CAA কার্যকর করার দিনে কী শুনলেন বাংলার পরিযায়ীরা?

Social Share

সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতাঃ লোকসভা নির্বাচনের মুখে সোমবার CAA  (Citizenship Amendment Act ) বা নাগরিকত্ব (সংশোধিত) আইন কার্যকর করল বিজেপি সরকার। আর সেই দিনই বাংলার পরিযায়ীরা ভিন রাজ্যে শুনলেন তাঁরা বাংলাদেশি। পাঁচ বছর আগে কেন্দ্রে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে এই আইন লাগু করার কথা ঘোষণা করেছিল। নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হলে দেশে বাস করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন দেশের একাংশ নাগরিক। যার জেরে ২০১৯-এর শেষে উত্তাল হয়েছিল দেশ। সেই বিতর্কিত CAA আইন ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার প্রাক মূহুর্তে কার্যকর করা হল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সরকারি ওয়েবসাইটে সিএএ কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।

আর সেই দিনই কর্ণাটকে কাজের জন্য যাওয়া মুর্শিদাবাদের পরিযায়ীরা শুনলেন তাঁরা বাংলাদেশি। কর্ণাটকের ভার্তুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক তাঁদের থানায় ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তাঁদের বলা হয়েছে, তাঁদের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড ভুয়ো। তার বদলে জন্ম শংসাপত্র জমা দিতে হবে। একথা জানিয়ে ইন্টারস্টেট মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কাস ফেডারেশন অফ কর্ণাটক সংগঠনের সভাপতি আব্দুর জাব্বার বলেন, “জন্ম শংসাপত্র, স্কুল সার্টিফিকেট আর রেশন কার্ড জমা দিতে বলা হয়েছে থানায়। ওদের দাবি, আমরা নকল বাংলাদেশি। তাই আমাদের ভারতীয় নাগরিককত্বের প্রমাণ হিসেবে ওই নথি জমা দিতে হবে।” মুর্শিদাবাদের নওদার বাসিন্দা জব্বার পাল্টা পুলিশকে প্রশ্ন করেন ” আমি যে ভোট এমএলএ নির্বাচিত হয়েছি তাহলে ভোটার কার্ড নকল কী করে হয়?” জাব্বারের দাবি ” তার কোনও উত্তর দিতে পারেনি। শুধু বলেছেন পরিযায়ী শ্রমিক মানেই বাংলাদেশি”

নয়া আইনে বলা হয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে নির্যাতিত হয়ে যাঁরা ভারতে এসেছেন এবং ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন যে উদ্বাস্তুরা তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন হল সিএএ(CAA)। হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানদের এই নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।এই আইনে এটাও বলা হয়েছে এটি নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন, সিএএ-র মাধ্যমে কোনও পরিস্থিতিতেই নাগরিকত্ব হারাবেন না কোনও ভারতীয় নাগরিক।

এদিকে বাংলার প্রধান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন “মোদীর গ্যারান্টি মানে প্রতিশ্রুতি পূরণের গ্যারান্টি।” আর তার সঙ্গে মতুয়া সমাজের কথাও উল্লেখ করতে ভোলেন নি এই গেরুয়া নেতা। তিনি লিখেছেন , “১৯৪৫ সাল থেকে ধর্মীয় কারণে উৎপীড়িত জনগোষ্ঠী; মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রত্যেক ব্যক্তি সমনাগরিকত্বের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।আজ অপেক্ষার অবসান হল।নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের (‌CAA) নোটিফিকেশন জারির মাধ্যমে এই আইন কার্যকর হবে গোটা দেশে।” রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া সহ একাধিক জেলায় মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন নাগরিকত্ব আইন চালু হওয়ার দিন উৎসবে মেতে উঠেছেন। যার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে পড়বে বলে মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, ” সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি করতে হবে বলে পাঁচ বছর পর ভোটের আগে CAA কার্যকর করতে হল। সাম্প্রদায়িক বিভাজনের জন্য নতুন রাজনীতি তৈরি হল।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights