
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ তৃণমূলের নেতারা আজ মৃত পরিযায়ীর বাড়ি গেলেন দেখা করতে। রাস্তা পাহারা দিলেন মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের সুপার কুমার সানি রাজ। শনিবার পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার পর আজ বেলডাঙা স্বাভাবিক। সেই সময় মৃত পরিযায়ী আলাউদ্দিন শেখের বাড়ি গেলেন বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান। গতকাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন রোড শো-তে। শো শেষে গির্জার মোড়ের সভা থেকেই তৃণমূল নেতা জানিয়েছিলেন, আজ শনিবার মৃত পরিযায়ীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অলরাউন্ডার ক্রিকেটার ইউসুফ। সেই নির্দেশ পালনে তাঁর পাশাপাশি পরিযায়ীর বাড়ি গেলেন বেলডাঙার বিধায়ক হাসানুজ্জামান। পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজের নেতৃত্বে তখন পুলিশ টহল দিচ্ছে রাস্তায়।
অভিষেকের নির্দেশ মানতেই হোতো। কিন্তু নেতাদের বুকে ভয়, পাছে কিছু যদি ঘটে। ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া মানুষগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার। স্বাভাবিক ভাবেই পরিজন হারিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন মানুষজন। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গত দু-দিন বেলডাঙায়। জাতীয় সড়ক ও রেল লাইন অবরোধের জেরে দিনভর নাকাল হয়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রথম দিন পুলিশ ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিলেও পরের দিন পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। শনিবার হুমায়ুন কবীর উত্তেজিত জনতার মাঝে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ সামালানোর মরিয়া চেষ্টা চালালেও সে কথায় কান দেননি জনতা। তৃণমূলের বেলডাঙার বিধায়ক তো দূর রেজনগরের বিধায়ককেও পথে নেমে মানুষকে শান্ত করতে দেখা যায়নি। পুলিশ প্রশাসনের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে “রাজধর্ম” পালন করেছেন তাঁরা, এমনটাই দাবি বিক্ষুব্ধ জনতার।
আজ ইউসুফ পাঠান, হাসানুজ্জামানরা পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ি যান দেখা করতে। ইউসুফ পাঠান সাংসদ হলেও তাঁকে এলাকায় দেখতে পাওয়া যায় না। সেই ক্ষোভ নির্বাচনের মুখে ফুটে উঠছে। দু-দিনের বিক্ষোভেও বিক্ষোভরত মানুষ পরিস্কার জানিয়েছিলেন, ” ভোট নিয়ে চলে গিয়েছেন ইউসুফ। আমাদের হয়ে কেউ কথা বলার নেই। ভোট চাইতে এলে এবার বুঝবে তৃণমূল।” এদিন পরিযায়ীর বাড়ি যাওয়ার পথে ফের সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ দেখাতে পারেন আন্দাজ করেই আজ বেলডাঙার রাস্তায় পুলিশ টহল দিচ্ছে। আর সেই সময় মৃত পরিযায়ীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বেড়িয়ে ইউসুফ বলেন, ” আমরা পরিবারের পাশে আছি।”
তাহলে এরা জনগণের নেতা বা জনপ্রতিনীধি হলো কি ❓