সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতাঃ লোকসভা নির্বাচনের আবহে শুক্রবার রাজ্য জুড়ে রাজনীতির মঞ্চে নানান দৃশ্য প্রত্যক্ষ করলেন রাজ্যবাসী। কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসক দলের নেতারাই থাকলেন মুখ্য ভূমিকায়। কোথাও মান-অভিমানের দৃশ্য, কোথাও আবার শোনা গেল ‘বজ্র নির্ঘোষ’।
পূর্ব ঘোষণা মতো শুক্রবার দু’দিনের কর্মসূচিতে রাজ্যে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ আরামবাগের সভা শেষে রাজভবনে তিনি রাত্রিবাস করবেন। শনিবার যাবেন কৃষ্ণনগরে দলের হয়ে নির্বাচনী সভা করতে।
প্রত্যাশামতো রাজ্যে এসে প্রথম দিনের দলীয় সভা থেকে রাজ্যের শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন নরেন্দ্র মোদি। সন্দেশখালি থেকে একশো দিনের কাজ কোনও কিছুই বাদ ছিল না আরামবাগে তাঁর ভাষণ সূচিতে। তবে বিজেপি নেতা হিসেবে আরামবাগে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যেভাবে তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মোদি, তাঁর পাল্টা রাজনৈতিক বক্তব্য এদিন তৃণমূলের নেতাদের মুখে অবশ্য তেমন শোনেন নি বঙ্গবাসী।
এমনিতেই বৃহস্পতিবার রাত্রি থেকে গুমোট ওয়েদার তৃণমূলের অন্দরে। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কুনাল ঘোষ। অন্য মুখপাত্ররাও তেমন ‘সাহস’ দেখাতে এগিয়ে এলেন না কেন? এমন প্রশ্ন ছুড়ে মিচকি হাসছেন তৃণমূলেরই উত্তর কলকাতার এক সিনিয়র নেতা। তাই আর তেমন জোড়ে আওয়াজ শুনতে পান নি কেউ, দাবি ওই নেতার।
ওই বৃহস্পতিবার বিকেলেই মন খারাপের সুর শোনা গিয়েছিল দমদমের সাংসদ সৌগত রায়ের কন্ঠে। বরানগর পুরসভার এক অনুষ্ঠানে তিনি সংশয় প্রকাশ করে বলেছিলেন, “আমার সাংসদ পদে ১৫ বছর পূর্ণ হতে চলল। এরপর কী হবে আমি জানি না। দল কাকে মনোনয়ন দেবে, যদি আমায় দেয় আমি জিততে পারব কি না, এগুলো সবই অনিশ্চয়তা।”
এসব শুনে মুর্শিদাবাদে দলের জেলা কার্যালয় বহরমপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, “তৃণমূল দলের অবস্থা খারাপ। তৃণমূল দল দূর্বল তাই বারোটা বাজবে এবার। আর আমরা সেটা জানিও।”
এমন রাজনৈতিক ঘনঘটায় শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ফাইল হাতে করে প্রধান মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে রাজভবন গিয়েছিলেন। তার আগে অন্ডালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে হেলিপ্যাডে হাজির ছিলেন মন্ত্রী মলয় ঘটক। রাজভবন থেকে বেড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন প্রোটোকল অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাজভবনে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। বলেন, ” যেহেতু নির্বাচন ঘোষণা হয়নি তাই রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এলে সাক্ষাৎ করা মুখ্যমন্ত্রীর প্রোটোকলের মধ্যেই পরে। সেই কারণেই আমি রাজভবনে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তবে রাজ্য বা রাজনীতির চেয়ে গল্পই বেশি হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। “
সন্দেশখালির মানুষজন অবশ্য প্রত্যাশা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তাঁদের কাছে একবার যাবেন। যদিও সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি তাদের। গত মাস দুয়েকে মুখ্যমন্ত্রীও যান নি ওই অঞ্চলে। স্বাভাবিকভাবেই এদিন সন্দেশখালির বাসিন্দারা হতাশা লুকোতে পারেননি।