“মুর্শিদাবাদ অবহেলিত, দল চালায় কলকাতার নেতারা”- হুমায়ুন

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ সংবাদমাধ্যমের সামনে দল বিরোধী মন্তব্যের জেরে ভরতপুরের বিধায়ককে শো-কজ নোটিশ ধরাল তৃণমূল। চলতি সপ্তাহের সোমবার, তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক হয় কালীঘাটে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই তিনটি শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি তৈরি করা হয়। একটি সংসদীয়, একটি পরিষদীয় এবং দলীয় স্তরে। সেখানে যে কোনও স্তরে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের কথা বলা হয়।

সে কথার পরোয়া না করে হুমায়ুন কবীর ফের সোজা ব্যাটে খেলেছেন মঙ্গলবার। সোজাসুজি আঙুল তুলেছেন মুর্শিদাবাদ জেলার পর্যবেক্ষক ফিরহাদ হাকিম, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। এমনকি রাজ্যের একাধিক বিধায়কের একাধিক মন্ত্রীর পদ থাকা নিয়েও সংবাদমাধ্যমে চাঁচাছোলা ভাষায় নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করেছেন হুমায়ুন। অভিষেকের পক্ষ নিয়েও তাঁকে মন্ত্রীসভায় নিয়ে আসার মতো পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনি।

আর সেই ঘটনার পর ২৪ ঘন্টাও কাটল না, তাঁকে শোকজ নোটিশ ধরিয়ে দিল শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, নির্মল ঘোষ, দেবাশিস কুমারদের কমিটি। হাতে সেই নোটিশ না পেলেও হুমায়ুন অবশ্য শোকজের জবাব দিতে তৈরি বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ” যে যে পয়েন্টের উল্লেখ থাকবে নোটিশে, সেই সেই পয়েন্টের যথাযোগ্য জবাব দিয়ে দেব।” প্রসঙ্গত, তৃণমূলের নয়া নিয়মে কেউ তিনবার শো-কজ হলে সেই নেতাকে সাসপেন্ড করার নিদানও দেওয়া হয়েছে। সেই প্রসঙ্গেও বেপরোয়া হুমায়ুন। তিনি বলেন, ” হোক না। চিন্তার কী আছে?”

মুর্শিদাবাদে হুমায়ুন ঘনিষ্ঠ নেতাদের কেউ কেউ বলছেন ভরতপুরের বিধায়ক রাজ্যস্তরে মুর্শিদাবাদের নেতাদের অবহেলিত হওয়ার কথাই বলতে চেয়েছেন। তাঁদের যুক্তি, ” জেলা নেতাদের একাংশ হুমায়ুনকে পছন্দ করে না। তারাই কলকাতার নেতাদের কান ভাঙায়। অথচ হুমায়ুনের দাবি অসঙ্গত বলে উড়িয়ে দেন তাঁরা। সেই সব কারণেই হুমায়ুন ফোঁস করে ওঠেন।”

লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী না করায় সেই সময় দল ছাড়তে উদ্যোগী হয়েছিলেন রেজিনগরের প্রাক্তন বিধায়ক। পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে মান ভাঙে ও তিনি দলীয় প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের হয়ে ভোটে লড়াই করেন। শোনা যায়, সেদিনের প্রতিশ্রুতিও দল পূরণ করেনি। এরপর ভোট পর্বে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিরোধীরা এককাট্টা হলেও দলীয় স্তরে হুমায়ুনকে কিছু না বলায় সেই সময় ক্ষুব্ধ হয়েছিলের জেলায় হুমায়ুন বিরোধী নেতারা। পরে ভোটের ফলাফলের ভাগ নিয়ে তাঁর টানাটানি চলে জেলায় “হুমায়ুনে অ্যালার্জি” বলে পরিচিত রেজিনগরের বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরীর সঙ্গে। তারপরেও বর্তমান জেলা সভাপতির বিরুদ্ধেও নিজের ক্ষোভ প্রকাশ্যে জানানোয় দল চরম অস্বস্তির মুখে পড়েছিল ভোটে জিতে।

তবে মুর্শিদাবাদের অনেক তৃণমূল নেতা প্রকাশ্যে হুমায়ুনকে ‘উশৃঙ্খল’ বললেও অন্দরে অবশ্য হুমায়ুনের এবারের দাবি নিয়ে ফিসফিসানি বেশি তাঁদেরই। মুর্শিদাবাদে বাইশটি বিধানসভার মধ্যে কুড়িটি বিধায়কই তৃণমূলের। সুব্রত সাহা ছিলেন মুর্শিদাবাদ থেকে মন্ত্রীসভার একমাত্র প্রতিনিধি। তাও সেটা উত্তরে।

তাঁর মৃত্যুর পর এই প্রান্তিক জেলা থেকে আখরুজ্জামানকে মন্ত্রী সভায় ঠাঁই দেওয়ার কথা ভেবেছেন, দক্ষিণের নেতাদের কথা ভাবেননি তৃণমূলের রাজ্য নেতারা। একা সাংসদ খলিলুর রহমানই একাধিক দায়িত্ব পেয়েছেন। এই জেলায় অভিজ্ঞ বিধায়ক থাকা সত্বেও ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে ঠাঁই হয় না কারও। এক নেতার কথায় ” তৃণমূল দলটা চলে কলকাতার নেতাদের নিয়ে। আর ভোটের জোগান দেয় জেলা। জেলার নেতাদের জোটে শুধু প্রতিশ্রুতি।”

এই প্রসঙ্গে হুমায়ুনও বলেন, ” অবশ্যই। তবে এর জন্য আমাদের মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই দায়ি। আমাদের মধ্যে কোনও আন্তরিকতা নেই, মিল নেই। সেই ঐক্যতার অভাবের সুযোগ নেয় রাজ্য। আর তাই দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণির নেতারা দলটা চালায়। তারাই অবহেলা করে আমাদের। এটাই আমাদের ভবিতব্য।” প্রসঙ্গত, ০১২ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে ৩০ বছরের সম্পর্ক ত্যাগ করে যখন তৃণমূলে আসেন হুমায়ূন সেবার তাঁকে মন্ত্রী করা হলেও উপনির্বাচনে হেরে গিয়েছিলেন। পরে বিধায়ক পদে জিতলেও সেই পদ আর ফেরত পাননি তিনি।

আরও পড়ুনঃ Minister হুমায়ুন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights