সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ ভোট দেবেন বামেদের। ভোট দেবেন কাস্তে হাতুড়ি তারায়। কাজ চাই। দু-হাতে ভাতা নয়,কাজ চাই। আর সেই কাজ পেতে হলে বামেদের ভরসা দিতে হবে। তাঁদের প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। তাঁদেরকে নিয়ে যেতে হবে আইনসভায়। তাঁদেরকে সুযোগ দিতে হবে। তবেই মানুষের রুটি রুজি জোগানের রাস্তা তৈরি করতে পারা যাবে। সহজ সরল ভাষায় ভগবানগোলার মানুষদের বুঝিয়ে ভোট চাইতে রবিবার এ মাথা থেকে ও মাথা দৌড়েছেন বাম যুব সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ বহরমপুরের রাস্তায় হাঁটলেন অধীর, পাশে ‘সেনাপতি’ মনোজও
মুর্শিদাবাদ লোকসভার অন্যতম একটি বিধানসভা ভগবানগোলা। সেই ভগবানগোলাতেও এবার উপনির্বাচন হবে। তৃণমূল ও বিজেপি সেখানে প্রার্থী ঘোষণা করে দিলেও বামেরা প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে নি। একুশের সমীকরণে নির্বাচন হলে এই আসনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধেই নির্বাচন হবে। মীনাক্ষীর এদিনের প্রচার একসঙ্গে দুই লড়াইয়েরও। সংগঠনের দায়িত্ব পাওয়া ইস্তক রাজ্য সভাপতি ধ্রুবজ্যোতী সাহার জেলায় এসেছেন বারবার। যদিও হাওয়ায় ভেসেছে উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মীনাক্ষীর নাম। সে হাওয়ায় অবশ্য গা ভাসাচ্ছে না মুর্শিদাবাদের সত্যভবন।
নিজের বক্তব্যের মতোই মীনাক্ষী ভোট প্রচারেও এনেছেন আটপৌঢ়ে বাচনভঙ্গী। সেই ভঙ্গীতেই যাঁরা নির্বাচন করবেন ভগবানগোলার সেই সাধারণ মহিলাদের এদিন প্রচারে বেড়িয়ে মীনাক্ষী বলেন, ” বাড়ির ছেলেগুলোর জন্য ভোট দিতে হবে। এলকায় একটা কাজের জায়গা থাকলে ছেলেমেয়ে সবাই কাজ করে সৎ পথে মাথা উঁচু করে থাকতে পারবে। আর কাজের জায়গা যদি না থাকে তাহলে হয় বাইরে যেতে হবে। না হয় চুরি করে খেতে হবে।”
তাঁর স্পষ্ট ইঙ্গীত রাজ্যের কর্মসংস্থান না হওয়ার দিকে। যা বামেদের নির্বাচনী ইস্তেহারের অন্যতম দাবি। একইসঙ্গে রাজ্য জুড়ে দুর্নীতিতে জড়িয়ে থাকা শাসকদলের একাধিক নেতা যে ‘চুরি’র দায়ে জেলে তা নিয়েও এদিন মীনাক্ষী ঘুরিয়ে প্রচার করেছেন। ইদানিং তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইলেক্টোরাল বন্ড। যেখানে সিপিএম একটি সিকিও নেয়নি বলে ইতিমধ্যে দেশ জেনেছে। তাতেই “লাল নেতাদের ঝাঁজ বেড়েছে আরও”, বলছেন শাসকদলের ওই এলাকার স্থানীয় নেতারাই।
আরও পড়ুনঃ ইউসুফ-এর প্রচারে গিয়ে গুরুতর আহত জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি
তবে মীনাক্ষীর আবেদনে আবেগ ঝরে পড়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলাদের। তাঁর হাত দুটো টেনে তাঁকে কেউ কেউ আশ্বস্ত করেন। সেই ভিডিও ভাইরাল ভার্চুয়াল দুনিয়ায়। আবার বলালিয়া গ্রামে গিয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের নেতারা পিঠ দেখিয়ে পালাবে না এটুকু বলতে পারি। মহম্মদ সেলিম ভোটে জিতলে আপনাদের রাস্তাঘাট বাড়ি যা করার আছে সিপিএম কংগ্রেস এখানে দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করবে। ভরসা করে দেখতে পারেন।” ওই গ্রামের বাসিন্দারা মীনাক্ষীকে দেখে শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে নালিশ ঠোকেন তাঁর কাছে। তার উত্তরেই ঘুরিয়ে তাঁদের কাছে ভোট চেয়েছেন মীনাক্ষী।
যদিও এলাকার তৃণমূলের নেতাদের দাবি, ভগবানগোলার মহিলারা তৃণমূলের পক্ষেই থাকবেন। বামেদের কথার কথা দেওয়া ভদ্রতার পরিচয়। তারমানেই ভোট দেওয়া নয়।