
বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ স্বপ্নের হাত ধরে ফের নীল জলে নামতে চলেছে বিশ্বনাথ অধিকারী। বুধবার বহরমপুর থেকে রওনা হয়ে ধরবে সেই স্বপ্নের উড়ান। যা তাকে পৌঁছে দেবে দুবাইয়ের সাগর কিনারে। পিছনে পড়ে থাকবে অর্থের টানাপোড়েন, দুয়োরে দুয়োরে ঘুরে প্রত্যাখাত হওয়ার মতো সব অভিমান। আশা একটাই ফ্ল্যাট নগরীর তকমা পেতে চলা শহর বহরমপুরে সে শোনাবে সফলতার গল্প। ওড়াবে জয়ের ধব্জা, বহুতলের ছাদ পেরিয়ে আরও আরও উঁচুতে।
চলতি মাসের পাঁচ তারিখ দুবাইয়ে বসছে বিশ্ব সাঁতার প্রতিযোগিতা। যেখানে অংশ নেবে বিশ্বের ৭২ টি দেশ। ভারত থেকে একা বিশ্বনাথই। একদিন গান্ধী কলোনির ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল যে ছেলেটা, সেই বিশ্বনাথ। ভাগীরথীর বুকে ৮১ কিলোমিটার সাঁতরে যে ছেলেটা ভাবিয়েছিল শহরবাসীকে, সেই ছেলেটা কিন্তু ভাবেনি অর্থের প্রয়োজনে পিছিয়ে আসবে তাঁর সেই ছেলেবেলার শহর।
বিশ্বনাথ একটি বেসরকারি স্কুলের সাঁতার প্রশিক্ষক। বহরমপুর সুইমিং পুলের প্রাক্তন ছাত্র বিশ্বনাথ সেখানেও ছোটদের সাঁতার শেখায়। এই বছরই মাস তিনেক আগে মিশরের এক সমুদ্রে সাঁতরে নিজেকে প্রমাণ দিয়েছিল সে প্রথম হয়ে। নাম লেখাতে চায় ব্রজেন দাস, মিহির সেন, আরতি সাহা, বুলা চৌধুরীদের সরণীতে। একটু একটু করে সমুদ্র সাঁতরে নিজেকে আটলান্টিক মহাসাগরের কিনারে নিয়ে যেতে চায় সে। তাই পরিবেশের উপযুক্ত হয়ে উঠতে তার আজ মিশর, কাল দুবাইয়ের মতো দেশ বিদেশের সমুদ্র সফর।
গত সেপ্টেম্বরে শহরের কেউ কেউ তাঁকে অর্থ সাহায্য করে এগিয়ে দিয়েছিলেন মিশরের দিকে। এবারও এগিয়ে এসেছেন সেই চিকিৎসক জয়দীপ গঙ্গোপাধ্যায়। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সেবা ফাউন্ডেশন, ছত্রপতি শিবাজী ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট আর বিশ্বনাথের ক্লাব বহরমপুর সুইমিং পুল। যদিও তা সহজ ছিল না। একদিকে বিপুল অর্থের প্রয়োজন অন্যদিকে হাতছাড়া হতে বসা স্বপ্ন। দুইয়ের জাঁতাকলে পিষতে পিষতে একটা সময় উঠে দাঁড়িয়ে এগিয়ে যায় ব্যঙ্কের দরজায়। মেলে ঋণ। বিশ্বনাথের আত্মোপলব্ধি “স্বপ্ন দেখা সহজ, কঠিন তার রূপায়ন।” বলেন, ” এই সাহায্যের কোনও ধন্যবাদ হয় না। আমি কৃতজ্ঞ। আশা করি মিশরের মতো দুবাইও আমাকে খালি হাতে ফেরাবে না।”
দারুন দারুন খুব সুন্দরভাবে লিখেছেন আবারো তোমার কাছে অনেক কৃতজ্ঞ রইলাম দাদাভাই ⚡🤘🏼♥️
Best wishes for you sir I am Md Abdul Aziz from Mount Litera Zee school.
অনেক অনেক ভালোবাসা স্যার
আমি মাউন্ট লিটেরা জি স্কুল বহরমপুর এর ক্লাস V এর আফরিন রোজা।
অনেক ভালো থাকেন