বিদ্যুৎ মৈত্র, মুর্শিদাবাদঃ লোকসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচার করতে সোমবার ভগবানগোলায় এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বক্তব্য চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ” আমরা মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছি। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছি।” আর তাই নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
তথ্য অনুযায়ী ২০১০ সালে মুর্শিদাবাদ জেলায় আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু হয়। সেই সময় রাজ্য সভার সাংসদ ছিলেন প্রাক্তন সিপিআইএম নেতা মইনুল হাসান। কেন্দ্রে তখন ইউপিএ সরকার। রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার তখনও রাজ্য শাসন করছে।
২০১১ সালে যখন এই ক্যাম্পাসে ম্যানেজমেন্ট ও আইনের কোর্স পড়ানো হচ্ছে তখন রাজ্যে পালাবদল হয়। ২০১৩ সালে এখানে বিএড কোর্স চালু হয়। প্রবীণ সিপিএম নেতা নৃপেন চৌধুরী বলেন, ” যে কেউ যা খুশি দাবি করতে পারেন। কিন্তু আসল ঘটনা ঠিক তার উল্টো।” তিনি বলেন, তৎকালীন সিপিএম নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ মইনুল হাসানের উদ্যোগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের তৎপরতায় জঙ্গিপুরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পথ চলা শুরু হয়।
জঙ্গিপুর লোকসভা আসনের আইএসএফ প্রার্থী শাজাহান বিশ্বাসের মঙ্গলজোনের বাড়িতে ২০১১ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পথ চলা শুরু হয়েছিল। শাজাহান বলেন “রাজ্যে তখন সিপিএম ক্ষমতায় ছিল।” তিনি বলেন, ” পরে নতুন ক্যাম্পাস তৈরি হলে তার উদ্বোধন করতে আসেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়, উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।”
বর্তমান তৃণমূল নেতা মইনুল হাসান অবশ্য বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন তখন জঙ্গিপুর রেলস্টেশনের কাছে জমি চিহ্নিত করেছিলেন তিনি। কিন্তু জমি জটে আটকে থাকায় ক্যাম্পাসের বাউন্ডারী পাঁচিল তৈরি করা যায় নি। পরে রাজ্য ক্ষমতায় এসে তৃণমূল সরকার ছাড়পত্র দিলে ক্যাম্পাস তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস তৈরির দাবিদার তৃণমূল।”
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বহরমপুরের প্রাক্তন বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী বলছেন, ” উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) যে বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টির দাবি করেন নি এই আমাদের ভাগ্যের জোর।”