সংবাদ হাজারদুয়ারি ওয়েবডেস্কঃ আরজিকর হাসপাতালে চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে কলকাতার রাজপথে নামল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। নেতৃত্বে সেই অধীর চৌধুরী। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও যাঁকে কিছুদিন আগে সর্বভারতীয় নেতৃত্ব তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীর ‘প্রাক্তন’ তকমা দিয়েছিলেন। যা নিয়ে প্রকাশ্যে ‘মনের যন্ত্রণা’র কথা অধীর শেয়ার করেছিলেন সংবাদ মাধ্যমে। সেই অধীর চৌধুরী প্রদেশ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বুধবার রাজভবনেও গেলেন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে, পুরনো চেনা ভঙ্গীতেই। শুধু তাইই নয়। মেটিয়াবুরুজে দলের যোগদান কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন এদিন। ২০২১ সালে কলকাতা পুরভোটে নির্দল প্রার্থী হয়ে ১৪১ নম্বরে ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছিলেন পুর্বাশা নস্কর। সেই পুর্বাশা এদিন অধীরের হাত ধরেই কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।

দিন কয়েক আগে রাহুল গান্ধী অধীরকে ডেকেছিলেন। পোড়খাওয়া অধীরকে কংগ্রেসের অধিনায়ক পদ থেকে সরিয়ে দিলে বাংলার শাসক তৃণমূলের সুবিধা। ইন্ডিয়া ব্লকে তৃণমূল বেগড়া দেবে না। কিন্তু তৃণমূল বিরোধী অধীর বাংলার নেতৃত্বে থাকলে তৃণমূল, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ঘোট পাকাতে পারে ব্লকের অন্য সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে। এই বার্তাই দেওয়া হয়েছিল সর্বভারতীয় নেতৃত্বের কানে। শুনেছিলেন রাহুলও। তবুও বর্ষীয়ান নেতা তথা পাঁচ বারের সাংসদকে একান্তে ডেকে রাহুল বলেছিলেন “বাংলার আনাচে কানাচে তোমাকেই নজর দিতে হবে।”
অধীর বুঝেছিলেন ইঙ্গীত। ডাক পেয়েছিলেন সব রাজ্যের সভাপতিদের সঙ্গে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় বৈঠকে। তারমধ্যেই কলকাতায় নারকীয় হত্যার ঘটনা ঘটে গিয়েছে। দেরি না করে কলকাতায় ফিরেই বুধবার রাজপথের দখল নিয়েছে অধীরের নেতৃত্বে কংগ্রেস। যদিও অধীরের দাবিমতো মল্লিকার্জুন খড়গে সভাপতি হওয়ার পর বাংলায় নতুন কোনও প্রদেশ সভাপতির নাম ঘোষণা করেনি এআইসিসি নেতৃত্ব। সেই হিসেবে অধীর এখনও রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিই। এখনও তাঁকে প্রাক্তন করেননি রাহুল গান্ধীরা।
আরজিকর কান্ডে সিবিআই তদন্তে রাজ্য পুলিশ সর্বতোভাবে সহযোগিতা করবে না বলে মনে করেন। বিধান ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এদিন তিনি বলেন, ” সারদা কান্ডে নাকানিচোবানি খেয়েছে সিবিআই, দিদির পুলিশের সৌজন্যে। এক্ষেত্রেও নিচুস্তরের পুলিশ সিবিআইকে সহযোগিতা করবে না। এই নিয়ে সঠিক তদন্ত হওয়া নিয়ে আমার আশঙ্কা আছে। তা যদি না হয় তাহলে এখানকার পুলিশ গরু গাধা নয় যে মৃতদেহ দেখতে বুঝবে না সেটা হত্যা না আত্মহত্যা। এখানকার পুলিশ প্রথম থেকেই ঘটনাকে লঘু করবার চেষ্টা করেছে।”