খেলোয়ার ইউসুফ,নেতা হবেন কবে?

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, মুর্শিদাবাদঃ ভেনি, ভিডি, ভিসি। ইউসুফ পাঠানের ক্ষেত্রে এই প্রবাদ যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায়। প্রথমবার সংসদীয় গণতন্ত্রে নাম লিখিয়ে উপড়ে দিয়েছেন প্রাচীন অধীর চৌধুরীকে। ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে নামও কিনেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রীর কাছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের আলাদা নজরও রয়েছে তাঁর প্রতি। ইন্ডিয়া টুডে সম্প্রতি তাঁদের সাপ্তাহিক পত্রিকায় দাবি করেছে, ভোটে লড়াই করবার আগে তিনি জানতেনই না বহরমপুর কোথায়। তাঁর দৌড় ছিল কলকাতা পর্যন্ত। সেই তিনি অধীর চৌধুরীর মতো একজন পোড় খাওয়া রাজনীতিককে হারিয়ে দিয়েছেন। অথচ শুরুতে জয়ের ব্যাপারে অধীরকেই এগিয়ে রেখেছিলেন তিনি। সেই ইউসুফ পাঠান এখন বহরমপুরের সাংসদ।

জয়ের শংসাপত্র নিয়ে সেই যে তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র ছেড়েছিলেন ৪ জুন, তারপর ফিরলেন জুলাইয়ের ১৮ তারিখ। তারমধ্যে জমি কেলেঙ্কারিতে তাঁর নাম জড়িয়েছে, তেমনি আবার ইংলন্ড জয় করে এসেছেন খেলতে গিয়ে। এসে অবশ্য পেশাদার খেলোয়ার দাবি করেছেন বহরমপুরকে তিনি কখনোই ভোলেননি। নিয়মিত জেলা নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। তাঁর পরিবার রয়েছে, খেলা রয়েছে, তারসঙ্গে বহরমপুরও রয়েছে। সকলের প্রতি তাঁর কর্তব্য আছে। তিনি যেখানেই যান না কেন তাঁর মন সবসময় বহরমপুরেই থেকেছে বলে দাবি করেছেন ইউসুফ।

তিন সাংসদকে সম্মান জানান হয় দলের পক্ষ থেকে

যা নিয়ে গর্বের শেষ নেই তৃণমূলের বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সংগঠনের জেলা নেতাদের। সাংবাদিক মহল ইউসুফের খোঁজ করলেই প্রায় মুখস্থ বলে দিতেন সভাপতি অপূর্ব সরকার। বলতেন, তিনি ভুবনজয়ী ক্রিকেটার। তিনি ভিনদেশে খেলায় ব্যস্ত আছেন। এইরকম একজন তারকাকে আমাদের সাংসদ হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। সেই ভুবনজয়ী ক্রিকেটার সাংসদ ইউসুফও এখন একজন জেলা নেতা। তাঁর সঙ্গেও অপূর্বর সম্পর্ক অতিথি সুলভ, বলছিলেন অপূর্ব-র ঘনিষ্ঠবৃত্তে থাকা এক নেতা। বললেন, “দাদা (অপূর্ব) মনে করেন অতিথি দেব ভব। তাই ইউসুফের যেন কোনও ত্রুটি না হয় সেই জন্য সবসময় তটরস্থ থাকেন।” নির্বাচনের আগে ইউসুফ থাকতেন একটি বেসরকারি হোটেলে। সেই সময় যা বিল হয়েছিল এখনও দল তা মিটিয়ে উঠতে পারেনি বলে দাবি অসমর্থিত সূত্রের। এদিন অবশ্য সাংসদ উঠেছেন সার্কিট হাউসে। আগামীকাল কলকাতা চলে যাবেন। রবিবার যোগ দেবেন ধর্মতলার একুশে মঞ্চে।

কিন্তু প্রশ্নটা উঠল অন্য জায়গায়। আর তা ঘুরল যে সভামঞ্চে বৃহস্পতিবার তিন সাংসদকে সম্মান জানিয়েছেন অপূর্ব ওরফে ডেভিড সেখানেও। একুশের প্রস্তুতি সভামঞ্চ ঘিরে থাকা নেতারাও বললেন “খেলা তো অনেক হল। এবার রাজনীতির কথা শুনি। খেলোয়ার আপনি রাজনীতিক হবেন কবে?” মুর্শিদাবাদ রাজনীতির মঞ্চ। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজনীতির গা গরম করা বিরোধিতার কথা শুনে অভ্যস্থ জেলাবাসীর কান। সেই বিরোধিতা স্ববিরোধিতাও হতে পারে। সেকথা জেনেই অধীর চৌধুরী মমতা বিরোধিতায় আজও অনড়। বিজেপি রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। বহরমপুর বিজেপি’র দখলে। কবে খেলোয়ারের ব্যট ছেড়ে রাজনীতির ব্যটে ঝড় তুলবেন নয়া সাংসদ বিরোধী শিবির নিয়ে? সেদিকেই তাকিয়ে বহরমপুরবাসী। ইন্ডিয়া টু’ডের দাবি মতো “গ্রানাইট কঠিন” মানসিকতার ইউসুফ কি রিহার্সাল দিচ্ছেন তার আগে? কৌতুহলী প্রশ্ন জনমানসে।

আরও পড়ুনঃ আজ থেকে বন্ধ মুরগী পরিবহন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights