
বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ কেবল সনাতন ধর্মের অনুসারীরাই নিরঞ্জনের সময় প্রতিমা ছুঁতে পারবেন বলে নিদান দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তা বাছ-বিচার করবার জন্য সরকার থেকে কোনও বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে বহরমপুর কলেজ ঘাটে গিয়ে অবশ্য তা দেখা গেল না। নিদেনপক্ষে বিজেপি কিংবা আরএসএসও এ ব্যাপারে উৎসাহ দেখিয়ে কোনও স্টল দেয়নি। কিন্তু বহরমপুরবাসী যা প্রথম যা দেখলেন তা হল প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় কোনও অঘটন যাতে না ঘটে তার জন্য কড়া নিরাপত্তায় রয়েছেন সশস্ত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। কলেজ ঘাট চত্বরে নবাগত পুলিশ কনস্টবল আর জেলা পুলিশের ছোট বড় কর্তাদের সঙ্গে রয়েছে RAFও।
মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক যাদব বলেন, ” তিন কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী যা জেলায় আগে থেকেই মোতায়েন ছিল তাদেরকেই প্রতিমা বিসর্জনের সময় কাজে লাগানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ” বহরমপুর চার সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও চার সেকশন RAF এই কাজ করছে। আরও এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মজুত রয়েছে বহরমপুরের জন্য।” আর এসব দেখে প্রতিমা নিরঞ্জন দেখতে আসা মানুষজন ” ডবল ইঞ্জিন ” বলে খোঁচাও দিয়েছেন বর্তমান সরকারকে।

সপ্তমী সন্ধ্যায় চোরবাগানের দুর্ঘটনা ম্লান করেছে এ বছরের দুর্গোৎসব। একইসঙ্গে তা ভাবিয়েছে সরকারকেও। সতর্ক হওয়ার সরকারি নির্দেশ পৌঁছেছে জেলাতেও। উৎসবের বাকি দিন গুলিতে যাতে নির্বিঘ্নে উতরে দেওয়া যায় সেই লক্ষ্য নিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারাও মাঠে নেমেছিলেন। আজ বুধবার প্রতিমা নিরঞ্জনের দিন। বহরমপুর কলেজ ঘাট সহ আরও কিছু ঘাটে বিশেষ করে খাগড়া এলাকায় প্রতিমা নিরঞ্জন হয় বিকেল থেকেই। এই সময় রাস্তায় ভিড়ও হয়। সেই ভিড় উপচে পড়ে সন্ধ্যা গড়িয়ে যত রাত্রি নামে। কোনওরকম বিঘ্ন যাতে না ঘটে সেই কারণে রাস্তাতেও বহরমপুর থানার পুলিশ কোমড় বেঁধে নেমেছে। পুজোর পাঁচটা দিনেও বিকেল থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করেছে মুন্সিয়ানার সঙ্গেই। জেলা পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপাররা নিজেরাই মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন। প্রতিমা নিরঞ্জনের আগে নিজে এসে ঘাট থেকে ঘাট পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার সচীন মাক্কার। এই সব দৃশ্যের কোনওটিই নতুন নয়। নতুন যা তা ওই কালাশনিকভ হাতে জলপাই রঙের পোশাক পড়া জওয়ানদের নিরঞ্জন পর্বে জুড়ে থাকা।

প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় ঘরের মেয়ে থেকে ক্লাব কর্তা যাঁরাই এসেছেন তাঁদের কেউ কেউ এই ব্যবস্থাকে অতিরিক্ত বা লোক দেখানো বলেও সমালোচনা করেছেন। সুতীর মাঠের বাসিন্দা সৌম্য চট্টোপাধ্যায় বলেন, ” পুলিশই তো প্রতিবছর ঠিক ঠাক কাজ করে প্রতিমা দর্শন থেকে নিরঞ্জন অবধি। এবার বোধহয় চোরবাগানের ঘটনায় ভয় পেয়েছে সরকার। তাই জুড়ে দিয়েছে বিএসএফকে।” বহরমপুরের আর এক বাসিন্দা সুব্রত ঘোষ বলেন, ” সরকার বোধহয় পুলিশকে ভরসা করতে পারছে না। তাই ডবল ইঞ্জিন সরকার ডবল প্রোটেকশন দিয়েছে।” মাধবী তালুকদার বলেন, ” এ যেন চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। একাধিকবার রুট মার্চ হয় ভোটের আগে। আর ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই ভোট চুরি হয়। প্রটেকশনেরও গ্যারান্টি নেই।” বিজেপি’র এক মন্ডল সভাপতি মনোজ সাহা নিজের পাড়ার প্রতিমা নিরঞ্জন করতে এসে সব দেখেশুনে অবশ্য বলেন, ” এমন সুব্যবস্থা আগে দেখিনি।”