বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ অধীর চৌধুরীর ভোট প্রচারকে কেন্দ্র করে চড়ক পুজোর দিন উত্তাল হল বহরমপুর। এদিন অধীর চৌধুরী গান্ধী কলোনী এলাকায় ভোট প্রচার সেরে নতুন বাজার হনুমান মন্দিরের দিকে যখন যাচ্ছিলেন সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গো ব্যাক শ্লোগান দিতে শুরু করেন একদল যুবক। যারা তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত। তাঁদের দাবি, “২৫ বছর ধরে সাংসদ এলাকায় কিছু করেন নি।”
যদিও এই ঘটনায় বহরমপুর শহরের মুখ পুড়ছে বলে জানিয়ে বিজেপি’র বহরমপুর সভাপতি শাখারভ সরকার ‘নাটক’ বলেও ব্যাখা করেন।
এরপরেই অভিযোগ, যাঁরা বিদায়ী সাংসদকে লক্ষ্য করে গো-ব্যাক শ্লোগান দিচ্ছিলেন তাদের দিকে তেড়ে যান কংগ্রেসের শিলাদিত্য হালদার, জয়ন্ত দাস, অরিন্দম দাসরা। পাল্টা মারমুখি হয়ে ওঠেন বিক্ষোভকারীরাও। যদিও শিলাদিত্য বলেন,” আমরা কাউকে মারিও নি ধরিও নি। আমরা রাস্তা থেকে সরে দাঁড়াতে বলেছিলাম।” এমনকি স্থানীয় সিসি ক্যামেরায় ধরা পরে বিভান দে নামে এক তৃণমূল কর্মীকে মারতে উদ্যত হন স্বয়ং অধীর। যদিও সংবাদ মাধ্যমে অধীর দাবি করেন, “চুল্লুবাজদের আমার প্রচারের কাজে বাধা দিতে নামানো হয়েছে। আমি কাউকে মারিনি। তাকে জিজ্ঞাসা করেছি মাত্র। আর আমি প্রতিবাদ তো করবোই।” তিনি পুলিস সুপারকে ফোন করে ঘটনার কথা জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিক্ষোভরত দু’জনকে আটক করে বহরমপুর থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের জোট সঙ্গী বাম কর্মীরাও। বহরমপুর নির্বাচনী ক্ষেত্রের বামফ্রন্টের শহর আহবায়ক ভাস্কর সেনগুপ্ত এই ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক বলে অভিহিত করেন।
যদিও এই ঘটনায় বহরমপুর শহরের মুখ পুড়ছে বলে জানিয়ে বিজেপি’র বহরমপুর সভাপতি শাখারভ সরকার ‘নাটক’ বলেও ব্যাখা করেন। তিনি বলেন, ” অধীর চৌধুরী এবার শেষ ভোটে লড়াই করছে। কিন্তু বহরমপুর আসনে বিজেপি মানুষের মন কেড়েছে। তাই প্রচারে টিকে থাকতে তৃণমূল ও কংগ্রেস যাদের উৎসস্থল একই তারা নাটক করছে আর অধীরকে প্রচারে রাখছে। এর ফলে মুখ পুড়ছে শহরের।” শিলাদিত্য যদিও প্রতিবাদ করে বলেন, ” বিজেপি আর তৃণমূল এক মূদ্রার দুই পিঠ। একথা ভারতবাসী জানে। আর অধীর চৌধুরীকে কাউকে প্রচারে নিয়ে আসতে হয় না। জাতীয় নেতাকে দেশবাসী এক নামে চেনে।” সিপিএম নেতা ভাস্কর সেনগুপ্ত বলেন, ” ওরা প্রথম থেকেই প্রচার করছে অধীর চৌধুরী হেরে যাবে। যদি হেরেই যায় তাহলে এই ধরনের কান্ডকারখানার মানে কী? আসলে আমরা কাজের দাবিতে ভোট প্রচার করছি। মানুষের সাড়া পাচ্ছি। বিজেপি আর তৃণমূল তাদের পায়ের তলায় মাটি হারাচ্ছে তাই এইধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ করছে।”
এবিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি। তবে এর প্রতিবাদে বহরমপুরে মিছিলের ডাক দিয়েছে তৃণমূল।