সংবাদ প্রতিনিধি, মুর্শিদাবাদঃ রাজভবন যাওয়ার আগে মুর্শিদাবাদে সামনে এল তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের বহরমপুর ইউনিটের সভাপতি দিলীপ সিংহরায়ের বিরুদ্ধে হওয়া দশ বছর আগের একটি মামলা। সেই “কেচ্ছা” নিয়ে সরব দলের একাংশ, বিঁধল বিজেপিও।
শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত রাজ্যপালের পদত্যাগের দাবিতে সরব তৃণমূল। শুক্রবার রাজভবন অভিযান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। কিন্তু শিক্ষকদের নিজের নেতার “কেচ্ছা” থাকায় ওই কর্মসূচি থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন তৃণমূলেরই একাংশ শিক্ষক।
দেখুনঃ ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে কেনাবেচা
তাঁদের অভিযোগ, জেলায় যাঁর নেতৃত্বে শিক্ষকরা রাজ্যপালের ‘কুরুচি’র প্রতিবাদ করতে পথে নামছেন, সেই সভাপতি দিলীপ সিংহরায় শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত। সূত্রের দাবি, দৌলতাবাদ হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক দিলীপের নামে ২০১৪ সালে দৌলতাবাদ থানায় মামলা করেন ফরাক্কার এক শিক্ষিকা। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। সম্প্রতি তার শুনানি রয়েছে আদালতে। আর তাই ওই নেতার সঙ্গে পথে নামতে রুচিতে বাঁধছে সেলের একাংশ শিক্ষকদের। তাঁরা আলাদাভাবে রাজভবন যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত চলতি বছর ১৫ মার্চ দিলীপকে মুর্শিদাবাদ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি করা হয়। তারপর থেকেই দলের একাংশ শিক্ষক ‘নানান অভিযোগে অভিযুক্ত’ তাঁদের নেতার বিরোধিতা করছেন বলে খবর তৃণমূলের অন্দরে। তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলা সংগঠনের প্রথম সারির এক নেতা বলেন, “এঁদের মতো মানুষজন দলের নেতৃত্বে থেকে দলকে মানুষজনের কাছে ছোট করছে। রাজ্য নেতাদের সঙ্গে শলা-পরামর্শ করে পদ পাচ্ছে। এগুলো ভেবে দেখবার সময় এসেছে।” শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর ঘনিষ্ঠ দিলীপ একসময় দলের নেতাদের সমালোচনায় সরব ছিলেন ফেসবুকে।
আরও পড়ুনঃ সাংসদ পেয়ে গিয়েছেন বীরভূমবাসী
যদিও দিলীপের দাবি, “রাজনৈতিকভাবে আমার বিরুদ্ধে কখনও কংগ্রেস, কখনও সিপিএম, কখনও তৃণমূলের একাংশও নানান অভিযোগ করেছে। একাধিক সাজানো মামলা হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, “দলের একাংশ নেতা শিক্ষা সেলকে ব্যবহার করে করেকম্মে খেত। রাজ্য নেতৃত্বও অনেক ভেবেচিন্তে দেখেছেন। তাদের সরিয়ে তাই আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই হিংসা থেকে এই জাতীয় কথা বলছেন।”
দাবি করেন, “এরা হতাশায় ভুগছে। এরা শিক্ষক সম্মেলনে যায়নি। লোকসভা নির্বাচনের এতগুলো পথসভা হল বহরমপুরে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে, সেখানে তাঁরা পথে নামেননি। তাঁরাই এই জাতীয় অভিযোগ করছেন।” তবে মামলার ব্যপারে এই শিক্ষক নেতা বলেন, “কোথায় কোন মামলার শুনানি আছে তা আমার উকিল বলতে পারবেন।”
বিজেপি’র শিক্ষক সংগঠনের নেতা সুব্রত দাস বলেন, “এরা নির্লজ্জ বলেই রাজ্যপালের মতো সাংবিধানিক পদাধিকারীর বিরুদ্ধে পথে নামছে।” তিনি আরও বলেন, ” এই দিলীপ সিংহরায় ২০১৪ সালে জেলা থেকে পালিয়ে গিয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে থানায় শ্লীলতাহানির অভিযোগ হওয়ায়। পরে জলপাইগুড়িতে বদলি হয়। অবসরের আগে আবার মুকুল রায়কে ধরে চালতিয়া শ্রীগুরু পাঠশালায় বদলি হয়ে জেলায় আসে। এরা করছে রাজ্যপালের শ্লীলতাহানির মতো সাজানো ঘটনার প্রতিবাদ। তৃণমূলের আগে দিলীপ যখন কংগ্রেসে ছিল সেই সময় আর্থিক নয়ছয় করেছিল। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করেছিল। তারাই এখন তৃণমূলে রাজ করছে।”