সংবাদ প্রতিনিধি, মুর্শিদাবাদঃ টানা দু’বছর সাত মাস থানা থেকে আদালত ঘুরে অবশেষে ক্লিনচিট পেলেন হিমাদ্রী চৌধুরী। কৃষ্ণনাথ কলেজ স্কুলের এই প্রধান শিক্ষক শনিবার কাজে যোগ দিলেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নির্দেশেই।
করোনাকালে লকডাউনের অন্ধকারে স্কুল কতৃপক্ষের অগোচরে স্কুলের অর্থ নয়ছয় করেছিলেন হিমাদ্রী। এই অভিযোগ তুলে স্কুলের একাংশ শিক্ষক ও তৎকালীন স্কুল পরিচালন সমিতি তাঁর বিরুদ্ধে সরব হন। শিক্ষাভবন ছুঁয়ে বহরমপুর থানা হয়ে সেই জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট অবধি। শোরগোল পড়ে যায়, রাজ্য জুড়ে। সাসপেন্ড হন প্রধান শিক্ষক।মুখ পোড়ে মুর্শিদাবাদ জেলার শতাব্দী প্রাচীন স্কুলের, দাবি প্রাক্তনীদের।
মামলার শুনানি শেষে ২০২২ সালের এপ্রিলে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে স্কুলে কাজে যোগ দেন হিমাদ্রী। কিন্তু থেমে না গিয়ে স্কুল পরিচালন কমিটি হাইকোর্টের নির্দেশের বিরোধিতা করে ডিভিসন বেঞ্চে যায়। দু’পক্ষের শুনানি শেষে ডিভিসন বেঞ্চ বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেয় মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে।
কিন্তু ফের বাঁক নেয় মামলা। সূত্রের দাবি, অভিযোগ ওঠে পর্ষদের তদন্ত নির্দেশের অপেক্ষা না করে মামলা চলাকালীন জেলার অন্য একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে মিউচুয়াল ট্যান্সফারের তোড়জোড় শুরু করেছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। আবার মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। দাবি, আদালতের নির্দেশে ভেস্তে যায় দু’পক্ষের সন্ধি। হিমাদ্রী ব্যতিত অন্য প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনে জেলার অন্য শিক্ষকের সঙ্গে মিউচুয়াল ট্রান্সফারের পরামর্শ দেয় আদালত।
একইসঙ্গে পর্ষদকে হিমাদ্রী চৌধুরীর অভিযোগের তদন্ত ভার দেওয়া হয়। জেলাশাসক, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক ও অডিটর দিয়ে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পুনরায় তদন্ত করে পর্ষদ। সেই রিপোর্ট জমা পড়ে পর্ষদে। তার ভিত্তিতেই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের সাসপেন্ড তুলে নিয়ে চলতি মাসের দশ তারিখ তাঁকে বিদ্যালয়ের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়।

কাজে যোগ দিয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, “স্কুলের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখাই আমার এখন প্রাথমিক লক্ষ্য।” বিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সংগঠনের সম্পাদক অনির্বাণ দাস বলেন, “আদালতের নির্দেশ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের বলার এক্তিয়ার নেই। প্রাক্তনী হিসেবে চাই আমাদের স্কুলের হারানো মর্যাদা ফিরে আসুক। আগামীতে এই স্কুল জেলা তথা রাজ্যের সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাক এই আশা করব।”
আরও পড়ুনঃ ওড়িশায় রাজ্যপাল পুত্রের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ খোদ রাজভবন কর্মীর