
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ রণক্ষেত্র প্রস্তুত ছিলই। সেখানে ঘি এর ভূমিকা পালন করেছে ফর্ম ৭। তাতেই হুলুস্থুল বাঁধল মুর্শিদাবাদ বিধানসভায়। যা তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি শাওনি সিংহরায়ের বধ্যভূমি বলে পরিচিত। নির্বাচনী হাওয়া ওঠা ইস্তক হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া শাওনি মাটি কামড়ে সেখানেই পড়ে আছেন। ঘরের শত্রুদের মোকাবিলা করে ব্যাকফুট থেকে ফ্রন্টফুটে ফিরেছেন। আত্মবিশ্বাস দেখাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোড শো-তে যোগ দিতে এসেছেন হুড খোলা গাড়ি চেপে। সেই আত্মবিশ্বাসে ভর করেই নবাব নগরীতে সোমবার অগ্নিকাণ্ড বাঁধিয়ে দিলেন দলবল নিয়ে। দূর থেকে মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান, কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার, মুর্শিদাবাদের শহর সভাপতি ইন্দ্রজিৎ ধররা দেখলেন এভাবেও ফিরে আসা যায়।
বিজেপি খসড়া তালিকা খুঁজে ‘বেছে বেছে’ ফর্ম ৭ পূরণ করে নিয়ে আসছে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে। আগেই সে খবর ছিল শাসকের কাছে। তাই মুর্শিদাবাদ থানার দুঁদে দারোগা রাজা সরকারের নেতৃত্বে পুলিশও প্রস্তুত ছিল। যাদের নাম বাদ দেওয়ার কথা বলতে এসেছে গেরুয়া শিবির, তাদের অধিকাংশই না কি তৃণমূলের ভোটার, এমনটাই দাবি তৃণমূলের। পাল্টা জবাব দিতে এদিন তাই মারামারিতেও সায় ছিল ঘাসফুল শিবিরের।
মুর্শিদাবাদ মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের চৌহদ্দিতে দাউদাউ করে জ্বলছে কাগজ। ততক্ষণে ইটের আঘাতে ভেঙে চুরে গিয়েছে বিজেপি’র জেলা সভাপতির গাড়ি। হৈচৈ চিৎকার চেঁচামেচি করে লোক জড়ো হতে না হতেই আইসি’র বিরুদ্ধে মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি’র কর্মীরা। শাওনির নেতৃত্বে পুলিশকে সাক্ষী রেখে বিজেপি’র জমা দেওয়া পঁচিশ থেকে তিরিশ হাজার ফর্মে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। কেউ কেউ তা উস্কে দিয়ে আরও কিছুক্ষণ জ্বালিয়ে রাখতে চাইলেন আগুনের শিখা। তার সামনে দাঁড়িয়ে মনে মনে আজ ফিরে আসার শপথ নিলেন ডোমকলের মেয়ে? তৃণমূল মন খুলে বলতে না চাইলেও পুলিশ এমনকি বিরোধীদের একাংশ দাবি করলেন বিজেপি’র জমি কেড়ে নিতে পেরেছেন এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক।
দু-পক্ষের মল্লযুদ্ধের মাঝখানে ছাই হয়ে আসা ফর্ম সেভেনের সামনে দাঁড়িয়ে দলের পক্ষে শ্লোগান দিয়ে শাওনি বললেন, ” ওরা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে, মানুষকে হয়রান করতে ফর্ম সেভেন জমা দিতে এসেছিল। মানুষের আকুতি শুনে আমরা এখানে এসে হাজির হয়েছিলাম। ফর্ম ছিনিয়ে নিয়ে তা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।” তা বাধা দিতে আসেনি কোনও পুলিশ। কিংবা মহকুমা শাসক। বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ পিছু হটে দাবি করলেন, ” উনি মুসলমানের বন্ধু সাজার চেষ্টা করছেন। পুলিশ, মহকুমা শাসক সকলে তৃণমূলের দলদাস। এরা থাকলে এখানে স্বচ্ছ নির্বাচন হবে না।”