পরীক্ষার আগের রাতে আগমনী অনুষ্ঠান, আনন্দ বহরমপুর জুড়ে

Social Share

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ রাত পোহালেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। তার আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরকারি উদ্যোগে দুর্গাপুজো উপলক্ষে বহরমপুর বারাক স্কোয়ারে শুরু হল দু’দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যদিও পরীক্ষার্থী ছাড়া পরীক্ষা নিয়ে তেমন কোনও হুঁশ নেই কোনও স্তরেই। সবাই উৎসবমুখী।

রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য সাত দিন পিছিয়ে গিয়েছিল উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সিমেস্টারে পরীক্ষা। বুধবার চতুর্থীর দিন শেষ পরীক্ষা। এইদিন জীববিদ্যা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও Costing and Taxation (পরিচয় নির্ণয় ও কর আইন) বিষয়ের পরীক্ষা আছে সকাল এগারোটায়। পরীক্ষা শেষে উপনির্বাচন হলে পুজো চলে আসত। আবার পুজোর পরে নির্বাচন হলে সরকারি সব হিসেবও গুলিয়ে যেত। তাই পরীক্ষা পিছনো সম্ভব হলেও নির্বাচন পিছনো কোনওভাবেই মেনে নিতে পারেননি নির্বাচনে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা। তা নিয়ে চাপাস্বরে সেই সময় পরীক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলেও তেমন জোরাল আওয়াজ ওঠেনি। পরীক্ষা পিছিয়ে চলে এল দেবীপক্ষে। এই সময় জেলায় জেলায় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে সরকারি উদ্যোগে বহুমূল্যের বিনিময়ে একটি আগমনি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের দুর্গাপূজা ও দেবীর আগমন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান হচ্ছে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তত্ত্বাবধানে।

মঙ্গলবার ছিল দুদিনের সেই অনুষ্ঠানের প্রথম দিন। সেই উপলক্ষে দিন দশেক ধরেই আলোক সজ্জায় সেজেছে শহর। বহরমপুর বারাক স্কোয়ারের একটা বড় অংশ জুড়ে এলাহি আয়োজন করা হয়েছে দুর্গার আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে। স্থানীয় ও বহিরাগত শিল্পী সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে নৈবেদ্য। একদিকে ফুড স্টল অন্যদিকে হস্তশিল্পের সামগ্রী বেচাকেনার জন্য তৈরি হয়েছে বাহারি ছাউনি। সেই দিকে আঙুল তুলে মাঠে উপস্থিত সনৎ কর বলেন, ” অভিষেকের নবজোয়ার যাত্রার তাঁবুর নিচে কি ছিল দেখতে পাইনি। তবে এখানে দেখলাম কি আছে।” আর সেই অনুষ্ঠানে আসতে না পেরে বঞ্চিতই থেকে গেলেন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। সে কথা জানিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সায়ন দেবনাথ অবশ্য দাবি করেন, ” বুধবারের সন্ধ্যায় আতসবাজির অনুষ্ঠান তো দেখতে পাব।”

সে কথা মাঠে উপস্থিত এক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মা’কে বলতেই তিনি বলেন, ” এই অনুষ্ঠান এমন কিছু নয় যে ওরা বঞ্চিত হবে। আয়োজন বাহারি হলেও তেমন উপভোগ্য নয়।” ওই অভিভাবিকা শর্মীষ্ঠা দেবীর আরও দাবি “মঞ্চের কাছে যাঁরা ছিলেন তাঁরাই মনোময়ের গান শুনতে পেয়েছেন। যতগুলি স্ক্রিন লাগানো হয়েছে মাঠে ততগুলি বোধহয় মাইক লাগানো হয়নি। আমরা দূরে যাঁরা বসেছিলাম তাঁরা কিছু শুনতেই পাইনি। ফলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজনই হয়েছে কিন্তু উপভোগ্য হয়নি।” আয়োজকের পক্ষে একজন বলেন,” পরীক্ষার কথা মাথায় রেখেই আমরা আওয়াজ কম রেখেছিলাম।” এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে মাঠে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক আর অর্জুন সহ জেলাপ্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights