সংবাদ প্রতিনিধি, বহরমপুরঃ গাড়ি চাপা দিয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগে উঠল জেলা পরিষদের এক তৃণমূল সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বহরমপুর থানার পুলিশ ওই নেতার ছেলেকে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ বহরমপুর জজকোর্ট এলাকায়।
বহরমপুর থানা সূত্রে জানা যায়, জেলা পরিষদের সদস্য তৃণমূলের আশা বিবির কলেজ পড়ুয়া ছেলে রাইহান শেখের বিরুদ্ধে বহরমপুর থানায় অভিযোগ করে ফরাক্কার বাসিন্দা শামিম শেখ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৯ ধারায় ৩(৫) উপধারায় (সাবেক ৩০৭ ধারা, খুনের চেষ্টা) মামলা রুজু করে তদন্তে নামে বহরমপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় বৃহস্পতিবার। গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তের এক সঙ্গীকেও। শুক্রবার তাঁদের আদালতে তোলা হলে সঙ্গী জামিন পেলেও মূল অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে পাঠায় আদালত। চার দিনের পুলিশ হেফাজত শেষে সোমবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। যদিও এফআইআরে অভিযুক্তের নাম নেই।

পুলিশ ও একাধিক সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী শামিমকে অভিযুক্ত আগে থেকেই চিনত। তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক বিবাদ গড়ায় হাতাহাতিতে। অভিযুক্ত আশা বিবির ছেলে কলকাতার একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পড়ুয়া। বাড়ি এলে তাঁর বাবার দামি গাড়ি নিয়ে বেড়নোই অভ্যেস। পুরনো শত্রুতার জেরে গত বুধবার সেই গাড়ি চালিয়ে অভিযোগকারী শামিমকে জজ কোর্ট এলাকায় চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে সে। সূত্রের দাবি, চালচলন থেকে কথাবার্তা সবেতেই ক্ষমতা জাহির করাই অভ্যেস আশা বিবির ছেলের। এই ঘটনাও তারই ইঙ্গীত বহন করে বলে দলের একটি সূত্রের দাবি। এর আগে ২০২১ সালেও এক টোটো চালককে মারধরে নাম জড়িয়েছিল রাইহানের। সেবার ভাকুড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের বর্তমান উপপ্রধান বিপ্লব কুন্ডু প্রতিবাদ করে। দু-পক্ষের মারামারি হয়। হাসপাতালে দিন পনের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল আশার ছেলে।
যদিও এদিন অভিযুক্তের হয়ে থানায় সওয়াল করতে গিয়েছিলেন বহরমপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আইজুদ্দিন মন্ডল। বিষয়টি শুরু থেকেই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় দলের পক্ষ থেকে। যদিও তাতে লাভ হয়নি। আইজুদ্দিন যদিও বিষয়টি জানেন না দাবি করে বলেন, “আমি থানায় গিয়েছিলাম ঠিকই। তবে অন্য একটি সমস্যা নিয়ে গিয়েছিলাম।” আশা বিবির স্বামী সারজু শেখ তৃনমূলের জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য। এদিন সারজু বলেন, “বাচ্চা ছেলে। নিজেদের মধ্যে ঝামেলা করে এসব করেছে। বিষয়টি মিটেও গিয়েছে। এরমধ্যে দলকে টানবেন না। দলের সঙ্গে কোনও যোগ নেই।” যদিও শনিবার বহরমপুর থানায় এসে লক আপে থাকা ছেলের সঙ্গে দেখা করে রাত দশটা নাগাদ সস্ত্রীক থানা ছাড়েন সারজু।