বহরমপুরের সব ওয়ার্ডের সঙ্গেই বন্ধুত্ব গড়তে চান ইউসুফ, নিজের হাতে রাখতে চান দলের রাশও

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, মুর্শিদাবাদঃ তিনি যে বহরমপুরের “শো-কেস” সাংসদ হতে চান না এবার এসে তা ঠারেঠোরে বহরমপুরের তৃণমূল নেতাদের বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন ইউসুফ পাঠান। তিনি নিজে হাতে জরিপ করে নিতে চান দল ও নেতাদের। সূত্রের দাবি, পদাধিকার বলে দলে জেলার প্রথম সারির নেতার মর্যাদাই পান ইউসুফ। মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবার সুযোগও তাঁর আছে। আরজিকর কান্ডের জেরে বেসামাল দল। এই সময় দলে বড় কোনও পরিবর্তনও হবে না। কিন্তু দলের এই খারাপ সময় প্রকৃত তৃণমূলীদের যে খুঁজে পাওয়ার মোক্ষম সময় তাও মনে করছেন দলেরই একাংশ নেতা, বিধায়ক। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশেষ করে বহরমপুরের তৃণমূলকে ভাল জায়গায় নিয়ে যেতে ইউসুফ উদ্যোগী হয়েছেন বলে বিশেষ সূত্রের দাবি।

লোকসভা অধিবেশনে নিজের সাংসদ এলাকার জন্য প্রয়োজনীয় দুটি বিষয় উত্থাপন করেছিলেন ইউসুফ। একটি বেলডাঙায় পাঁচরাহা মোড়ে রেলের উড়ালপুল নির্মাণ, অন্যটি কৃষি প্রধান বহরমপুরের চাষীদের পাটের ন্যয্য দাম না পাওয়া। ডেবিউ এমপি-র ওই দুই পদক্ষেপই মন কেড়েছিল বহরমপুরবাসীর। ভোটে জিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বহরমপুরে একটি স্পোর্টস অ্যাকাডেমি করবার। কিন্তু তারজন্য ৩৮ বিঘা জমি দরকার। সরকারি জমি মিলতে পারে একমাত্র বহরমপুর স্টেডিয়ামে। বেসরকারি ভাবে সাংসদের স্বপ্ন পূরণের জন্য জমি দিতে প্রস্তুত দলের নওদা ব্লক সভাপতি শফিউজ্জামান সেখ। তিনি বলেছেন, “আমাদের গাঁয়ের দিকে স্পোর্টস অ্যাকাডেমি সাংসদ করবেন কি না তা জানি না। উনি এদিকে করলে আমি এখনি ৪০ বিঘা জমির ব্যবস্থা করে দিতে পারব।” বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেছেন, “বহরমপুর স্টেডিয়ামেই সাংসদের স্বপ্নের স্পোর্টস অ্যাকাডেমি তৈরি করা সম্ভব।”

যদিও সেখানে সাংসদের স্বপ্নের অ্যাকাডেমি তৈরি হলে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে জেলা ক্রীড়া সংস্থার নানান কর্মসূচি। বর্তমান জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র ও আইএফএ-র যুগ্ম সহ সচিব বিশ্বজিৎ ভাদুড়ীর উদ্যোগে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে যখন জেলার খেলাধুলা, সেই সময় স্টেডিয়ামে সাংসদের স্পোর্টস অ্যাকাডেমি তৈরি হলে ফের তা মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে জেলার একাংশ খেলোয়ারেরও। তবে সবই মৌখিক স্তরে থাকায় এখনি বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ খুলতে চাননি তাঁরা।

তবে সে সব নিয়ে সাংসদও যে এখনি ঝাঁপিয়ে পড়বেন বিষয়টি তেমন নয়। তবে তিনি ধীর লয়ে দৃঢ় পদক্ষেপেই বেশি আগ্রহী বলে বহরমপুরে তাঁকে ঘিরে থাকা বৃত্তের এমনটাই অনুমান। বহরমপুরে দিন কয়েকের জন্য এসে কী কর্মসংস্থান কী নগোরন্নয়ন সবেতেই বহরমপুরকে নতুনভাবে গড়বার কথা বলেছেন ইউসুফ। দলের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। সম্ভবমতো খোঁজখবর নিয়েছেন দলের প্রায় উঁচু নিচু সব নেতাদের বিষয়ে। কারও বিরুদ্ধে কোনও মত দেওয়া নয়। উল্টে সবার জন্য পজিটিভ বার্তাই দিয়েছেন বিশ্বজয়ী এই ক্রিকেটার, দাবি তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার।

রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, আরজিকর কান্ডের জেরে তৃণমূল এখন ব্যকফুটে। বিশেষ করে নগরে এর প্রভাব বেশি পড়েছে। লোকসভা নির্বাচনে শহরেই ভোট কম পেয়েছে তৃণমূল। স্বাভাবিকভাবে আরজিকর কান্ড শহরের জনমত আগামীদিনে শূন্যে টেনে নামাবে কি না তাই নিয়ে ইতিমধ্যে শহর কেন্দ্রীক নেতাদের ঘুম উড়েছে। লোকসভা নির্বাচনে কোন নেতা কতখানি দলের পক্ষে ছিলেন তাই নিয়ে আলোচনা শেষে ২১ জুলাই মাস তিনেক সময় বেঁধে পরিবর্তনের ইঙ্গীত দিয়েছিলেন দলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মাঝখানের আরজিকর কান্ডের জেরে সেসব এখন পিছনের সারিতে চলে গিয়েছে। আর সেই খারাপ সময়ে পরিষেবা দিয়ে নাগরিক সমাজের মন পেতে আগ্রহী ঘাসফুল শিবির।

সেই প্রসঙ্গে বহরমপুর পুরসভায় ইউসুফকে ঘিরে আলোচনায় মগ্ন ছিলেন অন্য নেতারা, এমন সময় বহরমপুরে তৃণমূলের পক্ষে থাকা ২৩টি ওয়ার্ডে ইউসুফকে একবার করে ঘুরতে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা অশোক দাস। সূত্রের দাবি, শোনামাত্র ইউসুফ বলেন, “বহরমপুরে ২৮টি ওয়ার্ড। আর এই ওয়ার্ড থেকে লোকসভায় মানুষ আমাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু কেন করেছেন? তা জানতে হবে আমাকে। আমাদের জেতা ওয়ার্ডে না গেলেও হবে। কিন্তু বিরোধী ওয়ার্ডে গিয়ে মানুষের মন বুঝতে চাই আমি। আমি ২৮টি ওয়ার্ডেই যাব। আমার মেইল আইডি ও ফোন নম্বর সবাইকে দিয়ে দেবেন। আমি সবার কথা শুনতে চাই।”

পরে সে কথা অবশ্য মেনে নেন অশোকও। তিনি বলেন, “আমাকে কাউন্সিলররা বলেছিলেন তাঁদের ওয়ার্ডে যাতে ইউসুফ যায় সেটা দেখতে। আমি সেই কথাই বলেছিলাম। উনি বলেছেন সব ওয়ার্ডেই উনি যাবেন।” আর তা যদি হয় তাহলে আগামী পাঁচ বছর বহরমপুরের রাশ যে ইউসুফ নিজে হাতে রাখতে চাইছেন তা অবশ্য বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এই পদক্ষেপও তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ইঙ্গিতেই নিয়েছেন বলেই মত তৃণমূল নেতাদের একাংশের।

আরও পড়ুনঃ আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে নাগরিক অধীরকে বাধা পুলিশের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights