ভগবানগোলার আবু সুফিয়ানকে নিয়ে কংগ্রেসের লাভ কী ?

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ একটা লম্বা সময় অপেক্ষার পর সিদ্ধান্ত বদলে ফের কংগ্রেসের পতাকা ধরলেন আবু সুফিয়ান সরকার। ভগবানগোলার প্রাক্তন এই বিধায়ক এতদিন তৃণমূলেই ছিলেন। কিন্তু ছিলেন খাতায়-কলমে, বলছেন তৃণমূলের একাংশ। আবার কেউ কেউ বলছেন, তৃণমূলের খাতাতেও তাঁর নাম ছিল না। মাঝখানে অবশ্য হুমায়ুন কবীরের নয়া দলেও ঢুঁ মেরেছেন এই প্রবীণ রাজনীতিক। যদিও সুফিয়ানের ঘরে ফেরার কথা ছিল অনেক আগেই। দেরি হল এই যা! কিন্তু নির্বাচনের মরশুমে এহেন নেতাকে কংগ্রেস গ্রহণ করায় দলের লাভ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিশেষজ্ঞ মহলে।

১৯৯৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে সুফিয়ান ভগবানগোলা কেন্দ্রে জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিলেন। সিপিআই (এম) -এর সৈয়দ নবাবজানি মীর্জাকে পরাজিত করে বিধায়ক হয়েছিলেন সেবার। তারপরেও বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু সেই দু’বার ২০০১ ও ২০০৬ সালে ভারতীয় সমাজবাদী পার্টির কাছে পরাজিত হন। ২০০১ সালে তাঁর বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন মুজিবর রহমান, ২০০৬ সালে তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন বর্তমান তৃণমূল নেতা চাঁদ মহম্মদ।

সাগির হোসেন ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত আবু সুফিয়ান। সাগিরের মতোই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। ভগবানগোলায় একসময় তাঁরা ঘাসফুলকে প্রতিষ্ঠিতও করেছিলেন। জেলা আইএনটিটিইউসি-র সভাপতি হয়েছিলেন সুফিয়ান। কিন্তু নয়া প্রজন্মের হাতে দলের শাসনভার চলে আসায় দলে ব্রাত্য হয়ে পড়েন সাগির, সুফিয়ানরা। একুশের নির্বাচনে সাগিরকে প্রার্থী না করায় অভিমানে তিনি নিজেকে ঘরবন্দি করে ফেলেন ও ভগবানগোলায় নির্বাচনের দিন প্রয়াত হন ওই শিক্ষক।

একুশের নির্বাচনে তৃণমূল ইদ্রিশ আলীকে প্রার্থী করে ও বিপুল ভোটে জেতে। কিন্তু তাঁর অকাল প্রয়াণের পর সুফিয়ানরা আশা করেছিলেন দল হয়তো তাঁদের সামনে নিয়ে আসতে পারে। কিন্তু সে স্বপ্ন অধরা থেকে যায়। তারপরেই নিজেকে গুটিয়ে নেন সুফিয়ান। দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে। সুফিয়ানের সঙ্গে এখন অবশ্য সম্পর্ক শীতলতা এসেছে সাগিরের পরিবারের। সাগির হোসেনের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীও কংগ্রেসে ফিরবার কথা ভেবেছিলেন। তা রটেও গিয়েছিল। বছর দুয়েক আগের সেই রটনা অবশ্য বাস্তবের মুখ দেখেনি। এদিন আবু সুফিয়ান বলেন, ” ওরা কী করবেন জানি না। আমি আর যোগাযোগ রাখি না।” কিন্তু আপনি কংগ্রেসে ফিরলেন কেন ? তিনি বলেন, ” তৃণমূলে কোনও সম্মান নেই। তাই কংগ্রেসে ফিরলাম।” অথচ অধীর চৌধুরী বলেন, ” কিছু পেতে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে গিয়েছিলেন যাঁরা তাঁদের মোহভঙ্গ হচ্ছে বলে ফিরছেন।” কিছুদিন আগে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরেছেন শাহনাজ বেগমও। তৃণমূলে থাকাকালীন দু’জনের সম্পর্ক তেমন মধুর ছিল না বলেই দাবি সূত্রের। শাহনাজকে সম্প্রতি ডোমকলের পর্যবেক্ষক করেছে কংগ্রেস। সুফিয়ানকে নিয়েও রয়েছে দলের পরিকল্পনা। কিন্তু সেই পরিকল্পনা সামনে না আসায় অনেকের প্রশ্ন তাহলে কি পঁচিশ বছর পরে ফের ভোটে লড়বেন সুফিয়ান? সুফিয়ানের দাবি, ” আমি ভোটে দাঁড়ানোর জন্য কংগ্রেসে ফিরছি না। দল ভাল প্রার্থী দিলে ওই এলাকায় ফল ভালো হবে। “

চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ভগবানগোলা বিধানসভার উপনির্বাচনে কংগ্রেস বামেদের সঙ্গে জোট করে প্রার্থী দিলেও একপেশে ভোটে জিতেছিল তৃণমূল। এবারও রিয়াদ হোসেন সরকারকে প্রার্থী করে নির্বাচনী যুদ্ধে নামবে তৃণমূল। রিয়াদদের অভিযোগ ছিল সুফিয়ান ও তার অনুগামীরা ঘরে বসে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট করিয়েছিল। কংগ্রেস সুফিয়ানকে দলে টেনে লাভ দেখছে এখানেই। এক কংগ্রেস নেতার কথায় ” ওই ভোটগুলিই এবার সরকারিভাবে কংগ্রেসে তো পড়বেই তারসঙ্গে আরও কিছু ভোট বাড়বে।” তারসঙ্গে এটাও জুড়ে দিতে ভোলেন না ” প্রার্থী না হতে পারলে আবার তা উল্টে গেলেই বিপদ এই যা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights