
সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ একুশে জুলাইয়ের দোরগোড়ায় বহরমপুরে একসঙ্গে দুই শাখা সংগঠনের নেতৃত্ব বদলে ফেলল তৃণমূল। যুব তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি আসিফ আহমেদকে সরিয়ে ওই পদে আনা হয়েছে তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের নেতা ভীষ্মদেব কর্মকারকে। ভীষ্মদেব বহরমপুরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরও। অন্যদিকে তৃণমূলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি সুবোধ দাসকে সরিয়ে ওই পদে নিয়ে আসা হল বহরমপুর শহর শ্রমিক সংগঠনের নেতা নিলীমেশ বিশ্বাসকে। দিন কয়েক আগে নিলীমেশের ডাক পড়েছিল কলকাতায়। তখনই তাঁর সঙ্গে কথা বলে রাজ্য নেতারা জেলা সভাপতি পদে তাঁর নাম চুড়ান্ত করেছে বলে দাবি সূত্রের। বহরমপুর ও জঙ্গিপুর সংগঠনের মহিলা নেতৃত্বের অবশ্য রদবদল করেননি তৃণমূলের রাজ্য নেতারা।
নিলীমেশ বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত তৃণমূলের অন্দরে। উল্টোদিকে ভীষ্মদেবের সঙ্গে নাড়ুগোপালের অম্ল মধুর সম্পর্কের কথাও অজানা নয় পুরসভার ঘর বারান্দায়। প্রসঙ্গত, ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর পুরসভার মধ্যে ভীষ্মদেবের ওয়ার্ড থেকেই সবথেকে বেশি ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। বেশ কয়েক মাস ধরেই নেতৃত্বের স্বাদ বদলাতে চাইছিলেন ভীষ্ম। এদিন তাঁর ইচ্ছেতেই সিলমোহর দিয়েছে রাজ্য। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি, ভীষ্মদেব ও নিলীমেশ সংগঠক হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে দলের কাছে। দুই নেতাকে দুই পৃথক সংগঠনে দায়িত্ব দিয়ে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একুশে জুলাইয়ের আগে দক্ষতাই যে সাংগঠনিক পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে একমাত্র মাপকাঠি সেই বার্তাই পাঠালেন মুর্শিদাবাদে।
তবে বহরমপুর মুর্শিদাবাদ জেলা সংগঠনের যুব নেতা বদলালেও জঙ্গিপুরের ক্ষেত্রে কোনও রদবদল হয়নি। জঙ্গিপুরের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি কামাল হোসেনকেই ওই পদে রাখা হয়েছে। কিন্তু শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি পদে বিধায়ক আমিরুল ইসলামকে রাখলেও সহ সভাপতি পদে আনা হয়েছে জেলা পরিষদের দু-বারের সদস্য অশেষ ঘোষকে। যদিও আগে ওই পদে কাকে বসানো হবে তা জেলা নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে ঠিক হলেও এবার রাজ্য অশেষের নাম লিখে পাঠিয়েছে। অশেষ অবশ্য সহ-সভাপতির পদ পেয়ে খুশি নন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি।
২০১৪ থেকে ২০১৭ অশেষ ছিলেন অবিভক্ত মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি। সেই সময় যুব তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি ছিলেন অভিষেক। তারপর থেকে অশেষকে কখনও কোনও সংগঠনের দায়িত্ব দেয়নি দল। আর এখানেই মুর্শিদাবাদের দুই জেলায় সংগঠনের মাথাদের রদবদলে তৃণমূলের একাংশ অভিষেকের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন স্পষ্ট। অশেষ ও ভীষ্মদেব উভয়েই তৃণমূলে অভিষেক অনুসারী বলে পরিচিত।
যদিও ভীষ্মদেব সে কথা অস্বীকার করে বলেন, ” আমরা মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। তাঁরা যখন যা দায়িত্ব দিয়েছেন তাই পালন করেছি। এক্ষেত্রেও তাই হবে।” অশেষ অবশ্য নিজেকে অভিষেকের সৈনিক বলতেই বেশি স্বচ্ছন্দ। তাঁর নয়া পদ নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, “দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে প্রথম কি দ্বিতীয় স্থান তাতে কিছু আসে যায় না। দ্বিতীয় যখন হয়েছি একদিন প্রথমও হব। তবে আমার এলাকায় বিড়ি শ্রমিকদের কীভাবে আরও বেশি সংগঠিত করা যায় সেটাই হবে আমার প্রাথমিক লক্ষ্য।”