মুর্শিদাবাদে ম্লান তৃণমূলের সংহতি দিবস, হুমায়ুন একাই ‘বাদশা’

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ মেয়ো রোড থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য শোনা যায়নি তৃণমূলের সংহতি দিবসে। সংহতি দিবসে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়নি দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার মারদিঘি থেকে হুমায়ুন কবীরের হুঙ্কার শুনেছে গোটা বিশ্ব। গতানুগতিক ছন্দে দলীয় কর্মসূচির মঞ্চ থকে ফিরহাদ ওরফে ববি হাকিম বিজেপিকে আক্রমণ করে সংহতি জানানোর চেষ্টা করেছেন ঠিকই। কিন্তু সেই আওয়াজ পৌঁছায় নি মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের ঘর বারান্দায়।

জেলার কোথাও পালিত হয়নি এত বছর ধরে চলে আসা দলের কর্মসূচি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা পাহারায় আবু তাহের খান, খলিলুর রহমানরা। বহরমপুর সংগঠনের সভাপতি অপূর্ব সরকার জেলায় নেই বলেই তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি। থমথম করছে দলের কার্যালয়। সর্বত্র তৃণমূলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা টের পাওয়া যাচ্ছে। সংহতি দিবস পালনের জন্য দলীয় নির্দেশও যায়নি কারও কাছে। সৌজন্যে সেই হুমায়ুন কবীর। যাঁকে দল দিন দুয়েক আগে সাসপেন্ড করেছে।


আরও পড়ুনঃ হুমায়ুনেকে ছাঁটতে দলে অনুঘটককের ভূমিকায় কারা ? উঠছে প্রশ্ন


সেই হুমায়ুন কবীরের ইচ্ছানুয়ায়ী একটি মসজিদ তৈরিকে ঘিরে এতো মানুষ পাগলের মতো ছুটে আসবেন তাঁর পিছু পিছু তা আন্দাজ করতে পারেনি পুলিশ প্রশাসনও। তাও গতি পেয়েছে তৃণমূল হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করার পর। ভিড়ের এমনটাই মত । জেলার গুরুত্বপূর্ণ থানার এক আধিকারিকের কথায় অন্তত দু-আড়াই লক্ষ মানুষের জমায়েত হয়েছিল মারদিঘিতে। আয়োজকদের দাবি, জাতীয় সড়কের লেজ আর মাথা জুড়ে ছিল অগুনতি মানুষ। এদিন বেলডাঙা স্টেশন থেকে প্রস্তাবিত মসজিদ নির্মাণের স্থান পর্যন্ত বিনা পয়সায় মানুষকে পৌঁছে দিয়েছেন টোটো-অটোর চালকরা,স্রেফ আবেগে।

তেত্রিশ বছর পর দেশের রাজনীতি ফিরে দেখলো বাবরি মসজিদের ইতিহাস, মুর্শিদাবাদের এক প্রৌঢ় রাজনীতিকের সৌজন্যে। অন্য কেউ কথা না রাখলেও এক্ষেত্রে কথা রাখলেন হুমায়ুন। আর তা রাখলেন নিজেকে বিতর্কের কেন্দ্রে রেখেই। একটি মসজিদ করলে কোনও ভুল হতো না। কিন্তু হুমায়ুন বেছে নিয়েছেন বাবরি মসজিদ আর দিনটি ৬ ডিসেম্বর, বলছিলেন তৃনমূলের এক নেতা। তবুও সবকিছু ঠিক ছিল। চার তারিখ তাঁকে তৃণমূল দল থেকে সাসপেন্ড করা ইস্তক উল্টো সুর গাইতে শুরু করেছে রেজাউল করিম, রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর মুর্শিদাবাদ। যে মুর্শিদাবাদ নিয়ে গর্বের কথা এই সেদিনও মুখ্যমন্ত্রী শুনিয়ে গিয়েছেন বহরমপুরে। বলেছেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনেও মুর্শিদাবাদ ছিল শান্ত। কোনও রকম হিংসার ঘটনা ঘটেনি।

পিল পিল করে মানুষ আবেগে ভর করে সকাল সকাল চলে এসেছিলেন বেলডাঙায় জাতীয় সড়কের পাশের জমিতে। সেখানে মসজিদ তৈরি হবে বলে জেলায় হাঁক দিয়েছিলেন হুমায়ুন। হুমায়ুনকে দেওয়া কথা রাখলেন তাঁর অনুগামীরাও। মারদিঘির যে আমন ধানের জমিতে এদিন বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন সেদিনও বিকেল পর্যন্ত কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি জেলায়।

“মুসলমানের দেশ” মুর্শিদাবাদের গাঁয়ে গাঁয়ে মসজিদ। কোথাও কোথাও তারই পাশে মন্দিরের বছরের পর বছর সহাবস্থান। সেই জেলায় এদিনের পর সংখ্যায় মসজিদ বাড়লো একটা। কিন্তু যে ঐক্যের সুরে বাঁধা ছিল দাদাঠাকুর , সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, মনীশ ঘটক, গিরিজা শঙ্কর, উস্তাদ আবু দাউদের জেলা তার কি তাল কাটল ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ এর পর?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights