআইজি ওয়াকর রেজাকে দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে জেলার। মুকেশ কুমারকে পাঠানো হয়েছে আইবি ( ইন্টিলিজেন্স ব্রাঞ্চ)-র আইজিপি করে। আর এখানেই প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। পুলিশকে শাসকের পক্ষে দাঁড় করাতে ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছে নবান্ন, এই দাবিতে সিলমোহর দিচ্ছেন বিরোধীরাও।
শুধু পুলিশ কেন? রাজ্যে বিরোধী শিবির দূর্বল হলেও তৃণমূল তা বিশ্বাস করতে রাজি নয়। আর রাজি নয় বলেই একের পর এক কমিটি তৈরি করে নেতাদের কাছে রাখার বার্তা পাঠাচ্ছেন রাজ্য নেতারা। ঠিক যেন সেই লোহার পিঞ্জরে লখিন্দর। মুর্শিদাবাদে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে অধীর চৌধুরীর কংগ্রেসের প্রতি ঝুঁকেছে মানুষ। এ খবর জেলা পুলিশের দূর্বল ডিআইবি-র কাছেও আছে। আর তাই একের পর এক কমিটি তৈরি করে নেতাদের আসন সাজিয়ে গড় ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল, এই দাবি তুলছেন তৃণমূলেরই একাংশ নেতা।
শনিবার নতুন একটি তালিকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল। মুর্শিদাবাদের দুই সাংগঠনিক জেলার ২৬ জনকে নিয়ে নির্বাচন কমিটি তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকায় দলের তিন জন সাংসদ যেমন আছেন, তেমনি আছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কও। অথচ মাস খানেক আগে এই কমিটির কারও কারও মুখে ছিল বিরুদ্ধতার স্বর। তৃণমূলের একাংশের দাবি ছিল, তালিকায় বিধায়ক হিসেবে পরিচিতদের একাংশকে টিকিট দেওয়া হবে না। ভোট কমিটিতে তাঁদের নাম থাকায় সেই বিধায়করাই ফের প্রার্থী হতে পারেন বলে ধরে নিচ্ছেন ওই অংশের তৃণমূল নেতারা।
রাজনীতির চর্চাকারীদের একাংশের দাবি , উপযুক্ত বিরোধী দলের অভাবে রাজ্যে ফের তৃণমূল ক্ষমতায় আসলেও অন্য পথে হাঁটতে পারে মুর্শিদাবাদ। জেলার বাইশটি বিধানসভার মধ্যে বিজেপি’র হাতে থাকা দুটি বিধানসভায় এবার জনমত বদলে তৃণমূলের পক্ষে যেতে পারে। তেমনি নওদা, বড়ঞা, বেলডাঙা, ডোমকল, জলঙ্গী, রানিনগরে মানুষের মত বদলে যেতে পারে। একইভাবে উত্তর মুর্শিদাবাদের লালগোলা, জঙ্গিপুরেও শাসকের বিরুদ্ধে মত যেতে পারে বলে বিভিন্ন মহলের মত। আর ওইসব আসনগুলির অধিকাংশ জায়গায় কংগ্রেসের পক্ষে মত রয়েছে বলে দাবি রাজনীতির কারবারীদের। সেক্ষেত্রে তৃণমূলে থেকে কংগ্রেস কিংবা হুমায়ুন কবীরের জেইউপি-র পক্ষে ভোট করাতে পারেন নেতাদের কেউ কেউ।
এই খবর তৃণমূলের কাছেও আছে। এমন ঘটনার অতীতও সাক্ষী। আর তাই একের পর এক কমিটি তৈরি করে নেতাদের খুশি রাখার চেষ্টা করছেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও দলের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ অনেক তরুণ নেতা। তাঁরা কার্যত স্বপ্নভঙ্গের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। তাঁদেরই একজনের দাবি, “এ যেন লখিন্দরের ভাগ্য বদলানোর চেষ্টা। তাই লোহার কারাগার তৈরি করেছে দল, পাছে মত পাল্টে দল না পাল্টে ফেলেন প্রবীণরা।”