
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ কান্দী, খড়গ্রাম, ভরতপুর, বড়ঞার গ্রাম দিয়ে বয়ে চলেছে বন্যার জল। বিপর্যস্ত জনজীবন। বানভাসীদের কাছে ত্রিপল সহ ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর খবর বাসি হয়ে গিয়েছে । বর্ষার জমা জলে ভেসে গিয়েছে শহর। পথে নেমে হাল ধরতে হয়েছে চেয়ারম্যান, কাউন্সিলদের। সেই জলও নেমে ফের উপছে পড়ছে নালা। এমন সময় হঠাৎ দেখা সাংসদ ইউসুফ পাঠানের। দিল্লিতে দুর্ঘটনায় মৃত নওদার এক পরিবারের চারজনের মৃতদেহ সৎকার হয়ে গিয়েছে দিন দুয়েক আগে। ভিন রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকরা ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিয়ে লুকিয়ে-চুরিয়ে যখন বাড়ি ফেরার পথ ধরেছেন প্রাণ হাতে করে, তখন তিনি এলেন বহরমপুরে গুরুবারে।
বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে তাঁর নিজের দলের নেতা সাংসদ এমনকি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পরিযায়ী শ্রমিকদের এ হেন হেনস্থার খবরে উদ্বিগ্ন, অথচ এতদিন তিনি ছিলেন পর্দার আড়ালে। দিল্লির হরিনগরে মৃত শ্রমিকদের দেহ শনাক্ত করে তাঁদের আত্মীয়দের বাড়ি ফেরার উড়ান ধরানো পর্যন্ত ছায়ার মতো ছিলেন তৃণমূলেরই তিন সাংসদ আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান, সামিরুল ইসলামরা। কিন্তু একটিবারও মৃতদের পরিবারের কেউ দেখতে পাননি তাঁকে। দেখা তো দূর, সহমর্মিতা জানিয়ে একটি ফোন পর্যন্ত শোকগ্রস্থ পরিবার পান নি সাংসদের কাছ থেকে।
হরিয়ানায় কাজ করতে গিয়ে হেনস্থা হতে হয়েছে মুর্শিদাবাদে পরিযায়ীদেরও। সে কথা সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমেও ছড়িয়ে গিয়েছে। দিল্লি থেকে হরিয়ানা ছুটে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী। ইউসুফের সহকর্মী ঈশা খান চৌধুরীও ছুটে গিয়েছেন আতঙ্কিত পরিযায়ীদের কাছে। অথচ তিনি নীরব। প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্দরেও। ” এঁরা সবাই তো ভোটার। এদের জন্যই আজ তিনি সাংসদ সে কথা ভুলে গেলে চলবে?” বলছিলেন তৃণমূলের এক জেলা নেতা। তিনি কিন্তু তাঁর জায়গায় ঠিক। বললেন ” হোম মিনিস্টারকে চিঠি দিয়েছি, বলেছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।”
কিন্তু সেই পরিযায়ীদের যদি জরুরি ভিত্তিতে সাংসদের একটি চিঠি প্রয়োজন হয় তা দেবে কে? এর উত্তরে ইউসুফ বলেন, ” দলের কার্যালয়ে সব রাখা আছে।” খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে ছাপানো কাগজপত্র আছে। কিন্তু সাংসদের কোনও প্যাড নেই। সেখানে লেখার অধিকারও আইনত কারও থাকে না। আর সেই প্রসঙ্গ তুলতেই তৃণমূলের জেলা নেতা তাঁকে পরিযায়ী বলে আখ্যা দেন।
সরকারের নয়া কর্মসূচি “আমার পাড়া আমার সমাধান” শিবিরে গেলেন লিপিকা মেমোরিয়াল স্কুলে। কথা বললেন পুরকর্মচারী প্রতিনিধি সকলের সঙ্গে। বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় তাঁকে চিনিয়ে দিচ্ছিলেন কোথায় কী। পেশাদার ক্রিকেটারকে তখন ঘিরে রয়েছেন তৃণমূল নেতা আইজুদ্দিন মন্ডলরা। কিন্তু সাংসদ যখন সেই শিবিরে পা রেখেছেন সরকারের নয়া কর্মসূচিও বহরমপুরে তখন পঞ্চাশে পা দিয়েছে। সেই শিবিরে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের প্রতিই বিতশ্রদ্ধ এক কর্মী বললেন, “মানষ বড় একলা। তার পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই।”