খাগড়া ভৈরবতলার মাঠে কীর্তনের আসর হয়ে উঠেছে মিলন মেলা

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভৈরবতলার বাণীভবন ঐক্য সম্মিলনীর মাঠে কীর্তন শুনতে ভীড় করলেন বহরমপুর তো বটেই তার আশেপাশের মানুষজনও। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মহানাম যজ্ঞ মহোৎসবের আয়োজন করেছে হরিনাম সংকীর্তন সমিতি। সেই উপলক্ষেই ভৈরবতলার মাঠে বসেছে কীর্তনের আসর। গত সাতদিন ধরে সেখানে নামী শিল্পীদের পরিবেশিত কীর্তন শুনতে আসছেন মানুষজন। শনিবার এই উৎসবের শেষ দিন। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বহরমপুরে দফায় দফায় বৃষ্টিপাত হলেও ধর্মপ্রাণ মানুষজনের ভিড় উৎসবের চেহারা নিয়েছে।

বহরমপুরের প্রাচীন জনপদ খাগড়া। যে কোনও ধর্মীয় উৎসব এখানে ঐতিহ্যের। ৪৩ বছর আগে এই মহানাম যজ্ঞ মহোৎসবের সূচনা হয়েছে। সময় বদলেছে, মানুষজনের রুচি পাল্টেছে বদলেছে হরিনাম সংকীর্তন সমিতিও। চেহারা বদলেছে ঐতিহ্যেরও। খাগড়া এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা সুকমল বাগচী স্মৃতি হাতড়ে বললেন ” যাঁরা সেই সময় উদ্যোগী হয়েছিলেন এই মহাযজ্ঞের আয়োজনে আজ তাদের অনেকেই বেঁচে নেই।” পুরনো ধারা মেনে গত শনিবার জন্মাষ্টমীর পুজোও হয়েছে এখানে। দুদিন পরিবেশিত হয়েছে গৌরাঙ্গলীলা ও কৃষ্ণলীলা। আজ শনিবার ধুলোট কীর্তনে অংশ নেবেন এলাকাবাসীও। শুধু সাধারণ মানুষ নন, শাসক বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও অবসরে ঢুঁ মেরে যান উৎসবে।

ধর্মীয় বিভেদের বিষ ছড়িয়ে পড়ছে সমাজে। সেই সময়েও সর্বধর্ম সমন্বয়ের মিলন উৎসব হয়ে ওঠে এই মহানাম যজ্ঞ মহোৎসব। সুকমল বলেন, ” এই উৎসব কখনও হিন্দু মুসলমানে ভাগ হয়নি। মূলত চাঁদা সংগ্রহ করেই প্রত্যেক বছর এই উৎসব হয়। মুসলিম গ্রামেও চাঁদা তুলতে যাওয়া হয়। তাঁরা তা প্রণামী হিসেবেই দিয়েছেন।”

হরিনাম সংকীর্তন সমিতি বর্তমান সম্পাদক অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন ” প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে পুরুষ মহিলা নির্বিশেষে এই উৎসবে আসেন কীর্তন উপভোগ করতে, কেউ আসেন ধর্মভক্তি থেকে।” এই উৎসবে প্রথম থেকেই রাজ্যের দিকপাল কীর্তনীয়ারা কীর্তন শুনিয়ে গিয়েছেন। পালাকারদের সাম্মানিকও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। তবুও মানুষজনের সাহায্যে সেই সব খরচও জোগাড় হয়ে যায় বলে দাবি করলেন অভিজিৎ। তাঁর দাবি, ” কলকাতা, বীরভূম, নদিয়ার কীর্তনীয়ারা মুখিয়ে থাকেন এই উৎসবের দিকে।”

·

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights