
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ সোমবার থেকে শুরু হবে এবছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা। আর মাত্র দু’দিন। মুর্শিদাবাদ জেলায় এবছর মোট ৯৪ হাজার ৪৪৮ জন মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। তারমধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৪১ হাজার ৬৯৫ জন আর ছাত্রীর সংখ্যা ৫২ হাজার ৭৫৩ জন। অথচ এখনও হাতে অ্যাডমিট কার্ড পায়নি মাঝেরপাড়া কুমারীশ চন্দ্র হাইস্কুলের এক পরীক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বজন কুমার ঘোষ বলেন, ” একজন ছাত্রীর নামের গন্ডগোলের জন্য সে অ্যাডমিট কার্ড পায়নি।” তবে পরীক্ষার আগে তার হাতে অ্যাডমিট কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ওই প্রধান শিক্ষক।

শুধু মুর্শিদাবাদের এই স্কুলই নয়। রাজ্যের বহু স্কুলের ভুলের খেশারত দিতে হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের। অন্তত কলকাতা হাইকোর্টের এমনই পর্যবেক্ষণ। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছ’টা থেকে শুক্রবার বেলা দুটো পর্যন্ত মধ্যশিক্ষা পর্ষদ তাদের পোর্টাল খুলে রাখবে। সেখানে নিজেদের স্কুলের পড়ুয়াদের অ্যাডমিট কার্ডের জন্য ফের আবেদন করবে স্কুলগুলি। শনিবার ও রবিবার বেলা দুটোর মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহ করতে পারবে তারা।
তবে তারজন্য কলকাতা হাইকোর্ট স্কুলগুলিকে লেট প্রসেসিং ফি-র পাঁচ হাজার টাকা সহ মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। ওই ফি জমা না দিলে স্কুলগুলি অ্যাডমিট কার্ড পাবে না বলেও কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি বসু। কোর্টের নির্দেশ মেনে পর্ষদ একটি পাবলিক নোটিশ নিজেদের ওয়েবসাইটে আপলোডও করেছে।
হাইকোর্টের সেই নির্দেশ মেনে ওই প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবেই জরিমানার অর্থ পর্ষদকে জমা দিয়ে কাল শনিবার ওই ছাত্রীর অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে আসবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ” নাম ও বাবার নাম একই হয়ে যাওয়ায় এই বিভ্রাট ঘটেছে। আমি ওই পড়ুয়াকে ডেকে চিন্তা করতে বারণ করেছি। তাকে ডেকে আগে কথাও বলে এসেছিলাম। আজ স্কুলে এসেছিল। ফর্মের নির্দিষ্ট জায়গায় সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে। অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে ওর বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসব।” যদিও পর্ষদের এনরোলমেন্ট ফি জমা দেওয়ার চালান অনুযায়ী স্টেশনারী ফি ৩৫ টাকা আর লেট ফি একশো টাকা। সেই টাকা এক ধাক্কায় পাঁচ হাজার হয়ে যাওয়াকে শাস্তি হিসেবেই দেখছেন ওয়াকিবহাল মহল।