
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ বসন্তের হাওয়া হঠাৎই গরম হয়ে উঠেছিল রাজ্যে। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক ছিল পুলিশও। তবু সংঘর্ষ এড়ানো যায়নি বীরভূমের সাঁইথিয়ায়। সেখানে অশান্তির আগুন ছড়িয়ে পড়তে যাতে না পারে তাই ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে ১৭ মার্চ পর্যন্ত। কিন্তু দোলকে কেন্দ্র করে ঠিক তার বিপরীত ছবি দেখা গেল পাশের জেলা মুর্শিদাবাদে।
যে আবির খেলাকে কেন্দ্র করে বীরভূম সংবাদে ঠাঁই পেয়েছে, দলবল নিয়ে সেই আবির খেললেন বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। নবাবি আমল থেকেই মুর্শিদাবাদে দু’দিন ধরে রঙ খেলা হয়। সেই রীতি বছরের পর বছর চলতে চলতে আজ তা নিয়মে পরিণত হয়েছে। রঙ খেলার দ্বিতীয় দিন সমস্ত কাউন্সিলরদের নিয়ে সেই দোল উৎসবে মাতলেন নাড়ুগোপাল। অথচ দলেরই একাংশ নেতা অশান্তির হাওয়ায় রঙ খেলতে দ্বিধাগ্রস্থ ছিলেন।
স্থানীয় রতন শিশু উদ্যানে অনুষ্ঠিত সেই উৎসবে হাজির ছিলেন পুরকর্মীদের একাংশও। কাউন্সিলরদের কেউ কেউ গানের তালে তালে নাচও করলেন। বহরমপুর জে এন একাডেমি লাগোয়া ওই শিশু উদ্যানে আলাদা মঞ্চও তৈরি করা হয়েছিল। পদাধিকারীর বেড়া ভেঙে মঞ্চ থেকে নেমে আবির মাখলেন, মাখালেনও পুরপ্রধান। শিশুদের ভিড়েও মিশলেন। আব্দার মিটিয়ে তুললেন সেলফিও।
সংস্কৃতির শহর বহরমপুর বরাবরই ব্যতিক্রম। গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল বহরমপুর আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে। সেই জয়ের উদযাপনেও গত বছর এই রতন শিশু উদ্যানে আয়োজিত দোল উৎসবে হাজির ছিলেন নব নির্বাচিত সাংসদ ইউসুফ পাঠান। কিন্তু নির্বাচনে জিততে জনসংযোগই একমাত্র মত ও পথ। সেই জনতার মতকে সম্মান দিতেই গত বছরের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তার তুলনায় এবারের উৎসব বহরে ছোট। ছিলেন না ইউসুফও।
বহরমপুর বিধানসভা আসনটি এখনও তৃণমূলের পক্ষে মাথা নাড়েনি। বিজেপি ওই আসনটি কংগ্রেসের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে ২০২১ এ। আগামী নির্বাচনের দেরি বলতে একটা বছর। তৃণমূল দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, একদিন নয়, বছরভর মানুষের সঙ্গে থাকতে হবে। তাদের ভাল মন্দের সঙ্গে মিশে থাকতে হবে দলেরই স্বার্থে। আর সেই জনসংযোগের অন্যতম হাতিয়ার উৎসব। জনমতকে কৌশলে পক্ষে টানার কাজটিই নাড়ুগোপাল এদিন করেছেন।
একদিনই নয়। বহরমপুর পুরসভার কোনও কোনও ওয়ার্ডে বসন্ত উৎসব আগেই পালিত হয়েছে। সেখানেও তিনি হাজির ছিলেন। রমজান মাসে সেই অনুষ্ঠানেও ছিল সুস্থ সংস্কৃতির বার্তা। এমনকি তাঁরই কাউন্সিলর ভীষ্মদেব কর্মকার শুক্রবার নামাজ পড়তে আসা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হাতে ফিরনি (পায়েস বিশেষ) তুলে দিয়েছেন, সম্প্রীতির বার্তা পাঠাতেই। তবে পরীক্ষার মরশুমে শহরে মাইক বাজিয়ে অনুষ্ঠান করায় আপত্তি তুলেছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু পুলিশ বলেছে, মাত্রা ছাড়ায়নি কোথাও।