ভগবানগোলার সভায় মুখ্যমন্ত্রী ছুঁয়ে গেলেন প্রয়াত সাগির হোসেনের নাম

Social Share

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ নির্বাচনী জনসভায় ইদানিং বিজেপি, সিপিএম আর কংগ্রেসকে একযোগে আক্রমণ করা প্রায় অভ্যেস করে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভ্যেস বদলালেন ভগবানগোলায় সোমবার সভা করতে এসে। শুরুতেই বললেন, “আমি যখন ছাত্র-যুব রাজনীতি করতাম প্রায়ই ভগবানগোলা, লালগোলায় আসতাম। আর ভগবানগোলা শহরটা পেরিয়ে গেলে একটা দোকান থেকে কম্পালসারি ডালের বড়া কিনতাম।”

এরপরই তিনি গল্পের ছলে প্রয়াত মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ডালবড়া কেন্দ্রীক একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন। তখনই তিনি বলেন ” আমাদের সঙ্গে সাগির দাও ছিলেন।” সাগির হোসেন।প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক। মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন। ওইদিনই ছিল ভগবানগোলা বিধানসভার নির্বাচন। তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, একুশের নির্বাচনে সাগির লড়াই করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দল তাঁকে টিকিট দেয়নি। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিজে তো বটেই। সেইসময় জেলার দায়িত্বে থাকা নেতাদের মাধ্যমেও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দরবার করেছিলেন প্রয়াত এই প্রধান শিক্ষক। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় নিজেকে ঘরবন্দি করে ফেলেছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি। দলের এই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ছিন্ন করেছিলেন দলের সঙ্গে সমস্তরকম যোগাযোগও। পরিবারের অভিযোগ, ” সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী জেলায় সভা করতে এসে একটিবারও সাগির হোসেনের নাম না নেওয়ায় গভীর অভিমান হয়েছিল তাঁর।” যদিও সন্তর্পণে মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত সাধন পান্ডের কথা বললেও বলেন নি সাগির হোসেনও প্রয়াত, ধরিয়ে দিলেন সাগিরের পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি কোন আমলে? শুরু বিতর্ক

সেবার নির্বাচনে রেকর্ড মার্জিনে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন ‘বহিরাগত’ ইদ্রিশ আলী। তিনিও প্রয়াত। তাঁর সেই আসনেই ৭ মে উপ-নির্বাচন। এবার সেখানে প্রার্থী হয়েছেন রিয়াত হোসেন সরকার।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে সেই সাগিরের নাম শুনে প্রয়াত নেতার স্ত্রী শিউলি সুলতানা বলেন, “এখন আর তাঁর নাম নিয়ে কী হবে? তৃণমূল ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সঙ্গে যা বেমাইনি করেছে তা জীবনেও ভুলব না।” সঙ্গে যোগ করেন ” নির্বাচনের আগের দিন রাত্রিতে কী অসম্ভব কষ্ট পেয়েছে না দেখলে অনুভব করতে পারবেন না। সেই যন্ত্রণা সঙ্গে করেই ২৬ তারিখ ভোর বেলা মারা যান আমার স্বামী, এই জেলায় তৃণমূলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।”

সাগির হোসেনে সঙ্গে জেলায় তৃণমূল দলের প্রতিষ্ঠা লগ্নে ছিলেন লালগোলার শুভাশিস রায়। দলে থাকলেও তিনি প্রবীণ হওয়ায় দলে ব্রাত্য বলেই তৃণমূলের একাংশের দাবি। যদিও সেকথা সরাসরি স্বীকার না করে মুখ্যমন্ত্রীর সাগির স্মরণ নিয়ে শুভাশিস বললেন “ভাল লাগল শুনে।”

সাগির হোসেন আগে কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। ফের পুরনো দলেই ফিরে যাওয়ার তাগিদ অনুভব করছেন বলে জানান শিউলি সুলতানা। তিনি বলেন, “আর কোনওদিন তৃণমূল দলের নাম নেব না আমরা। যদি সম্ভব হয় কংগ্রেসে ফিরব। দেখি লোকসভা নির্বাচনটা যাক।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights