পাচারের টাকায় কোটি টাকার প্রাসাদ ! নোটিশ ধরাল মুর্শিদাবাদ পুলিশ

Social Share
আবদুস রজ্জাক মোল্লা ওরফে রজ্জাক মোল্লার বাড়ি

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ পদ্মা তীরের ডোমকল, রানিনগর, জলঙ্গি তিনটি থানা এলাকায় তিনটি প্রাসাদ তুল্য বাড়িতে শনিবার মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছে। বাড়ির মালিকদের পুলিশ জানিয়েছে ওই বাড়ি আপাতত ব্যবহার করলেও কোনওভাবেই তারা এই সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবে না। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই তিনটি বাড়ির মালিক বাড়ি তৈরির জন্য অর্থ কোথা থেকে পেয়েছেন তা জানাতে পারে নি। পুলিশ মালিকদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা (NDPS act 1985) রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

রানিনগর থানার সাইবুর ইসলাম চৌধুরী, ডোমকলের আবদুস রজ্জাক মোল্লা, জলঙ্গির আনিউল হক মন্ডল তিন জনের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ ফ্লেক্স টাঙিয়ে এলাকাবাসীর কাছেও বিষয়টি জানিয়ে এসেছে। পুলিশের খাতায় মাদক পাচারকারী হিসেবে ওই তিনজনেরই নাম আছে। পুলিশের অনুমান সেই পাচারের টাকাতেই এই তিনটি বাড়ি তৈরি করেছে, যা বেআইনি।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুসারে, সাইবুর ইসলাম চৌধুরী ওরফে শুভ চৌধুরীর বিলাসবহুল বাড়ির বর্তমান বাজার দর ৩.৩৬ কোটি টাকা। ডোমকলের আলিনগরের বাসিন্দা আবদুস রজ্জাক মোল্লা ওরফে রজ্জাক মোল্লার বাড়ির বাজার মুল্য ৭৩ লক্ষ টাকা। জলঙ্গির আনিয়ুল হক মন্ডলের বাড়ির বাজার মুল্য ৩৬ লক্ষ টাকা। তিন থানার পুলিশ তিনজনকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চালিয়ে যেতে উদ্যোগী হন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লালবাগ) রসপ্রীত সিংও। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আয়ের কোনও বৈধ নথি জমা দিতে পারে নি অভিযুক্তরা। তেমনি বাড়ি তৈরির অর্থ কোথা থেকে এসেছে তারও হদিস পুলিশকে জানাতে না পারায় পুলিশ ওই সম্পত্তি বেআইনি বলে ঘোষণা করেছে।

সীমান্ত ঘেঁষা এই তিন থানার একাংশ মানুষ পাচার কাজে যুক্ত। আপাতত গবাদি পশু পাচারে রাশ টানা গেলেও বাংলাদেশে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ বা ফেনসিডিল পাচারের কাজে তাঁরা যুক্ত থাকেন। অনেকের আয়ের উৎসও এই পাচার। তাছাড়াও পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে চোরাপথে বাংলাদেশে যেমন চোরাই সামগ্রি পাচার হয় তেমনি এদেশেও হাত বদল করে আসে ওদেশের সামগ্রি। আর সেই আয় বেআইনি। অথচ ওই টাকা দিয়েই তিন অভিযুক্ত নিজেদের এলাকায় এই প্রাসাদ বানিয়েছে বলে অনুমান পুলিশের।

৪৫ দিন পরে এই মামলার শুনানি হবে এনডিপিএস কোর্টে। সেখানেই এই সম্পত্তির ভবিষ্যৎ ঠিক হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। তবে এই পদক্ষেপে পাচার কাজে যুক্ত এলাকার অন্য বাসিন্দারা সতর্ক হবে বলে মনে করছে পুলিশ। পুলিশ কর্তাদের অনুমান, স্বাভাবিকভাবেই পাচার কাজ ছেড়ে আয়ের অন্য উৎস খুঁজলে একদিন তা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights