বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুর: সেলিম নিজে এলেন না ভিড়িয়ে দিলেন দলের যুবনেত্রীকে। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এলেন, তখন শোভাযাত্রা শেষ করে মনোনয়ন জমা দিতে চলে গিয়েছেন অধীর চৌধুরী। মনোজ চক্রবর্তী তো ছিলেনই, সঙ্গে ছিলেন সিপিআইএমের আর এক যুবনেতা ধ্রুবজ্যোতি সাহা। জেলা প্রশাসনিক ভবনেই অধীরের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন মীনাক্ষী। প্রবীণ অধীরও হেসে গ্রহণ করলেন সেই শুভেচ্ছা।
নানা কারণে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুরের প্রতি নজর রয়েছে দেশের। না জানি কী হয় কী হয়। বঙ্গে কেন গোটা দেশে ইন্ডিয়া জোট, এনডিএ জোটের বিকল্প হতে পেরেছে কি না তা তর্কাতিত। কিন্তু বহরমপুরে বাম-কংগ্রেস যে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে তা মানতে দ্বিধা নেই পোড় খাওয়া রাজনীতিকদেরও। মহম্মদ সেলিমের মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরে অধীর চৌধুরীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর্বেও দেখা গেল এক ছবি। এদিন মিছিল জুড়ে কংগ্রেসের হাত মুড়ে ছিল সিপিএমের লাল পতাকা।

দেখুন অধীর চৌধুরীর মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার মিছিল
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহ: সেলিম যেদিন মনোনয়ন জমা দিতে গিয়েছিলেন সেদিন তাঁকে সঙ্গ দিয়েছিলেন অধীর। সেখানে সিপিআইএমের উত্তরীয় পড়েছিলেন তিনি। যা নিয়ে বিতর্ক কম হয় নি। এদিন পাল্টা সেলিমকে দেখতে চেয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু সেলিম বললেন,”আমি করিমপুরে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত আছি। আমাদের দলের পক্ষ থেকে মীনাক্ষী, ধ্রুবরা ছিল।”
এদিন অধীরের মনোনয়ন জমা দেওয়ার মিছিলে লাল নিশান সিপিআইএম উড়িয়েছিল ঠিকই তবে দলের জেলা সম্পাদক ও হাজির ছিলেন না সেই মিছিলে। সেখানেও ছিল জেলার দায়িত্বে থাকা বাম যুবরা।
আসলে মীনাক্ষী, ধ্রুব, সন্দীপনদের ভিড়ে ভিড়িয়ে কৌশলে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে দায়িত্ববান নেতা হিসেবেও তাঁদের তুলে ধরলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। বুড়োদের দলের তকমা ছেড়ে যুবদের দল হয়ে উঠবার এও এক নয়া কৌশল নিয়েছে সিপিএম ধারণা পর্যবেক্ষকদের।