জেলা পরিষদের সভায় তৃণমূলের প্রশ্ন তৃণমূলকেই

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ মুর্শিদাবাদের জেলা পরিষদ রাজ্য সরকারের মাথা ব্যাথার যে কারণ হয়েছে তা জানুয়ারি মাসেই জেলায় এসে পরিস্কার করে দিয়ে গিয়েছিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। বুধবার ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের চুড়ান্ত বাজেট পেশ হয়েছে জেলা পরিষদের সভাকক্ষে। যে ৭৪৭ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার বাজেট পেশ হয়েছে তার জন্য যে যে খাতে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে তাও বিনা বাক্যে মেনে নিয়েছেন শাসক-বিরোধী উভয়পক্ষ। তার জন্য বরাদ্দ হয়েছে সাকুল্যে সাত মিনিট। কিন্তু কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে জেলা পরিষদের দিকে আঙুল তুলে বিরোধীদের কাজটা সহজ করে দিয়েছে শাসক তৃণমূলই, দাবি সূত্রের। যা ফের প্রশ্ন তুলেছে দলেই।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, কান্দির বিধায়ক তথা তৃণমূলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অপূর্ব সরকার নিজের বক্তব্যে জেলা পরিষদের তৈরি রাস্তা, পানীয় জল, বিদ্যুতের আলো সবেতেই নজর দিতে হবে বলে সমালোচনাও করেছেন। বৈঠকের পরে অবশ্য অপূর্ব বলেন, “কংগ্রেস, সিপিএমের আমলের এখনও কিছু ঠিকাদার আছেন যাঁরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই কাজের মান খারাপ করে তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদের নাম খারাপের চেষ্টা করে। আমি বলেছি গাফিলতি থাকলে মুখ্যমন্ত্রীর কথা মতো সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ করতে ওইসব ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে।”

পানীয় জল প্রসঙ্গ উত্থাপনের পেছনে অপূর্বর যুক্তি, “রমজান মাস চলছে। অনেক জায়গায় পানীয় জলের কিছু সমস্যা আছে সেগুলি দ্রুত সমাধান করার জন্য জেলাশাসককে বলেছি।” তার দাবি,” পানীয় জলই বলুন আর সোলার লাইটের কথাই বলুন, আমি বলেছি জেলা পরিষদের সম্পত্তি রক্ষা করতে হবে। আয় বাড়াতে হবে। আর্থ সামাজিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে।” প্রসঙ্গত, সভায় সোলার লাইট ব্যবহারের প্রতি জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জেলাশাসক। কারণ, পঞ্চায়েত বিদ্যুৎ বিল বকেয়াই এগারো কোটি টাকা, দাবি তৃণমূল সদস্যদের।

তবে অপূর্ব ছাড়াও বিরোধী কংগ্রেস বা সিপিএমের তুলনায় এদিন তৃণমূলের জেলা পরিষদের সদস্যরাই সরব ছিলেন ঘন্টা দেড়েকের সাধারণ সভায়। সূত্রের দাবি, জেলা পরিষদে লালগোলার সদস্য রুমা বন্দ্যোপাধ্যায় সভায় কর্মাধ্যক্ষদের “স্যার” বলে টিপ্পনী কেটে বলেন, ” সাধারণ সদস্য হিসেবে জনগণের কথা বলতে তেল পুড়িয়ে লালগোলা থেকে মুর্শিদাবাদে আসি কর্মাধ্যক্ষ স্যারদের সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু তাঁদের দেখা পাওয়া যায় না।”

তৃণমূলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার মহিলা সভানেত্রী তথা বেলডাঙার সদস্যা ফতেমা বিবি প্রশ্ন তোলেন, ” ওরা আসা যাওয়ার জন্য তেল পায়, আমরা তেল পাই না। তবু ওরা জেলা পরিষদে আসে না কেন?” এর সমাধান না করলে সাধারণ সদস্যরা আন্দোলনে নামবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে সভায় উপস্থিত মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে সুমনকে উদ্দেশ্য করে বলেন বলে দাবি। সে কথা মেনেও নেন সুমন।

আবার জেলা পরিষদের আর এক সদস্য অশেষ ঘোষ সভায় জানতে চান, “পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা বা West Bengal State Rural Development Agency-র জঙ্গিপুর মহকুমার প্রকল্প তালিকা কে জমা করেন? সাংসদ, বিধায়ক, জেলাপরিষদ না এজেন্সি ?” কারণ WBSRDA-র কাজের মান নিয়ে তাঁর প্রশ্ন আছে। তিনি জেলাশাসকের কাছে সেই দুর্নীতির তদন্তেরও দাবি করেছেন। সভায় অশেষের দাবি, ” কোথায় কোথায় কাজ হয়েছে তার একটি পূর্নাঙ্গ তালিকা চেয়েছিলাম WBSRDA-র জঙ্গিপুর মহকুমার কার্যনির্বাহি বাস্তুকারের কাছে (Executive Engineer)। আগের মিটিংয়েও চেয়েছিলাম পাইনি। আজ আপনাকে সামনে পেয়েছি আবারও সেই তালিকা চাইছি।”

গোবিন্দপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক জঙ্গিপুরের দু’বারের সদস্য অশেষ ঘোষকে এই প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে ফোন করলে তিনি বলেন, ” আমার নিজের কিছু বলার নেই। এটা সরকারি বৈঠক। কিন্তু এটুকু বলতে পারি এরপরে যখন বৈঠকে আসব তখন বর্ণপরিচয় পড়ে আসব।”

তবে খড়গ্রামের জেলা পরিষদ সদস্য শাশ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ” এই বাজেট একেবারে উন্নয়নের বাজেট। আর বিতর্ক তো সু-স্বাস্থ্যের লক্ষণ। যে কোনও গণতান্ত্রিক দলেই এইরকম ছোটখাটো বিতর্ক হয়। এগুলো কোনও বড় ব্যাপার নয়।” কংগ্রেসের সদস্য আবদুল্লাহিল কাফি বলেন, ” কোনওরকমে এতদিনে একটি সাধারণ সভা হল। পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী তিন মাস অন্তর সভা ডাকার কথা। সেই আইনের উল্লেখ করে দাবি করেছি আইন মেনে জেলা পরিষদ চালাতে।”

আরও পড়ুনঃ সভাধিপতির জন্য লাগাম ছাড়া তেল বরাদ্দের প্রশ্নে মেলেনি উত্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights