রণক্ষেত্র ধুলিয়ান, সংঘর্ষের জেরে নিহত এক যুবক

Social Share
শুক্রবারের ছবি।

সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ সুতি, জঙ্গিপুরের পর ফের উত্তপ্ত উত্তর মুর্শিদাবাদ। ওয়াকফ আইন বাতিলের প্রতিবাদে হিংসাত্মক ঘটনার ঘটল এবার ধুলিয়ান পুরসভায়। শুক্রবারের পর শনিবার সকাল থেকে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান এলাকা। পরিস্থিতি সামলাতে শুক্রবারেই নামানো হয়েছিল বিএসএফ।

অভিযোগ সেই বিএসএফের গুলিতেই ওই পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে এক কিশোর আহত হয়। আহত হন একজন যুবকও। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের জঙ্গিপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাদের অস্ত্রোপচার হলেও বাঁচানো যায়নি আহত যুবককে। ফরক্কার বিধায়ক মণিরুল ইসলাম বলেন, ” পুলিশের ছোড়া গুলিতে এলাকার একজন নিহত হয়েছে। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।”

বিক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে পথে নেমেছেন এলাকার সাংসদ খলিলুর রহমান, বিধায়ক মণিরুল ইসলাম, বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসরা। যদিও জনপ্রতিনিধিদের কথায় গুরুত্ব দিচ্ছেন না বিক্ষোভকারীরা। শনিবার সকালে হাসপাতালে ভাঙচুর যেমন চলে, তেমনি বিধায়ক মণিরুল ইসলামকেও শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। তাঁর দাদা কাওসার আলির বাড়িতে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধরা। একের বেশি দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, ভেঙে ফেলা হয় বহু দোকান। গতকাল এলাকায় একপ্রকার তান্ডব চালিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। সরকারি বাস, অ্যাম্বুলেন্স পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের আজ আদালতে তোলা হয়।

উত্তরের জনপ্রতিনিধিরা ছাড়াও শাসকদল তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ লোকসভার সাংসদ আবু তাহের খানও এলাকার মানুষকে প্ররোচনায় পা দিতে নিষেধ করেছেন। মণিরুল বলেন, ” সব জাতিতেই কিছু খারাপ লোক থাকে। তাদেরকে সামালানো মুশকিল হয়ে যায়। তবু আমরা সকল জনপ্রতিনিধি এলাকায় আছি। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুলিশ। এলাকায় পুলিশের টহল চলছে।”

এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ি করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। পরিস্থিতি সামলাতে জেলাগুলিতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরি দুর্নীতি থেকে নজর ঘোরাতে এই কাজ করাচ্ছেন বলে দাবি সুকান্ত মজুমদারের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে ওয়াকফ সংশোধনী আইন বাস্তবায়িত হতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন। ভাঙরের বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী সে কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, ” রাজ্যের মানুষের স্বার্থে অবিলম্বে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে এই মর্মে একটি প্রস্তাব পাশ করার উদ্যোগ নিন। এই আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে মামলা করুন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights