

তুষার ভট্টাচার্য্যঃ একদা বর্গী আক্রমণে জর্জরিত হয়ে বল্লাল সেনের এক বংশধর জমিদার রাধাকৃষ্ণ সেন তাঁদের আদি নিবাস মুর্শিদাবাদের চক ইসলামপুর ত্যাগ করে বহরমপুরের খাগড়ায় আশ্রয় নেন l চক ইসলামপুরের বাড়িতে আনুমানিক চারশো বছর ধরে দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয়েছে l তারপর সেন বাড়ির পারিবারিকপুজো বহরমপুরের খাগড়ায় ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে স্থানান্তরিত করা হয় l জমিদার রাধাকৃষ্ণ সেনের বাল্য বিধবা কন্যা বিন্দুবাসিনী দেবী যতদিন জীবিত ছিলেন ততোদিন এই পারিবারিক দুর্গা পুজো খুব আড়ম্বরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হত l
প্রতি বছর রথের দিন ঠাকুর দালানে কাঠামোতে দেবীমূর্তি তৈরির জন্য খড় বাঁধা হয় এবং গঙ্গা মাটির প্রলেপ দেওয়া হয় l দেবীর বোধন এবং অধিবাসের দিন ভাগীরথী নদীতে ঘট স্নান করানো হয় প্রতিবছর l মুর্শিদাবাদ জেলার এই প্রাচীন দুর্গা পুজোয় এখনও ১০৮ টি পদ্ম, ১০৮ টি ঘিয়ের প্রদীপ, ১০৮ টি বেলপাতা নিবেদন করা হয় l এই জমিদার বাড়ির দুর্গা প্রতিমা তৈরি হয় বাংলার এক চালা সাবেকি রীতিতে l এখানে অসুরের গাত্রবর্ণ গাঢ় সবুজ এবং মহিষ নেই l সম্পূর্ণ বৈষ্ণব মতে দেবী এখানে পূজিতা হন l অষ্টমীতে আখ, চাল কুমড়ো প্রভৃতি বলি দেওয়া হয় l
সেন বাড়ির বৈষ্ণব প্রথা অনুযায়ী এই পুজোয় দেবীর উদ্দেশে কোনও অন্ন ভোগ নিবেদন করা হয় না l তার পরিবর্তে লুচি, তরকারি, শাক সহ ১৭ রকমের নৈবেদ্য দেওয়া হয় l জমিদারি প্রথা বিলোপের আগে পুজোর চারদিন প্রচুর মানুষ পাত পেড়ে প্রসাদ পেতেন lযাত্রাপালা, কবিগানের আসর বসত পুজোর দিনগুলিতে l এখন সেই জৌলুস আর নেই l কোনওমতে নিয়ম রক্ষার পুজো অনুষ্ঠিত হয় l এই প্রাচীন পারিবারিক পুজো দেখতে এখনও বহু মানুষ আসেন প্রাণের টানে l
লেখক- কবি ও সাহিত্যিক। দীর্ঘদিন ধরে কবিতা লেখেন। রাজ্যের প্রথম সারির পত্রিকাতে নিয়মিত তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয় আজও। একাধিক দৈনিকে লেখেন সময়োপযোগি প্রবন্ধ, নিবন্ধ। রৌদ্র চিঠি, মেঘ পাখি, ঘুমের শহরে, ঘুমের জন্মদিন তাঁর এযাবৎ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। ইতিহাসের প্রতি টান তাঁর সহজাত।