প্রদীপ খুনে ধৃত এক আততায়ী, মাথার খোঁজে জেরা

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ যারা চাপ দিয়ে তাকে এই কাজ করিয়েছে তাদের কথা সব পুলিশকে সে বলেছে। আদালত থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে পরিষ্কার দাবি প্রদীপ দত্ত খুনের অন্যতম শ্যুটার আকাশ দত্তের। তাতেই ফের জোরালো হল সেই খুনে তৃণমূলের এক রাঘব বোয়াল জড়িত থাকা তত্ব। আকাশের বাড়ি বহরমপুর থানার গোয়ালজান নিয়াল্লিশপাড়া এলাকায়। জেলা পরিষদের সদস্য তথা ভাগীরথীর ওপারের ওই এলাকায় শাসকদলের অন্যতম নেতা রাজীব হোসেন অবশ্য আকাশকে চেনেন না বলেই এদিন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ” কে চাপ দিয়ে এই কাজ তাকে দিয়ে করিয়েছে সেটা পুলিশ বলতে পারবে। আমি একে চিনি না। তবে এর আগে যে বুবাই দাসকে পুলিশ এই ঘটনায় গ্রেফতার করেছে তাকে চিনতাম।”

ঘটনার পরে সিসিটিভি ফুটেজেই পুলিশ চিনেছিল আততায়ী কে? কিন্তু সেসব সামনে আসার আগেই দু-জন দুষ্কৃতি দু-দিকে পালিয়ে যায়। একজনের ফোন ট্র্যাক করে পুলিশ তার গতিবিধি নজরে রাখছিল। সেইমতো পথ মেপে বহরমপুর থানার পুলিশ আকাশ দত্ত নামে বছর ২৭ -এর ওই যুবককে গ্রেফতার করে। প্রসঙ্গত, গত ১৬ অক্টোবর প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে বহরমপুর থানার রাধারঘাট-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন নাথপাড়ার মোড়ে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন প্রদীপ। সেই হিসেবে আকাশ, প্রদীপের পাশের পাড়ার বাসিন্দা।

খুনের পর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি মোটরবাইকে করে দু’জন দুষ্কৃতি এসে গুলি চালিয়ে খুন করে পালিয়ে যায়। ধৃত আকাশ ওই দু’জনের মধ্যে এক জন, যে মোটরবাইক চালিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরেই আকাশ উত্তরপ্রদেশে পালিয়ে গিয়ে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল উত্তরপ্রদেশ গিয়ে গত ৩১ অক্টোবর আকাশকে গ্রেফতার করে।

বহরমপুর থানার ওই বিশেষ পুলিশ দল ধৃত ব্যক্তিকে শুক্রবার রাতেই বহরমপুর নিয়ে চলে আসে। এর পরে শনিবার মুর্শিদাবাদ সিজেএম আদালতে ধৃত ব্যক্তিকে হাজির করানো হলে বিচারক সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন সকালে প্রদীপ খুন হওয়া ইস্তক সুপারি কিলারের প্রসঙ্গ উঠেছিল একাধিক মহলে। ঘটনার ৪৮ ঘন্টা পরে পুলিশ বুবাই দাস নামে এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছিল। সে এই ঘটনায় ইনফর্মারের ভূমিকায় ছিল বলে দাবি পুলিশের।

তবে প্রদীপ খুনে ধৃত দুই ব্যক্তির এর আগে পুলিশের খাতায় অবশ্য নাম নেই। স্বাভাবিকভাবে সুপারি নিয়ে খুন করার মতো কাজে কবে থেকে হাত পাকাল আকাশ সেই হিসেবও আপাতত পুলিশের কাছে নেই। যদিও পুলিশের কাছে সে সুপারি নিয়ে খুন করেনি বলেই জানিয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাজিদ ইকবাল খান। তিনি বলেন, ” ও বলছে যে আসল শ্যুটার সে সুপারি নিয়েছে। ও এই খুনে সাহায্য করেছে মাত্র।” যদিও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মূল অভিযুক্তের পিস্তল প্রাথমিকভাবে কাজ করেনি। তখন প্রথম গুলি চালিয়েছিল বাইক চালক আকাশই। এদিকে আকাশের চাপ দিয়ে খুন করানোর দাবি কতটা প্রাসঙ্গিক না কি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা তা জেরা করে জানতে মরিয়া উর্দিধারীরা। একইসঙ্গে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার মাথাও ছুঁতে চাইছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights