সংবাদ প্রতিনিধি, মুর্শিদাবাদঃ ‘নজরুলের সৃষ্টিতে বিপ্লবের বারুদ’ শীর্ষক বিতর্কমূলক আলোচনা সভা হয়ে গেল বহরমপুরে। শনিবার ইন্দ্রপ্রস্থ এলাকার একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল কপিল ও আলপনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কাব্য ও কথা’ সংস্থার পক্ষে থেকে।
আলোচক হিসেবে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাবন্ধিক মইনুল হাসান (ভূতপূর্ব সাংসদ, রাজ্যসভা), অধ্যাপক মানবেন্দ্রনাথ সাহা ( বিভাগীয় প্রধান, বাংলা বিভাগ, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়), সায়ন্তন মজুমদার ( বিশিষ্ট গবেষক ও প্রাবন্ধিক), অধ্যাপক আকমল হোসেন ( ঢাকা বাংলাদেশ)। আর এক অধ্যাপক পাঁচথুপী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান শৈবাল রায় ছিলেন সঞ্চালনার দায়িত্বে।
এ বাংলায় বারবার কবি নজরুল ইসলামের সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা হয়েছে। এখনও হয়। ওপার বাংলাতেও গবেষকরা খুঁজে চলেছেন নজরুলের সৃষ্টির নানান দিক। এদিনের আলোচনাতেও উঠে এল বিদ্রোহী কবির আরও একটি দিক।
আরও পড়ুনঃ খড়গের ডিগবাজি
কবির ব্যক্তি জীবন ও রোমান্টিক দ্বন্দ্বের পারস্পরিকতার সূত্র ধরে আলোচনা করেন মানবেন্দ্রনাথ। নজরুলের বাংলাদেশ যাওয়া, সে বিষয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ও কবির নাগরিকত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে সঞ্চালক শৈবাল রায় জানতে চাইলে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তার উত্তর দিয়েছেন মইনুল। আলোচনা সভাতেই নজরুল ইসলামের আদর্শ ধারণ করে সাম্প্রদায়িক সংকটের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কীভাবে লড়াই করছে জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের অতিথি আকমল । সায়ন্তন তরুণ গবেষক, তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল নজরুল কে নিষিদ্ধ করার আইনি এবং সামাজিক খুঁটিনাটি বিষয়ে। এদিনের আলোচনার আয়োজন দর্শক ও অতিথিদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
একটা সময় পরে সভার আলোচনা শেষ হয়ে গেলেও তার রেশ থেকে গিয়েছিল তারপরেও। বহরমপুরের দুই স্বনামী অধ্যাপক মৃণালকান্তি চক্রবর্তী ও শক্তিনাথ ঝা, কলকাতা থেকে আগত অধ্যাপক রুণা চট্টোপাধ্যায়, আন্দামান থেকে পৌঁছে যাওয়া অধ্যাপক জ্যোতির্ময় রায়চৌধুরী, সাংবাদিক চয়ন ভট্টাচার্য, সন্দীপন বিশ্বাস, কাজী গোলাম গাউস সিদ্দিকী, অধ্যাপক প্রবাল মজুমদার বেশ রাত অবধি জমিয়ে তুলেছিলেন উত্তর আলোচনা পর্ব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলামের আত্মজনও। তাঁদের দাবি, ‘কবিকে নিয়ে এই সব বিতর্কিত বিষয়ে আলোচনা কেউ করে না। এরা করলেন। মানুষের এগুলো জানা দরকার।’